প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর ব্যয় বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার কয়েক দশকের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ওলটপালট হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব থেকে কানাডার শিল্পপ্রধান অঞ্চল অন্টারিওর উৎপাদন খাতকে সুরক্ষা দিতে স্থানীয় সময় বুধবার কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা ঘোষণার সময় তিনি এ কথা বলেন।
কার্নি আরও জানান, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার ‘বেশ কিছুক্ষণ’ কথা হয়েছে। এদিকে আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে কানাডার রাজনীতিকেরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছে কানাডায় নিয়োজিত দেশটির দূতাবাস। মার্ক কার্নি ও অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বার্তা সংস্থা এপির বরাতে বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
কার্নি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কয়েক দশক ধরে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সমঝোতাকে ওলটপালট করে দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে অন্টারিওর শ্রমিকদের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় অসুবিধার মুখে পড়েছে এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।”
কার্নি বলেন, উত্তর আমেরিকার সমন্বিত অটোমোবাইল শিল্প উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ওয়াশিংটনের কাছে বিষয়টি হয়তো আর অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, “তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। আমাদেরও তাই বদলাতে হবে।”
এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি চান গাড়ি নির্মাতারা কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সরিয়ে নিক। কয়েক দশক ধরে দুই দেশের মধ্যে গভীরভাবে সমন্বিত অটোমোবাইল শিল্পের জন্য এটি বড় হুমকি।
কার্নি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় ইরান, মধ্যপ্রাচ্য ও বাণিজ্যসংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে। এর কয়েক দিন আগে ইউক্রেন নিয়েও তাদের আলোচনা হয়েছিল। আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। তবে বলেন, আলোচনা চালিয়ে যেতে কানাডা প্রস্তুত।
সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছালেও গত আগস্টে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ে। এরপর ট্রাম্প কানাডার প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। জবাবে পাল্টা শুল্ক আরোপ করে কানাডাও।
কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রতিক্রিয়াতেই কানাডা পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার গাড়ি রপ্তানি ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। অন্যদিকে কানাডায় যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি কমেছে ২০ শতাংশের বেশি।
তিনি বলেন, “শুল্ক আমাদের দুই দেশের শিল্পকে দুর্বল করে এবং আমাদের পরিবারগুলোর পছন্দের সুযোগ কমিয়ে দেয়।”
কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আর আগের অবস্থায় ফিরবে না: প্রিমিয়ার ফোর্ড
অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড বলেন, “এটা স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক স্থায়ীভাবে বদলে গেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে যা-ই ঘটুক, হোয়াইট হাউসে যিনিই থাকুন না কেন, আমরা আর আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছি না।”
অন্যদিকে ডাগ ফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কোনো আগ্রহ থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার বারবার দেওয়া হুমকিতে কানাডায় জাতীয়তাবাদী মনোভাব বেড়েছে। কানাডার যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা কমানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন কার্নি। আগামী এক দশকে অন্য বাজারে রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছেন তিনি।