ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের কারণে ডিজেল ও সারের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় মার্কিন শস্য উৎপাদক কৃষকেরা বিগত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। মঙ্গলবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি)-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই মূল্যের ধাক্কা কৃষকদের বিগত কয়েক বছরের টানা কম শস্যমূল্য এবং বৃদ্ধি পাওয়া আয়ের সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরান আক্রমণের পর তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অনেকাংশে অবরুদ্ধ করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হত।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মধ্য-পশ্চিম আমেরিকার কর্ন বেল্ট অঞ্চলের কৃষকেরা ডিজেল ও সারের লাগামহীন দামে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নেব্রাস্কা ফার্মার্স ইউনিয়নের সভাপতি জন হ্যানসেন এই মন্দাকে ১৯৮০-এর দশকের পর কৃষি খাতের সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, ফসল রোপণে ব্যবহৃত ফসফরাস সমৃদ্ধ সারের দাম প্রতি টন এখন ৯০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা এক দশক আগে ছিল ৪৭০ ডলারের কাছাকাছি।
একইভাবে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বাজার ব্যাহত হওয়ায় মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের উপাত্ত অনুযায়ী দেশজুড়ে ডিজেলের গড় দাম যুদ্ধপূর্ব প্রতি গ্যালন ৩.৮১ ডলার থেকে বেড়ে ৫.৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। ন্যাশনাল কর্ন গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি প্যাম জনসন বলেন, যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তায় আগামী দুই বছর কৃষকদের কোনো লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনা নেই।
খেতের শস্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মার্কিন ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের অর্থনীতিবিদেরা হিসাব করেছেন যে, সরকারি সহায়তা ছাড়া এ বছর প্রধান নয়টি শস্যের জন্য কৃষকদের প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার এবং আগামী বছর ৩২ বিলিয়ন ডলার লোকসান হবে। এই সংকট আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন সয়াবিনের চাহিদা হ্রাস করেছে। পাশাপাশি নেব্রাস্কাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে খরার মতো প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আরও জটিল রূপ নিয়েছে। শস্যের উৎপাদন কমার আশঙ্কায় গম ও সয়াবিনের দাম বাড়ায় এই উপাদানগুলো সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।