রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের জন্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক আবাসন প্রকল্পে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে চীন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে একবারে পুরো অর্থ বিনিয়োগ সম্ভব না হলেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অর্থায়নের আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। খবর বার্তা সংস্থা ইউএনবির।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘বস্তি এলাকায় আধুনিক আবাসন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে চীনের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। চীন ওই প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’’
মীর শাহে আলম বলেন, “তারা (চীন) জানিয়েছে, পুরো অর্থ একবারে বিনিয়োগ করতে না পারলেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে তারা এখানে বিনিয়োগ করবে।”
বৈঠকে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্পে চীনের একটি কোম্পানি কাজ করছে।
প্রকল্পটি চালু হলে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প থেকে প্রায় ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এবং আগামী ১৮ মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী ২ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে বিনিয়োগকারী ব্যাংক, কোম্পানি ও বাংলাদেশ পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ল্যান্ডফিলের বর্জ্য ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শুরু করতে চীনা প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়নাকে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বৈঠকে দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর বিষয়েও চীনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
বর্তমানে প্রকল্পটির পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগের প্রায় ৩০ শতাংশ চালু রয়েছে। বাকি ৭০ শতাংশ সংযোগ স্থাপনের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
গুলশান, বারিধারা ও বনানী এলাকাকে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, “চীনা বিনিয়োগ পাওয়া গেলে এই মুহূর্তে আমাদের সরকারি তহবিলের ওপর চাপ কমবে। তখন আমাদের এই ১ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন পড়বে না।”
বৈঠকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনের সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ ভবন, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং গ্রামীণ হাট-বাজারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ খাতে এখনো নির্দিষ্ট কোনো বিনিয়োগের পরিমাণ জানানো হয়নি। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী চীনা ব্যাংক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এসব প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ বাড়লে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে ঢাকা শহরের আবাসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিষ্কাশন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।