ads

ভারতের অধিকারকর্মী ওয়াংচুককে কেন হাসপাতালে নিল পুলিশ?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ভারতের অধিকারকর্মী ওয়াংচুককে কেন হাসপাতালে নিল পুলিশ?
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে অনশনরত সোনম ওয়াংচুক। নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকা। ১৭ জুলাই ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনশনরত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু করা অনশনের ২১তম দিনে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

Advertisement

৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক ২৮ জুন থেকে অনশন করে আসছেন। তিনি ভারতের যুব সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এ কর্মসূচি শুরু করেন। সংগঠনটি মে মাসে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কোটি কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে।

ওয়াংচুকের এই আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে এক বিরল জনসম্মুখ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সারা দেশে ব্যাপক সমর্থন পাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দাবিগুলো কোটি কোটি বার দেখা ও শেয়ার হয়েছে।

শনিবার টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশের পাশাপাশি ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকধারী নিরাপত্তা সদস্যরা বিক্ষোভস্থলে পৌঁছান। পরে তারা মঞ্চে বড় সাদা কাপড় টানিয়ে দেন। এরপর ওয়াংচুককে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ভিডিওতে তাকে দেখা যায়নি।

বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে নির্দেশ

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের দিল্লি পুলিশের উপকমিশনার সচিন শর্মা বলেন, “আদালতের নির্দেশ এবং তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতে সোনম ওয়াংচুককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য একটি উপযুক্ত সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।”

বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট তার স্বাস্থ্যের ওপর নিবিড় নজর রাখতে এবং প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জোরপূর্বক খাবার দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা এক আবেদনের পর আদালত এ নির্দেশ দেয়।

পুলিশ বিক্ষোভস্থলে অবস্থানরত সিজেপির সমর্থকদেরও এলাকা ছেড়ে যেতে বলে। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, এক নারী বিক্ষোভকারীকে পুলিশ সদস্যরা তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

রয়টার্সের সংখ্যালঘু মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, হাসপাতালে নেওয়ার পরও ওয়াংচুক সচেতন ছিলেন এবং তার শারীরিক গুরুত্বপূর্ণ সূচক (ভাইটাল সাইন) স্থিতিশীল রয়েছে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সাংবাদিকদের বলেন, “তারা সোনম স্যারকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গেছে। প্রায় ৬০ বছর বয়সী একজন মানুষ, যিনি ২০ দিন ধরে অনশনে ছিলেন এবং কিছুই খাননি, তাকে দিল্লি পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে গেছে। তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই।”

সিজেপির বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হলে তারা সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রা করবেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ওয়াংচুক

সিজেপির আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। অনশনের শুরু থেকে তিনি মঞ্চের মাঝখানে একটি গদির ওপর শুয়ে ছিলেন। তার চারপাশে সমর্থক ও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল।

গত বছর মোদি সরকার অভিযোগ করেছিল, হিমালয় অঞ্চলের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে সহিংস বিক্ষোভ চলাকালে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ওয়াংচুক মানুষকে উসকে দিয়েছিলেন। ওয়াংচুকের বাড়ি লাদাখে।

তিনি প্রায় ছয় মাস কারাগারে ছিলেন। চলতি বছরের মার্চে মুক্তি পান। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওই সহিংস বিক্ষোভ ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

অনশনের তৃতীয় দিনে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াংচুক বলেছিলেন, “আমি মারা না গেলে এই অনশন ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।”

তিনি আরও বলেছিলেন, “তবে আশা করি, বিষয়টি এত দূর গড়াবে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি সংবেদনশীল সরকার মানুষের কষ্টের কথা শোনে। আমি আশা করি, সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”

ওয়াংচুকের অনশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ইনস্টাগ্রামে এক লাখেরও বেশি রিল প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা তাকে অনশন ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত