মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইন। এ হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।
সৌদির দাবি, মদিনার তায়বা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
ওআইসি এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদার প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। সেই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে দেশটির ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং ইসলামি পবিত্র স্থান ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সংস্থাটি।
জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক বিবৃতিতে একে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
কুয়েত ও বাহরাইনও এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। পৃথক বিবৃতিতে হুতিদের হামলার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে এবং সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এর আগে বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, মদিনার বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, হামলাটি ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে ঘটে।
তার দাবি, হামলায় একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনো প্রভাব পড়েনি। তদন্তের ফলাফল, অভিযানসংক্রান্ত তথ্য এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষার ভিত্তিতে হুতিদের হামলা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে। জোটের দাবি ছিল, ড্রোনটি শহরের নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়।