গ্যারেজ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রতিবাদসহ কয়েকটি দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তা অবরোধ করেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকরা।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে অটোরিকশার মালিক ও চালকরা।
অটোরিকশার কয়েকজন মালিক চরচাকে জনান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে তাদের অটোরিকশা চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না এবং রিকশা চালাতে না পারায় তাদের রোজগার নেই। তাদের দাবি, অটোরিকশার গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় সংযুক্ত করতে দিতে হবে।
চালক দের দাবি, সব রাস্তা তাদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। পুলিশের হয়রানি ও তাদের জরিমানা নেওয়া বন্ধ করারও দাবি করেন তারা।
সরেজমিনে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডিসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা অন্যদিনের চেয়ে কম দেখা গেছে। বাড্ডা, মালিবাগ, মৌচাক, শান্তিনগর, মতিঝিল এবং পল্টনে অটোরিকশা চলছে না। রাস্তার পাশে অনেকে দাঁড়িয়ে আছেন গাড়ির আশায়।
যাত্রীদের অভিযোগ, অন্যদিনের চেয়ে তাদের কাছে ভাড়া বেশি চাওয়া হচ্ছে। সন্তানকে স্কুলে নেওয়ার জন্য রিকশার অপেক্ষায় থাকা মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে অপেক্ষারত অভিভাবক মাবিয়া জামান চরচাকে বলেন, “রাস্তায় যা রিকশা আছে তা বেশিরভাগই যাত্রীসহ। খালি পাওয়াই যাচ্ছে না। এক দুইটা যাও পাচ্ছি, ৩০-৪০ টাকা ভাড়া বেশি চাইছে।” প্যাডেলচালিত রিকশাগুলোও বেশি ভাড়া চাইছে বলে অভিযোগ তার।
এই এলাকায় দায়িত্বরত এক ট্রাফিক কনস্টেবল বলেন, “তাদের কী যেন আন্দোলন আছে রিকশা কম দেখতেছি।”
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আড়ংয়ের উল্টো পাশে রিকশার অপেক্ষায় থাকা মেহরীন আক্তার চরচা বলেন, “এখান থেকে রিকশা নিয়ে ফার্মগেট মেট্রোস্টেশন যাই প্রতিদিন। আজ রিকশা নেই। আরেকটু দেখব, যদি না পাই তো হেঁটেই যাব।”
তবে কয়েকটি এলাকায় অটোরিকশা দেখা মিলেছে আগের মতই। ঢাকার সাইন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড থেকে শাহবাগ পর্যন্ত অটোরিকশার চলাচল আগের মতোই স্বাভাবিক দেখা গিয়েছে।
সাইন্সল্যাবে একজন অটোরিকশা চালক চরচাকে বলেন, “সরকার আমাদের জন্য কোনো আইন না বানায়ে খালি জুলুম করতেছে। রাস্তাঘাটে ট্রাফিক ধরলে তার কাইটা দেয়, গ্যারেজে এটার জন্য মালিক জরিমানা করে। গরীব মানুষের ভোগান্তি কেউ দেখে না।”