সদ্য সমাপ্ত নারী এশিয়া কাপে বাংলাদেশের ব্যর্থতার জেরে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিগার সুলতানা। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। তবে এশিয়ান গেমস শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না বিসিবি।
গত মঙ্গলবার বিসিবিকে ই-মেইলের মাধ্যমে চিঠি দিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার কথা জানান নিগার। এশিয়া গেমস দিয়েই অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি অধ্যায়ের ইতি টানতে চান তিনি। বিসিবির উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু চরচাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে তিনি এটাও বলেছেন, আপাতত তারা এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান না। এশিয়ান গেমসের পর দল দেশে ফিরলে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সুরাহা করবেন তারা।
নিগারের সঙ্গে কয়েক দফায় যোগাযোগের পর তিনি চরচাকে বলেছেন, “আমি বোর্ডকে যা জানানোর আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছি। আমার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।”
বোর্ডের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, এশিয়া কাপে সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের পরই নাকি অভিমান থেকে অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন নিগার। দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন নেতিবাচক খবরে বিসিবির নীরবতা তাকে হতাশ করেছে।
২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব পান নিগার। ৮০ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জয়ের দেখা পেয়েছেন ৩২ বার। তার অধীনে শুরুটা ভালো হলেও চলতি বছর দলের পারফরম্যান্স মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলেও মূল পর্বে হতাশ করে বাংলাদেশ। ঘরের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ হারের সঙ্গে যোগ হয় ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং এশিয়া কাপের ব্যর্থতা।
তবে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে প্রস্তুত নিগার। বিসিবিকে দেওয়া চিঠিতে তিনি বলেছেন, টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিংয়ে আরও মনোযোগ দিতে তিনি অধিনায়কত্ব করতে চান না। ওয়ানডেতে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে তার আপত্তি নেই।
নিগারের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত গৃহীত হলে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন নাহিদা আক্তার। দলের বর্তমান সহ-অধিনায়ক তিনি। এছাড়াও আলোচনায় রয়েছে সোবহানা মোস্তারির নামও, যদিও তাকে আপাতত নাহিদার ডেপুটি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।