ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগর উপকূলে মিশরের একটি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ জাহাজে বুধবার ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বাহিনী পূর্ব ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ হামলা চালায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরে হামলা এবং ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ এনারগোস উইন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন দেশটির গ্যাসবাজার একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত বিশাল জোহর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর মিশর একসময় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছিল।
কিন্তু অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া এবং চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশটি আবার আন্তর্জাতিক বাজারে বড় এলএনজি আমদানিকারক হিসেবে ফিরে এসেছে।
ঘটনার সঙ্গে পরিচিত তিনটি বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় ভাসমান সংরক্ষণ জাহাজ এনারগোস উইন্টারে আগুন লাগে। পরে সেই আগুন পাশের গ্যাসলগ সেলেম জাহাজেও ছড়িয়ে পড়ে।
এই দুই জাহাজ দীর্ঘ সময়ের জন্য অচল হয়ে পড়লে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে এর প্রভাব নিয়ে ব্যবসায়ীরা নিবিড়ভাবে নজর রাখবেন। কারণ এতে চাহিদা ও স্পট মূল্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
রয়টার্সকে দুটি সূত্র জানিয়েছে, জাহাজ দুটি কিছু সময়ের জন্য সেবার বাইরে থাকতে পারে।
আরেকটি সূত্রের ভাষ্য, এনারগোস উইন্টারের একটি গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে মেরামতকাজ দীর্ঘায়িত হতে পারে।
এনারগোস উইন্টার প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুনঃগ্যাসীকরণের সক্ষমতা রাখে।
মিশরের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলআদল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, এটি দেশটির দৈনিক গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৭ শতাংশ এবং মোট এলএনজি গ্রহণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ সক্ষমতার প্রায় ১৬ শতাংশের সমান।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিশরের হাতে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অন্য পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের সর্বোচ্চ ব্যবহার, ফুয়েল অয়েলের ব্যবহার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং শেষ বিকল্প হিসেবে কিছু শিল্প খাতে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া।