
কীভাবে হুতিরা হয়ে উঠল ইরানের সবচেয়ে ভয়ংকর মিত্র?
ইয়েমেনের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে প্রায় চার বছর ধরে বড় ধরনের লড়াই ছিল না। এক ধরনের অস্বস্তিকর যুদ্ধবিরতি ছিল। কিন্তু সেই শান্তিও এখন ভেঙে পড়ছে। দেশটিতে আবারও শুরু হয়েছে সংঘাত।

কুমিল্লার বুড়িচংয়ের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ হেলাল। গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় তাদের ফ্লাইট ছিল ঢাকা থেকে। ওই দিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে সময়মতো বিমানবন্দের পৌছাতে পারেননি তারা। যার ফলে ফ্লাইট মিস হয়। দুশ্চিন্তা আর ল্যাগেজ নিয়ে তারা যখন দিশেহারা, তখন বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে তাকে জানানো হয়, কাছেই থাকার সুব্যবস্থার কথা। মাত্র ৩০০ টাকায় (১০০ টাকা ফি ও ২০০ টাকা ভাড়া) এক রাত থাকা, খাওয়া এবং এয়ারপোর্ট থেকে ফ্রি যাতায়াতের সুবিধা আছে ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারে।
মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমি এয়ারপোর্টের আশপাশের হোটেলে খোঁজ নিয়েছি, সামান্য একটা রুমের জন্য ১২০০-১৩০০ টাকা চায়। আর এখানে মাত্র ২০০ টাকায় হোটেলের চেয়েও ভালো এবং নিরাপদ পরিবেশে থাকতে পারছি।”
মোহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ সোহেলের মতো প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক প্রবাসী শ্রমিক রাজধানীতে আসেন ফ্লাইট ধরার জন্য। যানজটের ভয় আর নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর চাপে অনেকেই ফ্লাইটের ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা আগেই ঢাকায় আসেন। কিন্তু বিমানবন্দরের ভেতরে নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় এই বিশাল সংখ্যক মানুষকে পোহাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

বিশেষ করে মধ্যরাত বা ভোররাতের ফ্লাইট থাকলে দেখা যায়, অসংখ্য প্রবাসী তাদের ভারী লাগেজ ও ব্যাগ নিয়ে বিমানবন্দরের বাইরের ক্যানপি বা ফুটপাতে বসে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। অথচ এই অসহায়ত্বের সমাধান হিসেবে ঠিক বিমানবন্দরের পাশেই, খিলক্ষেত থানার বরুয়া এলাকার লঞ্জনীপাড়ায় সরকার নির্মাণ করেছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ‘ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার’। ২০২২ সালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় এই ডরমেটরি। তবে যথেষ্ট প্রচারণার অভাব ও নির্মাণাধীন সড়কের কারণে এখনো সকল প্রবাসী এই ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারের সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না।
সুযোগ-সুবিধা কী কী, খরচ কত
প্রায় ১৪০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত এই সেন্টারে রয়েছে আধুনিক ডরমেটরি। এখানে এক রাত থাকার জন্য খরচ হয় মাত্র ২০০ টাকা এবং সিট বুকিংয়ের জন্য আবেদন ফি ১০০ টাকা। একজন কর্মী সর্বোচ্চ দুই রাত এখানে অবস্থান করতে পারেন।
সেন্টারটিতে পুরুষদের জন্য ৪০টি এবং নারীদের জন্য ৯টিসহ মোট ৪৯টি শয্যা রয়েছে। আবাসনের পাশাপাশি এখানে রয়েছে সেফ লকারে লাগেজ ও মূল্যবান মালামাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা, ফ্রি ওয়াইফাই, টেলিফোন, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ এবং সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক নামাজঘর, বিনোদন ও খেলাধুলার ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসহ প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তির সুবিধাও দেওয়া হয়। আবাসনের পাশাপাশি এই সেন্টারে বিদেশগামী কর্মীদের গন্তব্য দেশ ও কর্মস্থলের পরিবেশ সম্পর্কে ব্রিফিং দেওয়া হয়।

যাতায়াতে চরম ভোগান্তি ও বন্ধ ক্যান্টিন
বিমানবন্দর থেকে সেন্টারটির দূরত্ব মাত্র সাড়ে ছয় কিলোমিটার। এখান থেকে যাতায়াতের জন্য সেন্টারের নিজস্ব ফ্রি পরিবহন ব্যবস্থা থাকলেও গত দুই বছর ধরে বরুয়া এলাকার সড়কে ড্রেনেজ ও সংস্কার কাজ চলায় গাড়ি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এই কাজ পরিচালনা করছে। রাস্তার বেহাল দশার কারণে সেন্টারের নিজস্ব মাইক্রোবাস নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় বর্তমানে সেন্টারের নিজস্ব ক্যান্টিনটিও বন্ধ রয়েছে, যার ফলে প্রবাসীদের বাইরে থেকে খাবার আনিয়ে খেতে হচ্ছে।
গত দুই মাসে এখানে গড়ে ৮০ থেকে ৮৫ জন প্রবাসী থেকেছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে মাত্র ২-৩ জন যাত্রী এই বিশাল স্থাপনাটি ব্যবহার করছেন, যেখানে কয়েক হাজার মানুষের সেবা নেওয়ার সুযোগ ছিল।
আবেদনের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারে থাকার জন্য সরাসরি সেন্টারে এসে কিংবা অনলাইনের মাধ্যমে বুকিং দেওয়া সম্ভব। আবেদনের সময় প্রবাসীকে পাসপোর্ট ও ফ্লাইটের টিকিটের কপি, বিএমইটি কার্ড, বহির্গমন ছাড়পত্র বা মেম্বারশিপ সনদের কপি জমা দিতে হয়। সেন্টারটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে প্রবাসবন্ধু কল সেন্টারের টোল ফ্রি নম্বর ১৬১৩৫ (দেশ থেকে) বা ০৯৬১০১০২০৩০ (বিদেশ থেকে) নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া সরাসরি যোগাযোগের নম্বরগুলো হলো: ০১৩১০-৩৫০৫৫৫ এবং ০১৭৫৪-৭১৫৭২০।
সেন্টারটির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনিসুজ্জামান চরচাকে বলেন, “প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, অথচ তারা বিমানবন্দরে এসে যে কষ্ট পান তা দুঃখজনক। আমাদের এই সেন্টারটি তাদের জন্যই তৈরি। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে আমরা চাইলেও সবসময় ফ্রি পরিবহন সুবিধা দিতে পারছি না। রাস্তা যখন ভালো ছিল, তখন মাসে ৪০০-৫০০ যাত্রী আসতো। এখন গড়ে ৭০-৮০ জন করে আসে। রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছি।”

প্রচারের অভাব নিয়ে তিনি আরও বলেন, “অনেকেই এখনো এই সুবিধার কথা জানেন না। আমরা বিমানবন্দরের ভেতরে বড় ডিজিটাল ডিসপ্লে, সাইনবোর্ড এবং অ্যারাইভাল-ডিপারচার জোনে প্রচারণা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি। এছাড়া জেলা জনশক্তি অফিস (ডিইএমও) এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে (টিটিসি) বিদেশগামী কর্মীদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে এই সেন্টারের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাস্তা ঠিক হয়ে গেলে এবং প্রচারণা বাড়লে এটি প্রবাসীদের জন্য একটি আস্থার ঠিকানায় পরিণত হবে।”

কীভাবে হুতিরা হয়ে উঠল ইরানের সবচেয়ে ভয়ংকর মিত্র?
ইয়েমেনের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে প্রায় চার বছর ধরে বড় ধরনের লড়াই ছিল না। এক ধরনের অস্বস্তিকর যুদ্ধবিরতি ছিল। কিন্তু সেই শান্তিও এখন ভেঙে পড়ছে। দেশটিতে আবারও শুরু হয়েছে সংঘাত।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পরপরই ইরানের পাল্টা আঘাত, কী বার্তা দিচ্ছে?
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সংঘাতকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ফের বেড়েছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি এ সংঘাতের শুরু। এরপর ছয় মাস পেরোলেও কার্যত কোনো সমাধান আসেনি। বেশ কয়েক দফায় যুদ্ধবিরতি হয়েছে, জুনে একটি সমঝোতা স্মারকে সইও করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে সেসব কিছুই টেকেনি।

সংসদীয় কমিটি কী, কোন ধরনের কাজ করে?
বিরোধী দল থেকে সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া-না দেওয়া নিয়ে কিছুদিন ধরেই নানা আলোচনা চলছে। গত রোববার এ নিয়ে সংসদে অনির্ধারিত বিতর্কও হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান বা অন্য আইনে বিরোধী দল থেকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি করার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে জুলাই সনদের প্রস্তাবে সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: কারা টাকা তুলতে পারবেন, কত টাকা তোলা যাবে?
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ গাইডলাইন অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য টাকা তোলার ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন পথ খোলা রাখা হয়েছে। প্রথম নিয়মটি হলো, যেসব গ্রাহক তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করতে চান না, তাদের ক্ষেত্রে নগদ উত্তোলনের সীমা ২ লাখ টাকা।