আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১০০টির বেশি গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিচার আজ মঙ্গলবার থেকে কারাগারে রেখে করা হবে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জেরা করার কথা রয়েছে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন প্যানেলে এ বিচারকাজ চলবে। মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনজীবীদের একটি দল লড়বে। এই দলে রয়েছেন শহিদুর রহমান ও নাজনীন নাহার।
ট্রাইব্যুনাল গত ৮ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ শেষ করে। জবানবন্দির তৃতীয় দিনে তিনি সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগ আনেন। এর মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে লোকদেখানো প্রশাসনিক তদন্ত পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালকে জানান, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক তদন্ত ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন করতে কর্মকর্তাদের দিয়ে ময়নাতদন্ত ও পুলিশের প্রতিবেদনে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালকে জানান, এসব তদন্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া।
জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল রফিকুল ইসলামকে জেরার জন্য আজ দিন ধার্য করেন। এ মামলায় রফিকুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের ১৫তম সাক্ষী। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তার জবানবন্দি শুরু হয়।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল ১৪তম সাক্ষী কামরুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। একই দিনে মামলার ১৩তম সাক্ষী র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানকে জেরা শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষ সাব্বির রহমানকে এ মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছে।
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নেন। একই দিন রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে।
গত ২৩ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।