দেশে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংক হলো- কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট-ডিজিটাল ব্যাংক (রবি আজিয়াটা) এবং নোভা ডিজিটাল ব্যাংক (বাংলালিংক+স্কয়ার)।
আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রস্তাবিত পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
এর আগে ১২টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য আবেদন করেছিল। এগুলো হলো, ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, বুস্ট-রবি, আমার ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মারস, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজ এবং বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের অক্টোবরে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি নামে দুটি ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুটি প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল লাইসেন্স স্থগিত করে।
এলওআই পাওয়া মানেই এসব প্রতিষ্ঠান এখনই পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না। এলওআইয়ের শর্ত পূরণ, মূলধন সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের পর চূড়ান্ত লাইসেন্সের বিষয়টি আসবে।
ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার নীতিমালায় শুরুতে ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ১২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের সংশোধিত গাইডলাইনে তা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হয়। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা ও স্পনসরদের যোগ্যতা যাচাইয়ের শর্তও কঠোর করা হয়েছে।
বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর উদ্যোগ শুরু হয় ২০২৩ সালে। ওই বছরের জুনে বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য গাইডলাইন প্রকাশ করে এবং আবেদন আহ্বান করে। তখন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে মোট ৫২টি আবেদন জমা পড়ে। তিনটি কমিটি এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করে।