পশ্চিমবঙ্গের ছোট একটি গ্রামে জন্ম শাহিদা ফকিরের। এত দিন তিনি নিশ্চিন্তে ভোট দিয়ে এসেছেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন দেখলেন, ভোটার তালিকায় আর তার নাম নেই। পরে নিজের জন্মসনদ এবং জমির নথিপত্র কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেন শাহিদা। কয়েক দশক ধরে তার বাবা-মায়ের নামও ভোটার তালিকায় ছিল। সেই প্রমাণও দেখান তিনি। কিন্তু এপ্রিলে ভোটার তালিকার চূড়ান্ত সংশোধিত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, সেখানে শাহিদার নাম নেই।
৩৮ বছর বয়সী শাহিদার জন্ম এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে। তিনি কাজের জন্য অন্য জায়গায় থাকেন। তবে শুধু শাহিদাই নন, এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন আরও অনেকে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত বছর থেকে ভারতের ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নামের একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
৩৮ বছর বয়সী শাহিদার জন্ম এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে। ছবি: দ্য গার্ডিয়ানের সৌজন্যে
ভারত স্বাধীন হওয়ার পর প্রায় আট দশকে এত অল্প সময়ে ভোটার তালিকা থেকে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম আগে কখনো বাদ পড়েনি।
নরেন্দ্র মোদির সরকার বলছে, ভোটার তালিকা থেকে ভুলত্রুটি দূর করতেই এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এই প্রক্রিয়ায় মৃত ব্যক্তি ও একই ব্যক্তির একাধিক নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ জীবিত ভারতীয় নাগরিকের নামও বাদ পড়েছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
সমালোচকদের অভিযোগ, অবৈধ অভিবাসীদের নাম বাদ দিয়ে ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন করার কথা বলা হলেও, এই প্রক্রিয়াকে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি মুসলিম, অন্যান্য সংখ্যালঘু, দরিদ্র এবং নিম্নবর্ণের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই বিজেপিকে ভোট দেন না বলে দাবি সমালোচকদের।
সম্প্রতি এসআইআর নিয়ে ভারতজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের বড় বড় শহরের রাজপথে নেমে এসেছেন হাজারো মানুষ। এতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মোদি সরকার।
গত সপ্তাহে দিল্লিকে প্রায় দুর্গের মতো নিরাপত্তাবেষ্টনীতে পরিণত করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয় ব্যারিকেড ও সড়ক অবরোধ। মোতায়েন করা হয় হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। বিক্ষোভ ঠেকাতে আটক করা হয় হাজার হাজার মানুষকে।
তরুণদের নেতৃত্বে চলা এই বিক্ষোভের মূল দাবি ছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। ভারতের বিরোধী দলগুলোও এই আন্দোলনে যোগ দেয়। মোদি সরকার ভোট কারচুপির হাতিয়ার হিসেবে এসআইআরকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
গত সোমবার রাজধানী দিল্লিতে মিছিল করেন কয়েক হাজার বিরোধী সমর্থক। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন জমা দেন তারা। তার আগে ১০ অক্টোবর বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। সংগঠনটি জানিয়েছে, এসআইআরের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন চলবে।
বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের নেতাদের অভিযোগ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে বিজেপিকে নির্বাচনী সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে। অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
দ্য গার্ডিয়ান বলছে, কারো কারো মতে, এই প্রক্রিয়ার প্রভাব আরও উদ্বেগজনক। তাদের মতে, জ্ঞানেশ কুমার এককভাবে এসআইআরের নিয়মে যেসব পরিবর্তন এনেছেন, তাতে কে ভারতের নাগরিক আর কে নন–নির্বাচন কমিশন কার্যত তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা পেয়ে গেছে।
সমালোচকদের দাবি, এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে তার নির্ধারিত দায়িত্বের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান বলছে, এর প্রভাব ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে দেখা যাচ্ছে। সেখানে সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় এসেছে। এরপর ‘অবৈধ’ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে দলটি। এ জন্য কয়েকটি নতুন আটককেন্দ্রও তৈরি করা হয়েছে।
নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মুসলিমদেরই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। শাহিদাও তাদের একজন।
ভোটার তালিকা প্রকাশের মাত্র তিন মাস পরই তাকে পুলিশ আটক করে। অথচ ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানি তখনো হয়নি। পুলিশ তাকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী বলে অভিযোগ করে।
জুলাই মাসে তাকে জোর করে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অথচ এর আগে কখনো বাংলাদেশে আসেননি শাহিদা। দেশটির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কও নেই। সেই থেকে বাংলাদেশেই আটকে আছেন এই নারী।
বাংলাদেশ সীমান্তের একটি গ্রামে আশ্রয় নেওয়া শাহিদা ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি যে ভারতের নাগরিক, তা প্রমাণ করার জন্য আমার কাছে সব নথিপত্র আছে। পুলিশ যেন আমাকে বাংলাদেশে না পাঠায়, সে জন্য তাদের পায়ে পড়ে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা আমাকে জোর করে সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দিয়েছে।”
বাংলাদেশের এক সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তা শাহিদার বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, তারা শাহিদার সব নথিপত্র যাচাই করেছেন। তিনি ভারতের নাগরিক বলেই বিশ্বাস তাদের।
সেপ্টেম্বরে শাহিদাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার পরিবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। এ বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
শাহিদা বলেন, “আমি শুধু আমার পরিবার আর ভারতে নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে চাই। সেই দিনের অপেক্ষায় আমি অধীর আগ্রহে বসে আছি।”
তবে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আবেদন করেছেন লাখ লাখ মানুষ। এসব আবেদনের দীর্ঘ জটের কারণে শাহিদার মামলার শুনানি হতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের যেসব মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই বলছেন, নিজের দেশেই বিদেশি হিসেবে অভিযুক্ত হওয়ার ভয়ে তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কারো কারো সরকারি সুযোগ-সুবিধাও বন্ধ হয়ে গেছে।
দিল্লিতে ৩০ বছর ধরে বসবাস করছেন ৬০ বছর বয়সী প্রশান্ত ট্যান্ডন। ভোটার হিসেবে তার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাড়িতে একটি নোটিশ আসায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন। ক্ষুব্ধ ট্যান্ডন দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, “কেউ যদি আমার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ করে, তাহলে আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ হাজির করতে হবে।”
প্রশান্ত আরও জানান, তরুণদের সঙ্গে তিনিও বিক্ষোভে যোগ দেবেন। তিনি বলেন, “আমি ভারতের নাগরিক, এটা আমাকে প্রমাণ করতে হবে কেন?”
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ৮০ বছর বয়সী মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ সিদ্দিকী দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, তার দাদা ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন। তার পরিবারের তিন প্রজন্মের সদস্যদের নামও ভোটার তালিকায় ছিল। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ার পর তিনি দেখেন, তালিকায় তার নাম নেই। এতে তিনি চরম অপমানিত বোধ করেন।
সিদ্দিকী বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম মুছে দেওয়ার পর থেকে আমি সব সময় আতঙ্কে থাকি। যদি আমাকে আটককেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়? এই বয়সে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের থেকে দূরে যাওয়ার কথা আমি ভাবতেও পারি না। বিশেষ করে যখন আমার পূর্বপুরুষদের সবাইকে ভারতের মাটিতেই দাফন করা হয়েছে।”
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ৮০ বছর বয়সী মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ। ছবি: দ্য গার্ডিয়ানের সৌজন্যে
সমালোচকদের দাবি, সমস্যার শুরু ২০২৩ সালে। সে বছর তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনে মোদি সরকার। এর ফলে প্রথমবারের মতো কমিশনের সদস্য নিয়োগে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। কয়েক মাসের মধ্যেই মোদির নেতৃত্বাধীন নিয়োগ কমিটি বিরোধীদের আপত্তি উপেক্ষা করে জ্ঞানেশ কুমারকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া অধ্যয়ন কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ গবেষক রণজয় সেন দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, “কয়েক দশক ধরে নির্বাচন কমিশন ছিল ভারতের তুলনামূলকভাবে বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। কিন্তু এখন সেই স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
২০২৪ সাল থেকে নতুন নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রথমে বিহারে এই কাজ শুরু হয়। সেখানে ভোটার তালিকা থেকে ৬০ লাখের বেশি নাম বাদ পড়ায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের কিছুদিন পরই বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পায় বিজেপি।
এসআইআর নিয়ে কয়েক মাস ধরে উদ্বেগ ও বিতর্ক চললেও দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়নি। গত মাসে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ একটি তথ্য প্রকাশ করার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য ১৪টি আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একক সিদ্ধান্তে তাদের সব আপত্তি খারিজ করে দেন।
রণজয় সেন বলেন, ভারত সব সময়ই নানা ত্রুটিসহ একটি গণতান্ত্রিক দেশ ছিল। তবে নাগরিকেরা মনে করতেন, তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার অন্তত আছে এবং নিয়মিত ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। কিন্তু এসআইআর সেই অধিকার কেড়ে নিয়েছে।
ভারতের সাবেক তিন নির্বাচন কমিশনারও প্রকাশ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, ভোটার তালিকায় নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করার বদলে নাম বাদ দেওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় দেশের ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওপি রাওয়াত ভোটার নিবন্ধনের ফরমে আনা পরিবর্তনকে ‘ভুল ও বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে থাকা অশোক লাভাসা এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। গত মাসে তিনি বলেন, “দেশের লাখ লাখ মানুষের ওপর একটি অন্যায্য পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর বিচার বিভাগও সেটিকে বৈধতা দিয়েছে। ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?”
এসআইআরের সবচেয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে থাকা এসওয়াই কুরেশি। তার অভিযোগ, মুসলিমদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই দেশজুড়ে এই হয়রানিমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ভারতের নির্বাচনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায় হলো, যেসব ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের আবার তালিকায় ফিরিয়ে আনা।
বিজেপি অবশ্য এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপির জয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিরোধী দল কংগ্রেস এসব অভিযোগ তুলছে। বিজেপি আরও বলেছে, যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা চাইলে আবার ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে পারবেন।
বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী এসব অভিযোগকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন। তার দাবি, বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে এই প্রচার চালাচ্ছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে মনে হচ্ছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটি থাকার বিষয়টি তারা স্বীকার করেছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জমা দেওয়ার ফরমের সংখ্যায় সীমা নির্ধারণ করে কমিশন। এসব ফরমের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্য কারো নাম বাদ দেওয়ার আপত্তি জানাতে পারেন।
এর আগে কিছু ঘটনায় দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি বৈধ মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে হাজার হাজার ফরম জমা দিয়েছেন। এসব ঘটনার পরই কমিশন ফরম জমা দেওয়ার সংখ্যায় সীমা আরোপ করে।
এদিকে, এসআইআর নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছেই। দিল্লিতে এই প্রক্রিয়ার কারণে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সেখানে চলতি সপ্তাহেও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।