কোনো নিয়মই মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে না বলে জানিয়েছে খুলনার ৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায় আজ মঙ্গলবার খুলনা প্রেস ক্লাব ব্যাঙ্কুয়েট হলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক পরিসরে নারী ও তরুণের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আজিজুল বারী হেলাল বলেন, “মানুষ স্বাধীনভাবে জন্মগ্রহণ করলেও সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা নিয়মের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। তবে কোনো নিয়মই মানুষের বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে না। কারও বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হলেও তার কথা বলার অধিকার রক্ষা করাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিচয়।”
আজিজুল বারী হেলাল তরুণদের কেবল মিছিলকারী বা ভোটার হিসেবে না দেখে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, “বয়সের অজুহাতে তরুণদের দাবিয়ে না রেখে রাজনৈতিক দল ও সংগঠনে তাঁদের উপযুক্ত সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
খুলনা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল তার বক্তৃতায় স্বীকার করেন যে পর্যাপ্ত নারী প্রার্থী গড়ে তুলতে না পারা তাঁদের রাজনৈতিক দুর্বলতা। তিনি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নারী ও তরুণদের যোগ্য করে তোলার ওপর জোর দেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. নাসির উদ্দিন ধর্মীয় মূল্যবোধ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণ ও নারীদের সম্পৃক্ত করার কথা বলেন।
সিপিবি নেতা অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে পরমতসহিষ্ণুতা ও দায়িত্বশীল আচরণ চর্চার আহ্বান জানান। বিএনপি নেতা শফিকুল আলম তুহিন দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তরুণদের জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচিতে যুক্ত করার কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে এনসিপি সংগঠক ডা. আবদুল্লাহ চৌধুরী জেন-জিদের ভাষা ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে মুক্ত আলোচনার সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় সিজিএস প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মতপার্থক্য সত্ত্বেও সংলাপ অব্যাহত রাখা। আন্দোলনের পর ব্যাপক প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবতা হতাশাজনক। কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হলেই গণতন্ত্র নিশ্চিত হয় না; রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। নারী ও তরুণদের প্রতিনিধিত্ব প্রতীকী না করে আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।