
বুধবার জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে আবারও হামলা চালিয়েছে ইরান। এর ফলে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে।

তেহরান জানিয়েছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান।

কুয়েত ও বাহরাইন—দুই দেশই ইরানের এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তবে হামলায় কী বা কোথায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

করোনা অতিমারির সময় ছুটিতে দেশে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের ৫৫৭ সাবেক সেনা সদস্য। তারা আর ফেতর যেতে পারেননি। কুয়েতে চাকরিতে পুনর্বহাল ও পুনর্বাসনের দাবিতে ২২ জুন (২০২৬) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ভিডিও: তারিক সজীব

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, কুয়েত ও বাহরাইনে ছোড়া ৭টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৬টি ভূপাতিত করা হয়েছে। সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্রটি তার নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।

দক্ষিণ লেবানন, উত্তর ইসরায়েল, গাজা কিংবা কুয়েত- মানচিত্রের নামগুলো ভিন্ন হলেও চলতি সপ্তাহে তাদের ভাগ্যটা একই সুতোয় গাঁথা ছিল। আর তা হলো আকাশ থেকে ধেয়ে আসা অবিরাম বোমাবর্ষণ আর সাইরেনের আর্তনাদ। অথচ কাগজে-কলমে এই প্রতিটি অঞ্চলেই আমেরিকার মধ্যস্থতায় তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকার কথা!

হরমুজ প্রণালিতে আমেরিকা ও ইরানের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনার পর কুয়েত-বাহরাইনে হামলা চালিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টাকম) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

কুয়েতের সরকারি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। যেসব ফ্লাইট কুয়েতে অবতরণের কথা ছিল, সেগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপে ইরানের একটি সামরিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে তেহরান।

ইরানের বন্দর আব্বাসে মার্কিন নৌবাহিনীর বোমা বর্ষণের জবাবে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি)।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বদর আল-কাত্তান জানান, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত পথচারী পারাপারের নির্ধারিত লেন ব্যবহার না করে রাস্তা পার হওয়ায় ৮ হাজার ৯৩৮টি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের নোটিশ জারি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু করা হবে।

শেখ আহমদ প্রস্থান ও আগমন হল, কাস্টমস চেকপয়েন্ট এবং অন্য স্থাপনা পরিদর্শন করেন। তিনি বিমান চলাচলকে সহায়তা করার জন্য অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের মধ্যে পূর্ণ সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ মে থেকে শুরু করে দুই মাসের জন্য কর্মীদের নিজ নিজ খাতের বাইরে স্থানান্তর করা যাবে। তবে, মূল নিয়োগকর্তাদের অনুমতি ছাড়া এই স্থানান্তর করা যাবে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই সিদ্ধান্তের সুবিধা নিতে কোম্পানিগুলো ‘আশাল’ করপোরেট অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে। আজ সোমবার কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগার লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে কুয়েতি কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার পবিত্র মসজিদুল হারামে ঈদের জামাত আদায়ের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে শুক্রবার ঈদ উদযাপিত হলেও মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় ঈদ শুরু হবে শনিবার।

হেনরি কিসিঞ্জার একবার বলেছিলেন, “আমেরিকার শত্রু হওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু বন্ধু হওয়া সর্বনাশ।” বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি কি সেই সত্যকেই বারবার প্রমাণ করছে? ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের এই আবহে কেন সৌদি আরব বা কুয়েতের মতো দেশগুলো এখন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে দ্বিধায়?