ads

ফ্রান্স–মরক্কো: বন্ধু যখন শত্রু

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ফ্রান্স–মরক্কো: বন্ধু যখন শত্রু

২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের পর আরও একবার বিশ্বসেরার মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো। শেষ আটে যাওয়ার লড়াইয়ে দল দুটির এই ম্যাচে মাঠের বাইরেও রয়েছে ঐতিহাসিক যোগসূত্র, যা তাদের একসুতোয় গেঁথেছে। উপনিবেশ-পরবর্তী সময়ের ইতিহাস, অভিবাসন, দুই দেশের মধ্যকার পারিবারিক বন্ধন এবং ফুটবলের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ফান্স ও মরক্কোর বন্ধনকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটিকে সামনে রেখে ফ্রান্সে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে খেলা যেখানে হবে, সেই বোস্টনে ম্যাচের আবহ ভিন্ন থাকতেই পারে। কারণ দুই দেশের মানুষ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছে ভাষাগত, পারিবারিক ও বন্ধুত্বের গভীর এক যোগসূত্র।

মরক্কো জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফ্রান্সেই। সেই সুবাদে না হলেও পিএসজিতে একসঙ্গে খেলার সময় থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আশরাফ হাকিমির হয়েছে গভীর বন্ধুত্ব। ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে এটিও আলোচ্য বিষয়।

ইতিহাসের বন্ধন

১৯১২ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ফরাসি প্রটেক্টরেটের অধীনে ছিল মরক্কো। এরপর মরক্কো স্বাধীনতা অর্জন করলেও শিক্ষা, ব্যবসা ও অভিবাসন দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সুন্দর একটা সম্পর্ক অটুট রয়েছে। আর সেই সম্পর্কের সবচেয়ে আদর্শ প্রতিফলন ঘটেছে ফুটবলে।

মরক্কোর বিশ্বকাপ দলে এমন ছয়জন খেলোয়াড় আছেন, যাদের জন্ম ফ্রান্সে। এছাড়া আরও কয়েকজন রয়েছেন, যারা ফ্রান্সের শীর্ষ লিগে খেলছেন বা দেশটির যুব ফুটবল কাঠামোতে বেড়ে উঠেছেন। ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে খেলার যোগ্যতা থাকলেও পরে বেঁছে নিয়েছেন মরক্কোকেই।

মরক্কোর ফুটবল এভাবেই বদলে গেছে। টানা দুই বিশ্বকাপে শেষ আটে জায়গা করে নেওয়া তারই সাক্ষ্য দেয়। ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেড়ে ওঠা প্রবাসী প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে দেশটির জাতীয় দল।

ফ্রান্সে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আইয়ুব বুয়াদি তেমনই একজন। ফ্রেঞ্চ ক্লাব লিল-এর একাডেমিতে খেলার পর ফ্রান্সের যুব দলের প্রতিনিধিত্বও করেছেন। তবে জাতীয় দলের জন্য তিনি মরক্কোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।

২০২২ সালের পুনর্মিলন

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচটি বুয়াদি সহ অনেকের জন্যই তাই ছিল বিশেষ মুহূর্ত। আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল সেবার জায়গা করে নেয় মরক্কো। অন্যদিকে ফ্রান্স নেমেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে।

সেই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স জিতেছিল মরক্কো। তবে ছেড়ে কথা বলেনি আফ্রিকান দেশটি। গোটা আসরে তাদের ফুটবল মন জয় করে নেয় বিশ্বব্যাপী ফুটবলপ্রেমীদের।

বোস্টনে উৎসবের আমেজ

চার বছর বাদে বোস্টনে শেষ আটের মহারণে মুখোমুখি এই দুই দল। সেখানে বৃহত্তর মরক্কান সম্প্রদায় না থাকলেও, মরক্কো থেকে আসা পরিবার, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি চমৎকার কমিউনিটি রয়েছে। আবার এমন অনেকেও এখানে বসবাস করেন, যাদের আদি নিবাস ফ্রান্সে।

তাই এই ম্যাচে কোনো বিভাজন নয়, সম্প্রীতি মেলবন্ধন দেখছেন ৫৭ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক মোহাম্মদ সাদি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, “এখানে অনেকেই একই ভবনে থাকেন। ফরাসি ও মরক্কোর লোকেরা সবাই একসঙ্গে ম্যাচটা দেখবেন। আমি নিশ্চিত ম্যাচ শেষে আবার হাতও মেলাবেন। ফুটবল একটা পারিবারিক বিষয়, ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচও ভিন্ন কিছু না। বরং এখানে আরও বেশি উৎসব হবে।”

মরক্কোর প্রতিটি ম্যাচের আগে বোস্টন কমন-এ এক হাজারের বেশি সমর্থক ‘দিমা আল-মাগরিব’ স্লোগান দিয়ে সমবেত হন। একই চিত্র থাকবে ফ্রান্স ম্যাচেও।

ফিনল্যান্ড থেকে আসা ৩৬ বছর বয়সী সফটওয়্যার প্রকৌশলী ইউসুফ বেন্নানির আশা, আনন্দময় পরিবেশেই ম্যাচটা দেখা যাবে। তিনি বলেছেন, “আমি ফিনল্যান্ড থেকে এসেছি। মরক্কোর সব ম্যাচেই উপস্থিত ছিলাম। এখানে এসে অনেক মরক্কান ও ফরাসি সমর্থকের সঙ্গে দেখা হয়েছে। আগামীকাল এখানে বড় একটা উৎসব হবে।”

সম্পর্কিত