বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে অগ্রাধিকারভিত্তিক যৌথ প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ঢাকা-জাকার্তার মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলের সম্ভাবনা যাচাইয়ের প্রস্তাবও দিয়েছে দেশটি।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা এসব প্রস্তাব দেন। বৈঠকে বাংলাদেশও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরে।
বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা পুনর্বহাল, বাংলাদেশ থেকে আরও ওষুধ আমদানি, জি-টু-জি ব্যবস্থায় পাটের ব্যাগ সংগ্রহ, বাংলাদেশি আলুর জন্য ইন্দোনেশিয়ার বাজার উন্মুক্ত করা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়াও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কনস্যুলার সহযোগিতাসহ আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
বিশ্বের বৃহত্তম হালাল খাদ্য ভোক্তা বাজার হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থানের কথা তুলে ধরে দুই দেশের মধ্যে হালাল সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ককে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (সিইপিএ) দিকে উন্নীত করার আহ্বান জানান তিনি।
আনিস মাত্তা বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বের লক্ষ্য অর্জনে আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে অগ্রাধিকারভিত্তিক যৌথ প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তাবের পাশাপাশি ঢাকা-জাকার্তার মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলের সম্ভাবনা যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ, রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপের (আরসিইপি) সদস্যপদ এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সমর্থন চায়। আনিস মাত্তা এসব বিষয়ে সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
হুমায়ুন কবিরের আমন্ত্রণে আনিস মাত্তা ৫ থেকে ৯ অক্টোবর সরকারি সফরে বাংলাদেশে রয়েছেন।