দেশে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে এই ব্যবস্থায় দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা সাড়ে তিন গুণের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ।
আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানান।
আরিফ হোসেন খান বলেন, “বর্তমানে দেশের ব্যাংক ও এমএফএস গ্রাহকেরা প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের কাছে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন। চলতি বছরের জুনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর লেনদেন হতো। এসব লেনদেনের মোট মূল্য ছিল প্রায় ২৮ কোটি টাকা। তবে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বাংলা কিউআর লেনদেন হচ্ছে। অর্থমূল্যের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হচ্ছে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ, গত ১ জুলাই থেকে ৯০ দিনের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে তিন গুণ এবং অর্থমূল্য বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ।”
বাংলা কিউআর ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াতে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের প্রোপ্রাইটারি কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি লেনদেনের গতি, প্রচার ও খরচ কমানোর বিষয়েও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করা পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে। একই সঙ্গে একুয়ারিং প্রতিষ্ঠানের সর্বনিম্ন মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর ১ শতাংশের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রেভিনিউ ফি বা আইআরএফও শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মার্চেন্টদের জন্য বাংলা কিউআর ব্যবহারের খরচ কমবে।
ছোট মার্চেন্টদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ১ অক্টোবর থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনে প্রণোদনা দেওয়া হবে। ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ বা এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের আওতায় হওয়া এসব লেনদেনের জন্য একুয়ারিং ও ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংক এই প্রণোদনা দেবে।
এ ছাড়া আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরে পারসন টু পারসন বা পিটুপি লেনদেন চালু হচ্ছে। এর ফলে গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে একে অন্যের কাছে সরাসরি ইন্টারঅপারেবল ফান্ড ট্রান্সফার করতে পারবেন।
গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে লেনদেন ব্যর্থ হলে দ্রুত রিফান্ড এবং ডিসপুট দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি এসক্রো গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।