ভারতের তরুণদের নেতৃত্বাধীন কক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতাকে পাঁচ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে একটি আদালত। আজ বুধবার দলটি ও পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। এর এক দিন আগে তারা ব্যারিকেড টপকে বিক্ষোভের জন্য জনপ্রিয় একটি ঐতিহাসিক স্থানে প্রবেশ করেন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।
এই দুই নেতার কারাবাসকে কেন্দ্র করে তরুণ সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন বিরোধী দল ও ছাত্রসংগঠনগুলো প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়ে বিতর্কের জেরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই সংশোধন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দিচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন কোনো রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশন বলেছে, যেসব ভোটারের নাম ভুলভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা পুনরায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন। অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অযথা প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
সিজেপির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস গতকাল মঙ্গলবার দিল্লির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত যন্তর মন্তরের উন্মুক্ত মানমন্দির চত্বরে প্রবেশের জন্য ব্যারিকেড টপকে যাওয়া প্রায় এক ডজন মানুষের মধ্যে ছিলেন।
পুলিশ এ সপ্তাহে জানিয়েছে, আগে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত থাকলেও যন্তর মন্তর এখন আর আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভস্থল হিসেবে স্বীকৃত নয়।
দুই নেতার আইনজীবী অভিশ্ত হেলা সাংবাদিকদের বলেন, গত সপ্তাহে আটক অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার সময় কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া আইনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করায় দাস ও রাঙ্কাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দিল্লি পুলিশও জানিয়েছে, তাদের ‘বারবার আইন লঙ্ঘন’ এবং জামিনে মুক্তি পেলে তারা ‘আবার আইন ভঙ্গ করবেন এবং অন্যদেরও আইন ভঙ্গ করতে উসকানি দেবেন’—এমন গুরুতর আশঙ্কার কারণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
‘আমরা ভয় পাব না’, বলল সিজেপি
ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি পাওয়া সিজেপি নেতা অজিঙ্ক্য শিন্ডে বলেছেন, নেতাদের কারাবাসে দল ভয় পাবে না।
তিনি বলেন, “আমরা এই স্বৈরাচারী সরকারের অবসান ঘটাব।”
গত কয়েক মাসে সরকারি স্কুলের অবকাঠামো থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভ সংগঠিত করেছে ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন। ক্ষমতায় থাকার ১২ বছরে মোদি ও তার বিজেপির জন্য এটি অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের কয়েক সপ্তাহব্যাপী অবস্থান বিক্ষোভের মুখে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার এক প্রতিবেদনের পর নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধনপ্রক্রিয়া ও ডিজিটাল ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের দুই ডেপুটি অভ্যন্তরীণভাবে একাধিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মতে, এসব সম্প্রদায়ের মানুষের ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপিকে সমর্থন করার সম্ভাবনা কম। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি উভয়েই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।