ads

সাধারণ নির্বাচন ছাড়া কীভাবে নতুন প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে যুক্তরাজ্য

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সাধারণ নির্বাচন ছাড়া কীভাবে নতুন প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে যুক্তরাজ্য
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাজ্যে কোনো সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই স্থানীয় সময় আগামী সোমবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন লেবার পার্টির নেতা ও গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবার পার্টির ৪০১ জন আইন প্রণেতার মধ্যে ৩৪৯ জনের সমর্থন পেয়ে বার্নহ্যাম ক্ষমতাসীন দলটির নেতা নির্বাচিত হন। পার্লামেন্টে লেবার পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির নেতারাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন।

Advertisement

গত শুক্রবার একটি দলীয় সম্মেলনে বার্নহামকে লেবার পার্টির নেতা হিসেবে নিশ্চিত করা হলেও আগামী সোমবার বাকিংহাম প্যালেসে রাজা চার্লস তৃতীয়ের সাথে সাক্ষাতের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যভার গ্রহণ করবেন। এর আগ পর্যন্ত স্টারমার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সাধারণ নির্বাচন কেন নয়?

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট শাসনব্যবস্থার অধীনে ক্ষমতাসীন দল সাধারণ নির্বাচন না ডেকেই তাদের মেয়াদকালে দলের নেতা পরিবর্তন করতে পারে। যদি ক্ষমতাসীন দলের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তবে তাদের নতুন নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় ভোটের পাঁচ বছর পরে পরবর্তী যুক্তরাজ্য সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা নয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুই বছরেরও কম সময় দায়িত্ব পালনের পর গত ২২ জুন স্টারমার লেবার পার্টির নেতা পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

কিছু রাজনৈতিক বিতর্কের পর তার নেতৃত্ব চাপের মুখে পড়ে। যার মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা এক ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার নিয়োগের বিষয়টি সবার চোখে আসে।

গত মে মাসে স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির খারাপ ফলাফলও দলীয় আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবিকে জোরালো করে তোলে। পরবর্তীতে বার্নহাম একটি পার্লামেন্টের উপ-নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এই চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। যা দলের নেতৃত্বভার গ্রহণের ক্ষেত্রে তার সমর্থনকে আরও শক্তিশালী করে।

লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী যদি এক-পঞ্চমাংশ লেবার আইনপ্রণেতার সমর্থন পান, তবেই নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বার্নহামই একমাত্র প্রার্থী ছিলেন যিনি এই শর্ত পূরণ করতে পেরেছিলেন।

১০ বছরে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী

গত এক দশকের মধ্যে বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই নেতৃত্ব পরিবর্তন যুক্তরাজ্যের সংসদীয় ব্যবস্থায় একটি সাধারণ বিষয়। সাবেক কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস ও ঋষি সুনাকসহ সবাই জাতীয় নির্বাচনের পরিবর্তে দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

নেতৃত্বের এই ঘন ঘন পরিবর্তন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে দেশটির বিদায়ের (ব্রেক্সিট) পর ব্রিটিশ রাজনীতিতে একটি অস্থির সময়কে চিহ্নিত করে।

আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা হস্তান্তর

নেতৃত্বের এই পরিবর্তন যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন হবে। আগামী সোমবার স্টারমার একটি বিদায়ী বক্তব্য দেবেন এবং এরপর বাকিংহাম প্যালেসে যাবেন।

সেখানে তিনি রাজা চার্লস তৃতীয়ের সাথে বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিবেন।এরপর বার্নহাম রাজার সাথে দেখা করবেন। রাজা তাকে নতুন সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। এই অনুষ্ঠানটি ঐতিহ্যগতভাবে ‘কিসিং অব হ্যান্ডস’ নামে পরিচিত।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট। ছবি: রয়টার্স
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট। ছবি: রয়টার্স

বৈঠক শেষে বার্নহাম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে যাবেন। যেখানে দেশের নতুন নেতা হিসেবে তিনি তার প্রথম ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পুরো ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং এটি যুক্তরাজ্যজুড়ে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

সম্পর্কিত