মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকোবের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য প্রকাশ না করার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হওয়া সাবেক মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে তিনি তৃতীয়।
ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মাত্র ১৫ মাসের কিছু বেশি সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল। তার বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি মুদ্রা, সোনার বার ও রুপাসহ বিভিন্ন সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইসমাইল সাবরির আইনজীবী আমের হামজা আরশাদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মূলত নির্দিষ্ট কিছু সম্পদের ঘোষণা দিতে দেওয়া নোটিশ মেনে না চলার অভিযোগই তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা অভিযোগটি পর্যালোচনা করব। আদালতকে যেমনটি জানিয়েছি, অভিযোগটির যথার্থতা ও আইনগত বৈধতা নিয়ে আমাদের কিছু উদ্বেগ রয়েছে। তবে এখানে আমরা বিস্তারিত জানাতে চাই না।”
আজ বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি নিম্ন আদালতে ইসমাইল সাবরি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। পরে ৩ লাখ রিঙ্গিত (৭৪ হাজার ৫৩৪ ডলার) জামিনে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ রিঙ্গিত জরিমানা হতে পারে।
মালয়েশিয়ার দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা গত বছরের মার্চে জানিয়েছিল, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে সম্পদের ঘোষণা দিতে নির্দেশ দেওয়ার পর ইসমাইল সাবরি তার সম্পদের বিবরণ জমা দিয়েছিলেন। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ থাকা প্রায় ৪ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করার পর এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংস্থাটি সে সময় জানায়, তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন মুদ্রায় মোট ১৭ কোটি রিঙ্গিত নগদ অর্থ এবং ১৬ কেজি সোনার বার জব্দ করা হয়েছিল।
আইন বিষয়ে প্রশিক্ষিত ইসমাইল সাবরি রাজনীতিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনজন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে তিনি আইনপ্রণেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তার দায়িত্বের মধ্যে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন, কৃষি এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও ছিল।