সমাজে অস্থিরতা বা ‘সোশ্যাল আনরেস্ট’ তৈরির পেছনে অনলাইন জুয়া মুখ্য ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, “অনলাইন জুয়া বা গ্যাম্বলিং প্রতিহত করতে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইউ), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) যৌথভাবে কাজ করছে।”
সম্প্রতি বিএফআইউর বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে অনলাইন জুয়ার পরিমাণ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
আরিফ হোসেন বলেন, “বিটিআরসি যখনই কোনো অনলাইন বেটিং সাইট শনাক্ত করছে, তখনই সেটি বন্ধ করে দিচ্ছে। তবে এই দুষ্ট চক্র একটি সাইট বন্ধ হওয়ার সাথে সাথেই একাধিক নতুন সাইট খুলে ফেলছে, যা এই প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে।”
তিনি বলেন, “শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দিয়ে অনলাইন জুয়া পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পারিবারিকভাবে নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। পরিবার থেকে যদি সদস্যদের সম্পৃক্ততা রোধ করা যায়, তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।”
রাষ্ট্র এই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট তৎপর রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার বাজারের আকার বর্তমানে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা (৬২-৬৮ মিলিয়ন ডলার)। প্রতি বছর এই বাজার ৪ দশমিক ৭ থেকে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে 'জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬' পাস করেছে। নতুন এই আইনে অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ায় জড়িত থাকার দায়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া, অনলাইন বেটিংয়ে অংশ নিলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি জুয়ার প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনকেও এই আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।