অনুমতি ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের ছবি তোলা ও ভিডিও করা থেকে বিরত থাকতে বলেছে প্রতিষ্ঠানটি। নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনার কথা বলে গতকাল মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অননুমোদিত তথ্য প্রকাশ বা প্রচারে বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার এবং জাতীয় অর্থনীতি, আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করে বন্দরের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, চট্টগ্রাম বন্দর আইএসপিএস অনুসরণকারী বন্দর হিসেবে ‘জিরো অবজারবেশন’ অর্জন করেছে। দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল স্থাপনাসমূহের সুরক্ষা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ এর ১২ ধারা অনুযায়ী বন্দরের সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে এবং সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বন্দর সীমানার অন্তর্ভুক্ত সকল স্থান ও স্থাপনা সংরক্ষিত বন্দর এলাকা হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টস, ১৯২৩ এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল স্থান, তথ্য, নকশা, ছবি বা অন্যান্য উপাত্তের অননুমোদিত ধারণ, প্রকাশ বা প্রচার আইনত দণ্ডনীয় হতে পারে।
‘‘কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতীত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্লাটফর্ম, গণমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস, অপারেশনাল তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’’
বিজ্ঞপ্তিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সংবেদনশীল স্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার অননুমোদিত ফটোগ্রাফি, ভিডিও-ধারণ, স্কেচ প্রণয়ন বা যেকোনো ধরনের দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
বন্দর ব্যবহারকারী সকলকে নিরাপত্তা নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এ ধরনের অননুমোদিত তথ্য-প্রকাশ বা প্রচারের মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন, নিরাপত্তা বিধিমালা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ধারাবাহিক আন্দোলন করে যাচ্ছে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এসব আন্দোলনে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। এসব কর্মসূচি চলাকালীন বন্দরের তরফ থেকে এমন নির্দেশনা এল।