পেশায় ব্যবসায়ী। পেরুর উয়ানুকো অঞ্চলের কেরোপালকার মেয়র নির্বাচনে নেমেছেন বামপন্থী দল আহোরা নাসিওন পার্টির হয়ে। নির্বাচনে জিতেও গেছেন।
তবে পেরুভিয়ান আন্দেসের দূরবর্তী কোনো এক অঞ্চলের মেয়র নির্বাচনে কে জিতলেন, সেটা তো এমনিতে আলোচিত হওয়ার মতো কোনো ব্যাপার নয়। এই ভদ্রলোকের নির্বাচিত হওয়ার খবর আলোচনায় আসছে তার নামের কারণে। চার শব্দের নামের মধ্যে দুটি শব্দ যে ইউরোপের সবচেয়ে কুখ্যাত দুই স্বৈরশাসকের–অ্যাডলফ হিটলার ও বেনিতো মুসোলিনি!
পুরো নাম হিটলার মুসোলিনি সিমেওন ফ্লোরেস। ৪৫ বছর বয়সী এই ভদ্রলোক পেশায় ব্যবসায়ী। গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৬৬৩ ভোটের মধ্যে ২২৯টি ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। নির্বাচনে হিটলার-মুসোলিনির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন চরম ডানপন্থী প্রার্থী গাসপার ওসোরিও, তিনি পেয়েছেন ২০৪ ভোট।
দুই স্বৈরশাসকের সাক্ষাৎ! ইতালির ফ্লোরেন্সে ১৯৪০ সালে সাক্ষাৎ হয় বেনিতো মুসোলিনি ও অ্যাডলফ হিটলারের। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া।
তবে এখন বামপন্থী দলের হয়ে নির্বাচন করলেও হিটলার-মুসোলিনি একসময় ডানপন্থী দল পপুলার ফোর্সের সদস্য ছিলেন। পেরুর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরিও এই পপুলার ফোর্স পার্টির সদস্য।
সাম্প্রতিক ইতিহাস দেখলে পেরুর ভোটের রাজনীতিতে অবশ্য হিটলার নামটাকে বেশ প্রার্থিত বলেই মনে হবে। হিটলার-মুসোলিনিই প্রথম নন, এর আগে ২০২১ সালে মধ্যপন্থী দল সোমোস পেরুর হয়ে সংসদ নির্বাচনে জিতেছে ডাক্তার হিটলার সাভেন্দ্রা কাস্তেরনোক নামের একজন।
তারও আগে, ২০১৮ সালে, হিটলার আলবা সানচেস নামে একজন ইউঙ্গার নামের আন্দিয়ান এক জেলার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিজেকে ‘ভালো হিটলার’ বলেও দাবি করেছিলেন আলবা সানচেস।