জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, জীবিকার সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সংলাপে তাদের কার্যকর প্রতিনিধিত্বের দাবিতে একটি জাতীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার ঢাকায় ‘ন্যাশনাল অ্যালাইয়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশ’ (এনএজেটিবি), ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ (এমজেএফ) এবং ‘বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন’ (বিএলএফ)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘কপ-৩১ সামনে রেখে শ্রম অধিকার নিশ্চিতের দাবি’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে আটটি আলোচ্য ক্ষেত্রের আওতায় শ্রমিকদের ২৩টি দাবি সংবলিত একটি সনদ উপস্থাপন করা হয়।
এনএজেটিবির নির্বাহী সমন্বয়কারী ও বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থনীতি সচল রাখলেও জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব বহন করতে হচ্ছে শ্রমিকদের। তিনি ঋণ বা দানের বদলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির ভিত্তিতে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও নীতিনির্ধারণে শ্রমিকদের কার্যকর অংশগ্রহণের দাবি জানান।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম জানান, দেশের ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক তীব্র তাপপ্রবাহ, বাস্তুচ্যুতি ও চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিনি অবৈতনিক সেবাকাজ ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত নারী শ্রমিকদের বিশেষ সুরক্ষাসহ কপ-৩১ এর বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে অন্তত একজন নারী শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
বিএলএফ-এর নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে রূপান্তরের সময় শ্রমিকেরা অধিকার হারালে তা টেকসই হবে না।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে জানান, ২০২৪ সালে তাপজনিত অসুস্থতায় বাংলাদেশে প্রায় ২৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। এনএজেটিবির প্রধান সমন্বয়কারী আনোয়ার হোসেন সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন এবং শাকিল আখতার চৌধুরী ২৩টি দাবি তুলে ধরেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম দাবিগুলোকে সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে জলবায়ু নীতি ও কপ-৩১ এর অবস্থানপত্রে অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস দেন। তিনি জানান, সরকার আগামী তিন মাসে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট (ঢাকায় ২৯৬ মেগাওয়াটসহ) বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।