ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে আজ রোববার আশুলিয়া ও গাজীপুরের প্রায় ১৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, শ্রমিকেরা মজুরি ও ভাতা বাড়ানো এবং কালো তালিকাভুক্তির প্রথা বন্ধের দাবিতে সড়কে নামেন।
রাজধানীর মিরপুরে আজ সকাল ৯টার দিকে পোশাকশ্রমিকরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পুলিশের চার থেকে পাঁচজন সদস্য রয়েছেন। এতে আশপাশের কয়েকটি সংযোগ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এছাড়া, কয়েক শ শ্রমিক মিরপুর-১১ থেকে আগারগাঁও এবং মিরপুর-২ থেকে মিরপুর-১৩ নম্বর সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় পুরবী সিনেমা হলের কাছে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (মিরপুর বিভাগ) উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, “সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ থেকে ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। দুপুরের পর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।”
এর বাইরে সাভার ও গাজীপুরেও পোশাক শ্রমিকরা রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করেছেন। গাজীপুরে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা সড়কে কাঠের গুঁড়ি ও টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন। বিক্ষোভের সময় পুলিশের গাড়িসহ অন্তত ১৫টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় গাজীপুরের শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিশেষ করে কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন বলেন, “অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকার শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।”
এদিকে, আশুলিয়ার নরসিংহপুর, জিরানী, বারিপাড়া, শ্রীপুর ও বাইপাইল এলাকায় প্রায় ৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, “গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁদের মোতায়েন থাকার কথা রয়েছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা অবরোধের পর দুপুরে মহাসড়কে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।”