মরক্কোর সংসদ নির্বাচনে উদারপন্থী-মধ্যপন্থী দল সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পর ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ। রাজপ্রাসাদ এ কথা জানিয়েছে।
রাজা শেখ মোহাম্মদ গতকাল মঙ্গলবার ফাতিমা মানসুরিকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে রাজপ্রাসাদ। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ফাতিমা মানসুরির অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) ২০০৮ সালে রাজার এক উপদেষ্টার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে সামাজিক আধুনিকায়ন ও ধর্মনিরপেক্ষতামুখী অবস্থানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দলটি ইসলামপন্থী জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (পিজেডি) পাল্টা শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মরক্কো একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। দেশটির পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজার ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে।
মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া রাজনৈতিক দলের মধ্য থেকে সরকারপ্রধান নিয়োগ করেন রাজা।
বিদায়ী জোট সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল পিএএম এবার সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে সরকারি দলে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে দলটিতে যোগ দেওয়া মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান এবং দুবার সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করা ফাউজি লেকজা দলের অবস্থান শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখেন।
আইনজীবী ফাতিমা মানসুরি বিদায়ী সরকারের আবাসনমন্ত্রী এবং মারাকেশের মেয়র ছিলেন। এখন তিনি জোট সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং রাজার অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের তালিকা জমা দেবেন।
‘কোনো লাল দাগ নেই’
নতুন সরকার ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিতে মরক্কোর ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলারের বিনিয়োগ কর্মসূচির শেষ পর্যায়ের কাজ তদারক করবে। পর্তুগাল ও স্পেনের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে মরক্কো।
এ ছাড়া, ব্যাপক তরুণ অসন্তোষ মোকাবিলায় অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন করবে সরকার। জুলাইয়ে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় অভিবাসীদের ব্যাপক সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা এবং গত বছর জেন-জি নেতৃত্বাধীন প্রাণঘাতী বিক্ষোভে এই অসন্তোষের বিষয়টি সামনে আসে।
পিএএম ৯৭টি আসন পেয়েছে। বিদায়ী সরকারের জোটসঙ্গী উদারপন্থী-মধ্যপন্থী ন্যাশনাল র্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টস (আরএনআই) ৬৬টি এবং রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদী ইস্তিকলাল পার্টি ৬৫টি আসন পেয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় পিএএম জানিয়েছিল, তারা আরএনআইয়ের সঙ্গে জোট সরকারে থাকার বিষয়টি নাকচ করছে। খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন নীতিগত ঘাটতির জন্য দুই দল পরস্পরকে দায়ী করেছিল।
তবে ফাতিমা মানসুরি গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, জোট গঠনের আলোচনা হলে তিনি কোনো ‘লাল দাগ’ রাখবেন না। তিনি বলেন, “আমরা পুরোনো অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনে এগিয়েছি।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ৫৪টি আসন পাওয়া পিজেডির নেতা আবদেলিলাহ বেনকিরানে বলেছেন, তার দল বিরোধী দলে থাকবে।
এবারের নির্বাচনে তিনটি বামপন্থী দল অপেক্ষাকৃত কমসংখ্যক আসন পেয়েছে।
নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থার সূচক হিসেবে ভোটার উপস্থিতির হারও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এবার ভোট পড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ, যা পাঁচ বছর আগের নির্বাচনের প্রায় ৫০ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ওই নির্বাচনে এক দশক ক্ষমতায় থাকা মধ্যপন্থী ইসলামপন্থী পিজেডি বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ একজন নারী উপদেষ্টাকে নিয়োগ দিয়েছেন এবং মরক্কোতে নারীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদায়ী সরকারে চারজন নারী মন্ত্রী ছিলেন।