মুসোলিনির দেশের লেখক যেভাবে ফ্যাসিস্ট চিনতেন

মুসোলিনির দেশের লেখক যেভাবে ফ্যাসিস্ট চিনতেন
প্রতীকী ছবি। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ফ্যাসিজম বা ফ্যাসিস্ট শব্দ দুটি উচ্চারিত হলেই মূলত দুটি ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। একটি হচ্ছে নাৎসি জার্মানির বা হিটলারের জার্মানির। অন্যটি হচ্ছে বেনিতো মুসোলিনির ইতালি। এই দুটি হলো প্রমাণিত সত্যের মতো ফ্যাসিজমের উদাহরণ। সাধারণত বিশেষজ্ঞদের বেশির ভাগ এ দুটিকে ফ্যাসিজমের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে ধরে থাকেন।

তবে হ্যাঁ, এ নিয়ে বিতর্ক আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এই দুই উদাহরণের পর মূলত বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ব্যবস্থা বা আন্দোলন ‘ফ্যাসিজম’ বা ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে উপাধি পেয়েছে। তবে সেগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। তুমুল বিতর্ক চলেছে সেসব দাবি নিয়ে। কারণ ফ্যাসিজম নামক রাজনৈতিক আদর্শের ধারণাটিকেই নানা সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা যায়। এর বৈশিষ্ট্যও হরেক। বিশেষ করে একবিংশ শতাব্দীতে এসব বৈশিষ্ট্য আরও নানামুখী হয়েছে।

ফ্যাসিজমের লক্ষণ নিয়ে নানা বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন তত্ত্ব দিয়েছেন। এখানে আমরা উল্লেখযোগ্য কিছু লক্ষণের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার চেষ্টা করব। এক্ষেত্রে উমবের্তো একো’র রচনায় চোখ বোলানো যাক।

এই বিখ্যাত দার্শনিক ও সাহিত্যিক মুসোলিনির দেশেরই মানুষ এবং মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডও প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৯৯৫ সালে তিনি ‘উর–ফ্যাসিজম’ নামে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন। ওই বছর দ্য নিউইয়র্ক রিভিউয়ের ২২ জুন সংখ্যায় এটি প্রকাশিতও হয়েছিল। এর আগে একই বছরের এপ্রিল মাসে উমবের্তো কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে এই ডিসকোর্স নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। এই বক্তব্যে উমবের্তো একো ইতালির ফ্যাসিবাদ নিয়ে যেমন বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন, ঠিক তেমনি ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থাকে চেনার সুবিধার্থে কিছু লক্ষণ বা চিহ্নের উল্লেখ করেছিলেন। মোট ১৪টি বৈশিষ্ট্যের কথা উমবের্তো লিখেছিলেন। সেগুলোই এবার একে একে তুলে ধরা হলো:

facist

১. ফ্যাসিস্টরা বরাবরই ঐতিহ্যের চেতনাধারী হন, ঐতিহ্যের কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। একো বলেছেন, ফ্যাসিবাদের চেয়ে অনেক বেশি পুরোনো মতবাদ হলো ঐতিহ্যবাদ। তাঁর কথায়, ‘প্রতিটি ফ্যাসিস্ট আন্দোলনের সিলেবাস ভালোভাবে লক্ষ্য করলেই প্রধান ঐতিহ্যবাদী চিন্তকদের খুঁজে পাওয়া যাবে।’ এই বৈশিষ্ট্যের কারণে ফ্যাসিস্টদের শেখার প্রক্রিয়ায় কোনো উন্নতি আসে না। কারণ একোর মতে, এক্ষেত্রে সত্য সবার জন্য একবারই উচ্চারিত হয় এবং এ দিয়ে বোঝানো অস্পষ্ট বার্তাকেই বারংবার নানাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে।

২. আধুনিকতাকে বর্জনের চিহ্ন দেখা যায় পুরোপুরি। ঐতিহ্যবাদকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই এটি হয়। একো বলেছেন, ‘জ্ঞানের মাধ্যমে আলোকিত হওয়া, যুক্তির যুগকে ফ্যাসিস্টরা আধুনিক ভ্রষ্টাচারের শুরু হিসেবে মনে করে থাকে।’ ফলে বার বার উচ্চারিত হতে থাকে ‘যুক্তিতে মুক্তি মেলে না’ ঘরানার বক্তব্য। সেদিক থেকে ফ্যাসিজমে যুক্তি পাত্তা পায় না একেবারেই। তাই অযৌক্তিকতার তুমুল ব্যবহারও ফ্যাসিজমের একটি অন্যতম লক্ষণ।

৩. এই অযৌক্তিকতার চর্চার কারণে দেখা দেয় প্রতিক্রিয়াশীলতা। এক্ষেত্রে সত্যিকারের মৌলিক ক্রিয়ার দেখা মেলে না। শুধুই একটি ঘটনা ঘটেছে বলেই আরেকটি ঘটনা ঘটানো হয়। উমবের্তো একো বলেছেন, ‘যে কোনো ক্রিয়ামূলক কর্মকাণ্ড তার নিজস্বতায় সুন্দর হয়ে ওঠে। এটি সম্পাদন করতে হয় পূর্ববর্তী কোনো কাজের প্রতিফলন ব্যতিরেকে।’ আর এরই অভাব প্রকট হয়ে ওঠে ফ্যাসিজমে। এ ব্যবস্থায় বুদ্ধিজীবী মহলের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ তৈরি করা হয়। অপছন্দের বুদ্ধিজীবীদের ‘মাথামোটা’সহ আরও নানা অপমানজনক উপাধি দেওয়া হয়ে থাকে ফ্যাসিস্টদের পক্ষ থেকে। ফ্যাসিস্টদের নিয়োগকৃত বুদ্ধিজীবীরা তখন আধুনিক সংস্কৃতি ও উদারনৈতিক অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের আক্রমণ করতেই সবটা সময় ব্যয় করে থাকেন।

৪. ফ্যাসিজমের নীতির সঙ্গে একমত না হলেই বিশ্বাসঘাতক বলে ডাকা হয়। কখনও কখনও বিরোধী পক্ষ বা বিরোধী পক্ষের দোসর প্রভৃতিও ব্যবহার করা হয়। এক কথায়, ফ্যাসিজমে দ্বিমতের কোনো স্থান নেই। ফ্যাসিস্টরা ভিন্নমত সহ্যই করতে পারেন না। ধরুন, কেউ একজন ভিন্ন মত প্রকাশ করল, সঙ্গে সঙ্গে তাকে অমুক পক্ষের লোক বা সমর্থক বা অন্যান্য উপাধি দিয়ে কোণঠাসা করে ফেলার চেষ্টা করা হয়। কথায় কথায় বলে দেওয়া হয়—‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’

facist 2

৫. ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারকে আধুনিকতা চর্চার অন্যতম উপায় বলে মনে করা হয়। যখন ভিন্নমত প্রকাশিত হতে থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সমাজে, মানুষে মানুষে বৈচিত্র্যের সহাবস্থান থাকে। আর এই বৈচিত্র্যকে একেবারেই মেনে নিতে পারে না ফ্যাসিস্টরা। এরা ভিন্ন মত বা ভিন্ন ধরনের সবাইকেই আগন্তুক হিসেবে বিবেচনা করে। সেই হিসাবে সব আগন্তুককেই এরা মুছে ফেলতে চায়। এই প্রবণতাও ফ্যাসিজমের লক্ষণ বলে মনে করেন উমবের্তো একো। সেদিক থেকে বর্ণবাদও ফ্যাসিজমের লক্ষণ বটে।  

৬. ফ্যাসিজমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি সামাজিক হতাশাকে উপজীব্য করে চলে। উমবের্তো একো বলেছেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে ফ্যাসিজমের অন্যতম সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো হতাশ মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছে আবেদন উত্থাপন করা। এই শ্রেণিটি অর্থনৈতিক সংকট বা রাজনৈতিক অপমানের শিকার হওয়ার কারণে সামাজিকভাবে হতাশ থাকে। সামাজিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর চাপের কারণেও এরা ভীত–সন্ত্রস্ত থাকে।’ অর্থাৎ, সামাজিকভাবে হতাশ একটি শ্রেণিকে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করে লড়াইয়ে টেনে আনার চেষ্টা করে ফ্যাসিস্টরা। একই সঙ্গে ব্যক্তির হতাশাকেও লড়াইয়ের অস্ত্র বানানোর চেষ্টা চলে।

৭. ষড়যন্ত্র ফ্যাসিজমের অন্যতম লক্ষণ। এই ব্যবস্থায় সব সময়ই ‘ষড়যন্ত্র চলছে’ বা ‘হচ্ছে’ বা ‘হবে’ সংক্রান্ত আলোচনা ফ্যাসিস্টদের মুখ থেকে শোনা যেতে থাকে। এটি ফ্যাসিস্ট মনোকাঠামোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। ফ্যাসিজমের অনুসারীরা সর্বদাই ষড়যন্ত্রের ঘেরাটোপে নিজেদের বন্দী রাখতে ভালোবাসেন এবং অন্যদেরও বন্দী করতে চান।

৮. ফ্যাসিস্টরা ফ্যাসিজমের শত্রুকে একই সঙ্গে সবল ও দুর্বলরূপের সাধারণের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করে। এই বিতর্কটি সব সময়ই জারি থাকে। কখনো আসে প্রতিপক্ষ বা ফ্যাসিজমের শত্রুকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার তত্ত্ব। আবার তার খানিক পরেই বলা হয় প্রতিপক্ষের জুজুর ভয়াল রূপের গল্প।

৯. ফ্যাসিজমে শান্তি নিখোঁজ হয়ে যায়। এমনকি বিজ্ঞপ্তি দিয়েও তাকে খুঁজে পাওয়ার উপায় থাকে না। কারণ ফ্যাসিস্টরা সব সময় সাধারণ মানুষকে সংগ্রামুখর করে রাখার কাজ চালিয়ে যায়। তাদের লড়াই আর শেষ হয় না! এ বিষয়ে একো আরও বলেছেন, ‘ফ্যাসিজমে জীবনের জন্য সংগ্রাম নয়, বরং সংগ্রামের জন্য জীবনের যাপন হয়। এতে শান্তি পাচার হয়ে যায় শত্রুর সাথে। এটি খারাপ, কারণ জীবন তখন একটি চিরস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত হয়।’ এই প্রক্রিয়ায় শত্রুপক্ষ পরাজিত হলেও সংগ্রাম কখনোই থামে না।

১০. ফ্যাসিজমে একটি শাসব্যবস্থাকে উৎখাত করা হয়, বল দিয়ে। কিন্তু তাতে সব পুরনো হাওয়া হয়ে যায় না। অভিজাততন্ত্র তবু টিকে থাকে এবং নতুন রূপে ফিরে আসে। এর কারণ হলো ফ্যাসিস্টরা নিজেরাই নতুন অভিজাততন্ত্রকে জনতার সামনে হাজির করে। সেই সঙ্গে তৎকালীন দুর্বল শ্রেণিকে প্রচণ্ডভাবে অবজ্ঞা করা হয়। ফলে সমাজ আর সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় না। এ বিষয়ে উমবের্তো একো বলেছেন, ‘যে কোনো প্রতিক্রিয়াশীল আদর্শের ক্ষেত্রেই অভিজাতবাদ একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। ফ্যাসিজমে জনতুষ্টিবাদী অভিজাতবাদকে ব্যাপক সমর্থন দেওয়া হয়। ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থায় থাকা নেতা জানেন যে, যে ক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব তিনি করছেন, সেটি গণতান্ত্রিক উপায়ে তার হাতে আসেনি, বরং এসেছে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে। নেতা এও জানেন যে, তার দলের শক্তির ভিত্তি আসলে জনগণের দুর্বলতা। এই গণেরা এতই দুর্বল যে তাদের প্রয়োজন একজন শাসক। আবার ফ্যাসিস্ট সংগঠনের কাঠামো অনেকটা সামরিক বাহিনীর মতো করে হয়। সেখানে যে কোনো স্তরের প্রত্যেক নেতাই তার অধীনস্তদের অবজ্ঞা করে থাকে। ওই অধীনস্তরা আবার তার অধীনস্তদের অবজ্ঞা করে, হেলা করে। আর এর ফলে শক্তিশালী হয়ে ওঠে গণঅভিজাতবাদের ধারণা।’

stop facism

১১. ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থায় সব সময়ই নায়ক খোঁজা হয়। হিরোইজম এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। ফ্যাসিস্টরা সর্বদা কাউকে না কাউকে নায়ক হিসেবে গণের সামনে হাজির করার চেষ্টা করে। এটি হয় নানা প্রক্রিয়া। কখনো বলা হয়, ‘এই ব্যক্তি ছাড়া এটা হতো না’ বা ‘অমুককে ছাড়া মুক্তি মিলত না’ ইত্যাদি ইত্যাদি। একোর মতে, ফ্যাসিজমের প্রধান রীতিগুলোর একটি হলো হিরোইজম। এক ব্যক্তিকে সবার ওপরে, সবাইকে ছাড়িয়ে স্থাপন করা হয় ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থায়। একই সঙ্গে ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থায় মৃত্যুকে ব্যবহার করা হয়। যে সমাজ ফ্যাসিস্ট নয়, তাতে মৃত্যুর বিষয়টিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলা হলেও একে মর্যাদার সঙ্গে বরণ করে নেওয়ার কথা প্রচার করা হয়। অন্যদিকে ফ্যাসিজমে প্রতিষ্ঠিত নায়ক মৃত্যুকে কামনা করে, এটি হয় পরম আকাঙ্ক্ষিত একটি বিষয়। এক কথায়, ফ্যাসিজমের নায়কেরা মৃত্যুর জন্য অধৈর্য হয়ে ওঠে। আর এই ধৈর্যশীলতার অভাবের কারণে আরও অনেক মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।

১২. পুরুষের শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে ফ্যাসিজম। যখনই পৌরুষের শক্তি প্রদর্শনের বাড়বাড়ন্ত পরিলক্ষিত হবে, জেন্ডারভিত্তিক পরিচয়ের কারণে অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলবে, তখনই ফ্যাসিজমের উত্থান ঘটেছে বলে বুঝতে হবে। বিশেষ করে নারীদের প্রতি অবজ্ঞা, তাদের নিচু করার মানসিকতা দেখানো এবং তাদের সমানাধিকারে খড়গ নেমে আসবে—তখনই সতর্ক হতে হবে। কারণ এগুলো ফ্যাসিজমের লক্ষণ।

১৩. উমবের্তো একো মনে করেন, নির্বাচিত বা বাছাই জনতুষ্টিবাদ ফ্যাসিজমের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। গণতন্ত্রে সাধারণত নাগরিকের নিজস্ব অধিকার থাকে। কিন্তু ফ্যাসিজমে নাগরিক বোধ করেন যে, তার নিজস্ব অধিকারই আক্রান্ত হয়েছে। নিজের অধিকারই হারিয়ে ফেলেন একজন নাগরিক, ভয় পান। তখন ‘জনগণ’ নামক একটি অস্পষ্ট সত্তাকে সামনে এনে ফ্যাসিস্টরা বলতে থাকে যে, ‘জনগণ এটি চেয়েছে’, ‘এটি জনমতের প্রতিফলন’ ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বৃহৎ একদল মানুষের কখনো সাধারণ ইচ্ছা থাকতে পারে বলে মনে করেন না উমবের্তো একো। তাঁর মতে, ফ্যাসিস্ট নেতারা জনতার ইচ্ছা বোঝার মেশিনে পরিণত হন এবং যেকোনো কিছুই ‘জনগণের ইচ্ছা’ বলে চালিয়ে দেন। একো বলেন, ‘টিভি বা ইন্টারনেটের দুনিয়ায় একই গোষ্ঠীর কিছু মানুষের আবেগীয় প্রত্যুত্তরকেই জনতার কন্ঠস্বর হিসেবে উপস্থাপন ও গ্রহণ করে নেওয়া হতে পারে।’

১৪. ফ্যাসিজমে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ যুক্তিবোধের চর্চাকে সীমিত করে ফেলার চেষ্টা উদগ্রভাবে চলে। এ ব্যাপারে উমবের্তো একো বলেছেন, ‘জার্মানির নাৎসি বা ইতালির ফ্যাসিস্ট ধারা অনুসরণ করলে আমরা দেখব যে নিম্নমানের শব্দমালা ও খুবই প্রাথমিক বাক্যরীতি ব্যবহারের চল ছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ যুক্তিবোধের চর্চাকে সীমিত করা।’

এই হলো উমবের্তো একো’র দেওয়া ফ্যাসিজমের বিভিন্ন লক্ষণের বর্ণনা। তবে একো এই লক্ষণগুলো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন সেই গত শতকে। ২৫/৩০ বছর পর এখন অনেক কিছুতেই পরিবর্তন এসেছে। ফলে এসব লক্ষণের পাশাপাশি আরও অনেক চিহ্নকেও এখন ফ্যাসিজমের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

সম্পর্কিত