ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় নির্মাণাধীন একটি টানেলে হঠাৎ পানি ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে অন্তত সাতজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তিন শ্রমিক এখনো টানেলের ভেতরে আটকা রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
আজ শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনজন শ্রমিক এখনো আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার চামোলির পিপলকোটিতে তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের (টিএইচডিসি) প্রকল্পে কাজ চলছিল। দুর্ঘটনার সময় অন্তত ২৮ জন কাজ করছিলেন। এমন সময় হঠাৎ করে পানির প্রবল স্রোত টানেলের ভেতরে ঢুকে পড়ে। সেই স্রোতে অনেক শ্রমিক ভেসে যান। স্থানীয় সংসদ সদস্য লাখপত বুটোলা বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। পুরো প্রশাসনিক দল এবং আমার সব সহকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। উদ্ধারকাজে নিয়োজিতদের নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা প্রদান করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌরব কুমার জানান, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একটি টানেলের নির্মাণকাজ চলছিল। এ সময় সেখানে পানি ঢুকে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জরুরি তৎপরতার মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আহত ও দুর্ঘটনায় জড়িত ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি সংশ্লিষ্ট দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এসডিআরএফ) সদস্যরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত কয়েক দিন ধরে চামোলি জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সোমবার নদীর পানির স্তর বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট প্রবল স্রোতে জেলার নীতি উপত্যকা অঞ্চলের একটি সেতু ভেসে যায়।