Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

পর্যটকেরা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কেন?

সৈকত সাহা

সৈকত সাহা

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২২: ২০
পর্যটকেরা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কেন?

একদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, অন্যদিকে সিলেটের সবুজ চা-বাগান; আবার দক্ষিণে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত। প্রকৃতি, সংস্কৃতি, খাবার, মানুষ–সব মিলিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক রঙিন গন্তব্য হতে পারত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সৌন্দর্যমণ্ডিত দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু বাস্তবতা হলো–বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে বাংলাদেশ এখনো অজানা। প্রশ্ন উঠছে, এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কেন বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারছে না?

Advertisement

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মাত্র ছয় লাখ ৫০ হাজার পর্যটক বাংলাদেশে ভ্রমণ করেছেন। এই সংখ্যা প্রতিবেশী ভারতের তুলনায় তো কমই, পুঁচকে শ্রীলঙ্কার চেয়েও খুবই কম।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বা দর্শনীয় স্থানের অভাব নয়, বরং ভাবমূর্তি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ ও প্রচারের ঘাটতিই বাংলাদেশকে পর্যটনের মূলধারা থেকে দূরে রেখেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমা বিশ্বের অনেক মানুষের কাছে বাংলাদেশ মানেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দারিদ্র্য, আন্দোলন কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতা। নেটিভ আই ট্রাভেলের পরিচালক জিম ও’ব্রায়েন বলেন, বাংলাদেশের নাম এলেই মানুষের মনে এক ধরনের ভয় কাজ করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেশটির খবর মানেই, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ’।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ব্রিটিশ পর্যটক আনন্দ প্যাটেল ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে ঘুরতে আসেন। তিনি সিএনএনকে বলেন, ‘‘আমি যখন লোকজনকে বলেছিলাম, বাংলাদেশ যাচ্ছি। তখন একজন বলেছিল, কেন? মানুষ তো বাংলাদেশ ছেড়ে এখানে আসতে চায়। এটা কোনো সাজানো পর্যটন স্পট ছিল না। একদম খাঁটি গ্রামবাংলার বাজার, নৌকাভর্তি ফলমূল, কৃষক আর খাবারের দোকান–অসাধারণ অভিজ্ঞতা।”

আইরিশ পর্যটক গ্যারি জয়েস বলেন, ‘‘পুরান ঢাকার শহরের কোলাহল, শব্দ, মানুষের ভিড়–সব মিলিয়ে শহরটা যেন কখনো ঘুমায় না।’’

তবে এসব ইতিবাচক অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খুব কমই পৌঁছায়। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের নেতিবাচক চিত্র।

ঢাকার ট্যুর গাইড কাউসার আহমেদ মিলন সিএনএনকে বলেন, ‘‘অনেক ইউটিউবার শুধু ভিউ পাওয়ার জন্য বস্তি, ময়লা বা ট্রেনের ছাদে যাত্রার ভিডিও বানায়। এতে বাংলাদেশকে অগোছালো ও বিপজ্জনক দেশ হিসেবে দেখানো হয়।”

পর্যটন উদ্যোক্তা ফাহাদ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ভ্রমণ করা এখন আগের চেয়ে সহজ হয়েছে, কিন্তু বিদেশিদের কাছে দেশটিকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা এখনো কঠিন। তার মতে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রচার না বাড়ালে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো কঠিন হবে।

লুপাইন ট্রাভেলের প্রতিষ্ঠাতা ডিলান হ্যারিস বলেন, ‘‘নির্বাচনের সময় অস্থিরতা পর্যটকদের ভয় পাইয়ে দেয়। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের কারণে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’’

জেন-জি বিক্ষোভে নেপালে পর্যটন খাতে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতিnepal protest 3

কারণ আসলে কী?

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতিবাচক ধারণা এই খাতের বড় বাধা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচয় মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে যুক্ত–যা দেশের প্রকৃত সৌন্দর্য ও জীবন্ত সংস্কৃতিকে আড়াল করে দেয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যেসব পর্যটক বাংলাদেশে আসেন, তাদের ভাষ্য–এখানকার মানুষের আন্তরিকতা, ব্যস্ত নগরের রঙিন জীবন, ভাসমান বাজার বা গ্রামীণ নদীপথের দৃশ্য ভোলার মতো নয়।

ট্যুর অপারেটররা মনে করেন, সঠিক প্রচার, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে উঠলে পর্যটন খাত পাল্টে যেতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো যখন পর্যটনকে অর্থনীতির শক্ত ভিত হিসেবে দাঁড় করাতে পেরেছে, তখন বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে। পর্যটকবিষয়ক ভারতীয় ওয়েবসাইট ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও দুর্বল পরিকল্পনার কারণে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক সহিংসতা, বিক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছে। বড় শহরগুলোতে প্রায়ই আন্দোলন ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা যানবাহন চলাচল ব্যাহত করে এবং ভ্রমণকে অনিরাপদ করে তোলে।

সুন্দরবন। ছবি: পেক্সেলস
সুন্দরবন। ছবি: পেক্সেলস

বাংলাদেশের পর্যটন অবকাঠামোও বড় দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। কক্সবাজারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত গন্তব্য থাকলেও সেখানে মানসম্মত সুযোগ–সুবিধা, পরিকল্পিত বিনোদন ব্যবস্থা ও বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে এই অঞ্চলের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ওয়ার্ল্ড বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা–পর্যটন খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে বিপুল আয় করছে। ২০২৪ সালে ভারত পর্যটন থেকে আয় করেছে প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলার, নেপালের পর্যটন খাত জিডিপির ৬ শতাংশের বেশি অবদান রেখেছে। বিপরীতে, বাংলাদেশে পর্যটন আয় ছিল মাত্র ৪৪ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় কম।

পর্যটকদের সন্তুষ্টির অভাবও বড় সমস্যা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবাসন ও খাবারের উচ্চমূল্য, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত বাজার এবং দুর্বল সেবার কারণে অনেক পর্যটক বিরক্ত হন। পর্যটনবান্ধব ব্যবস্থার অভাব বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ব্যাংকক, দিল্লি বা টোকিওর মতো শহরের সঙ্গে তুলনা করলে ঢাকা এখনো অনেক পিছিয়ে।

আরও কী সংকট?

বাংলাদেশে ভ্রমণ নিয়ে ২০২৪ সালে সতর্কতা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে বাংলাদেশকে ‘লেভেল–৩’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বাংলাদেশে ভ্রমণের আগে নতুন করে ভাবতে বলা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কারণে এই সতর্কতা আরও কড়া করা হয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের দূতাবাসের সতর্কতাus embassy

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়, বাংলাদেশে এখনও বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এবং সহিংস ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জনসমাবেশ যেকোনো সময় সহিংস রূপ নিতে পারে। সে কারণে মার্কিন নাগরিকদের এসব জায়গা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান–এর ক্ষেত্রে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব এলাকাকে ‘লেভেল–৪: ডু নট ট্রাভেল’ বা একেবারেই ভ্রমণ না করার তালিকায় রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এসব এলাকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, অপহরণ, সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর সক্রিয়তার ঝুঁকি রয়েছে। অতীতে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ও সহিংস ঘটনার নজির থাকায় বিদেশিদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সরকার পরিবর্তন, এবং এর পরবর্তী সহিংসতায় বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগও বাংলাদেশ নিয়ে বিদেশি গণমাধ্যমে নেতিবাচক ধারণা জোরদার করেছে।

বাংলাদেশ কোথায় পিছিয়ে?

বাংলাদেশের পর্যটন খাত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় এখনও অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে পর্যটন ব্যবসায় পতন ঘটেছে এবং সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে, যেগুলোর পেছনে অনেক সময় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচার না হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সিলেটের চা বাগান। ছবি: পেক্সেলস
সিলেটের চা বাগান। ছবি: পেক্সেলস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন ও আতিথেয়তা বিভাগের শিক্ষক কামরুল হাসান ইউএনবিকে বলেন, “অনেক দেশই বাংলাদেশকে নিরাপদ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দেখে না। পর্যটকরা যে মাত্রার নিরাপত্তা প্রত্যাশা করেন, সেটি এখানে অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত।”

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৩ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে, যেখানে বৈশ্বিকভাবে পর্যটনের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ–ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা কিংবা মালদ্বীপ–সবকটিই এই খাতে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সর্বশেষ সূচকে পর্যটন শিল্পের আকার বিবেচনায় বাংলাদেশ ১০৯তম অবস্থানে রয়েছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় নয় ধাপ পেছনে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও থাইল্যান্ড রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কোভিড–পরবর্তী ধাক্কা কাটিয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ নিয়ে পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই ধরনের কার্যকর উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক পর্যটন যেখানে দ্রুত বাড়ছে, সেখানে বাংলাদেশে এই খাত স্থবিরই রয়ে গেছে।

শুধু নিরাপত্তা নয়, পর্যটনের বৈচিত্র্যের অভাবও বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শোয়েব-উর-রহমান ইউএনবিকে বলেন, “বাংলাদেশের পর্যটন খাত দশক আগের অবস্থাতেই পড়ে আছে। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। পর্যটকদের কেন বারবার বালি বা পাতায়া যায়, কিন্তু কক্সবাজারে ফিরে আসতে আগ্রহী হয় না–তা বিশ্লেষণ করা জরুরি।”

পর্যটকদের অভিযোগের তালিকায় আছে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত হোটেল, খাবার ও পরিবহন ব্যবস্থা। কক্সবাজারে হোটেল ভাড়া ও খাবারের দাম অস্বাভাবিক বেশি বলে অভিযোগ করেন অনেক ভ্রমণকারী। এতে পর্যটকদের মধ্যে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়।

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পর্যটন পণ্যের বৈচিত্র্য এবং পরিকল্পিত বিনিয়োগ ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন খাতের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন বাজারে টিকে থাকতে হলে এখনই কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন তারা।

বিষয়: কক্সবাজারশ্রীলংকাবাংলাদেশজিডিপিপর্যটনশিল্পপর্যটনকেন্দ্রভারতসুন্দরবনপর্যটন
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, নারায়ণগঞ্জে দগ্ধ ৪

  • ২

    যে হাটে নেই কোনো প্লাস্টিক পণ্য

  • ৩

    ‘নিষিদ্ধ করার কর্তৃপক্ষ তো তুমি না’

  • ৪

    তরুণদের আন্দোলন ‘সফল’ করেছেন মোদি!

  • ৫

    ‘রাজনৈতিক রিকনসিলিয়েশনের বিষয়টা এখন সময়ের দাবি’

সম্পর্কিত
  • নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

    নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

    বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে কেবল গঙ্গা নদীকে ঘিরে। আগামী ১২ ডিসেম্বর গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন বা সংশোধিত চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে গ্যারান্টি ধারা অন্তর্ভুক্ত করাকে

  • বিদেশি তারকাদের নিয়ে ঢাকায় কনসার্ট করা কেন কঠিন হয়ে যাচ্ছে?

    বিদেশি তারকাদের নিয়ে ঢাকায় কনসার্ট করা কেন কঠিন হয়ে যাচ্ছে?

    কয়েক বছর আগেও আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক তারকা- বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ সারির সুরকার ও শিল্পীদের পরিবেশনায় মুখরিত থাকত ঢাকার কনসার্ট অঙ্গন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি শিল্পীদের নিয়ে আয়োজিত কনসার্টের টিকিট কেনা দর্শক-শ্রোতাদের জন্য যেন এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • ককরোচ পার্টির আন্দোলন সামনে রেখে কী চলছে দিল্লিতে?

    ককরোচ পার্টির আন্দোলন সামনে রেখে কী চলছে দিল্লিতে?

    ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণ (এসআইআর ) বাতিলের দাবিতে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। এই বিক্ষোভঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

  • আফগানিস্তানকেও টেস্টে ‘ভয়’ পাচ্ছে বাংলাদেশ?

    আফগানিস্তানকেও টেস্টে ‘ভয়’ পাচ্ছে বাংলাদেশ?

    একদিন বাদেই বাংলাদেশের একটা টেস্ট ম্যাচ, তবে তার আগে নেই কোনো উত্তাপ। এমনকি অনেকেই জানেন না যে কাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে লাল বলের ক্রিকেট খেলবে নাজমুল হোসেনের দল। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এমন একটি ম্যাচে চলতি বছরই জিম্বাবুয়ের কাছে ভরাডুবি হয়েছিল বাংলাদেশ দলের। তা