চরচা ডেস্ক

ভিয়েতনামের অর্থনীতি বিদ্যুৎগতিতে এগিয়ে চলেছে। ‘কমিউনিস্ট’ এই দেশের জিডিপিও বেশ উল্লেখযোগ্যভাবেই বাড়ছে। আর অবকাঠামোগত অগ্রগতি থেকে মনে হয়, হ্যানয়ে সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশই এখন যেন মূল লক্ষ্য।
সেই ধারাবাহিকতায়ই গত ১৯ ডিসেম্বর ভিয়েতনামে ‘দং সন ব্রঞ্জ ড্রাম স্টেডিয়াম’-এর নির্মাণকাজ শুরু করেছেন শ্রমিকরা। ১ লাখ ৩৫ হাজার আসনের এই বিশাল স্পোর্টস কমপ্লেক্সটির নামকরণ করা হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দে ভিয়েতনামে বসবাসকারী ব্রঞ্জ-কাস্টারদের নামানুসারে।
এর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ভিনগ্রুপ জানিয়েছে, আসন সংখ্যার দিক থেকে এটি হবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়াম এবং এখানে থাকবে বিশ্বের বৃহত্তম সংকোচনযোগ্য ছাদ ব্যবস্থা। ৩৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল স্পোর্টস-থিম মেগাপ্রজেক্টের কেন্দ্রে থাকবে এটি।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ২০৩৫ সালের মধ্যে। দেশটির শীর্ষ নেতা তো লাম ভিয়েতনামের জন্য যে ‘জাতীয় উত্থানের যুগে’র ঘোষণা দিয়েছেন, এই বিশাল স্থাপত্য যেন তারই এক জুতসই প্রতিফলন।
কিন্তু একেই ভিয়েতনামের একমাত্র মেগা প্রজেক্ট ভাবলে ভুল হবে। গত ডিসেম্বরে দেশটির কমিউনিস্ট সরকারের অনুমোদন পাওয়া কয়েকশ প্রকল্পের মধ্যে এটি একটি। অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে উত্তর ভিয়েতনামের রেড রিভার অববাহিকা জুড়ে ৩২ বিলিয়ন ডলারের সড়ক নির্মাণ এবং কম্বোডিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী একটি নতুন মোটরওয়ে।
পাশাপাশি, পুরোনো প্রকল্পগুলোও এখন আলোর মুখ দেখছে। হো চি মিন সিটির কাছে নবনির্মিত একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১৯ ডিসেম্বর প্রথম ফ্লাইট অবতরণ করেছে। এর যাত্রীরা অবশ্য ছিলেন দলীয় ক্যাডার। সব মিলিয়ে, চলতি বছর সরকারি অবকাঠামো খাতে ব্যয় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪৫ ট্রিলিয়ন ডং-এ দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার বা জিডিপির ৭ শতাংশ। ২০২৬ সালের বাজেট অনুযায়ী, আগামী বছর এই ব্যয় আরও ৩৪ শতাংশ বাড়তে পারে। উন্নয়নের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং ব্যয়ের পরিমাণ ২০০৫ থেকে ২০১০ এর দশকের শুরুর দিকে চীনের সেই স্বর্ণালী সময়ের সরকারি বিনিয়োগের হারের সমতুল্য।
এই বিশাল ব্যয়ের লক্ষ্য হলো আকাশচুম্বী প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা, যা লামের উচ্চাভিলাষী সংস্কার অভিযানের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই অর্থের যোগান আসছে কর রাজস্ব থেকে, যা গত এক বছরেই ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে এটি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
রপ্তানির ঊর্ধ্বগতির ওপর ভর করে ২০২৫ সালে ভিয়েতনামের অর্থনীতি ৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা বেশ দ্রুত হলেও ওই বছরের নির্ধারিত ৮.৩ থেকে ৮.৫ শতাংশ লক্ষ্যের চেয়ে কিছুটা কম। যদিও চলতি বছরের ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা আরও কঠিন বলে মনে হচ্ছে, তবুও আশাবাদী হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি অব ভিয়েতনামের জেনারেল সেক্রেটারি লামের বড় সংস্কারগুলো এখনও পূর্ণ কার্যকর হওয়া বাকি। এর মধ্যে রয়েছে রেজোলিউশন ৬৮। এর উদ্দেশ্য হলো, কর সুবিধা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করা। পাশাপাশি, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে আরও ঝুঁকি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আর বিনিয়োগকারিরা যে এতে বেশ খুশি, তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। গত কয়েক বছরের মন্দাভাব কাটিয়ে ভিয়েতনামের স্টক ইনডেক্স গত বছর ডলারের হিসাবে ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দিক থেকে দেশটি তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে আছে। এর একটি কারণ প্রযুক্তিগত, গত অক্টোবরে সূচক প্রকাশকারী সংস্থা এফটিএসই রাসেল বলছে, ভিয়েতনাম স্বল্পোন্নত বাজার থেকে উদীয়মান বাজারে উন্নীত হয়েছে। গোল্ডম্যান স্যাকস ব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ কার্যকর হতে যাওয়া এই পরিবর্তনের ফলে উদীয়মান বাজারের প্যাসিভ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলারের মূলধন আসতে পারে। তবে এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণটি হলো, মৌলিক অর্থনৈতিক ভিত্তি। ক্রমবর্ধমান রপ্তানি, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এমনকি ভিয়েতনামের একসময়ের সচেতন ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধির ওপর ভর করে দেশটির প্রবৃদ্ধি এখন বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
এত কিছুর পরেও একটি বিপত্তি আছে। গত বছর শেয়ারবাজারের যে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, তার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এসেছে ভিন গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে-মূল প্রতিষ্ঠান ভিনগ্রুপ, আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠান ভিনহোমস এবং শপিং মল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভিনকম রিটেইল। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিলে সূচকের প্রবৃদ্ধি ৩৭ শতাংশের বদলে মাত্র ১১ শতাংশ হতো। বর্তমান অবকাঠামো উন্নয়নের এই জোয়ারও গুটিকয়েক প্রভাবশালী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বড় করপোরেট গোষ্ঠীর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। এটি মূলত সুপরিকল্পিতভাবেই করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভিয়েতনামের শাসকরা দক্ষিণ কোরিয়ার পারিবারিক মালিকানাধীন বিশালাকৃতির করপোরেট মডেলকে অনুসরণ করছেন। রেজোলিউশন ৬৮ এর মাধ্যমে ভিয়েতনাম ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০টি জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন বা বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য হাতে নিয়েছে।
কিন্তু ভিয়েতনামের এই বৃহৎ করপোরেট গোষ্ঠীগুলো যদি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তখন কি হবে? তাদের কীভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে? এই বিষয়টি একদমই অস্পষ্ট।
আবার তারা রাষ্ট্রীয় সমর্থন ছাড়া তাদের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধাবোধ করছে। উদাহরণস্বরূপ, গত ২৫ ডিসেম্বর ভিনগ্রুপ ভিয়েতনাম জুড়ে একটি রেললাইন নির্মাণের মেগাপ্রকল্প থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়। কিন্তু এর আগে তারা প্রকল্পটি সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, ৬৭ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটি এই প্রকল্পের ৮০ শতাংশ ব্যয়ের জন্য সরকারের কাছে সুদমুক্ত ঋণ চেয়েছিল, যা সরকার প্রত্যাখ্যান করে। অন্যান্য বড় করপোরেট গোষ্ঠী হয়তো এই শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে আসবে, কিন্তু মূল ঝুঁকিটি একই থেকে যাবে। ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বর্তমানে যতটা বিস্ময়করই মনে হোক না কেন, তা মূলত গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের মর্জির ওপর ঝুলে আছে।
*দ্য ইকোনোমিস্টের নিবন্ধ থেকে অনুবাদ করে প্রকাশিত*

ভিয়েতনামের অর্থনীতি বিদ্যুৎগতিতে এগিয়ে চলেছে। ‘কমিউনিস্ট’ এই দেশের জিডিপিও বেশ উল্লেখযোগ্যভাবেই বাড়ছে। আর অবকাঠামোগত অগ্রগতি থেকে মনে হয়, হ্যানয়ে সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশই এখন যেন মূল লক্ষ্য।
সেই ধারাবাহিকতায়ই গত ১৯ ডিসেম্বর ভিয়েতনামে ‘দং সন ব্রঞ্জ ড্রাম স্টেডিয়াম’-এর নির্মাণকাজ শুরু করেছেন শ্রমিকরা। ১ লাখ ৩৫ হাজার আসনের এই বিশাল স্পোর্টস কমপ্লেক্সটির নামকরণ করা হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দে ভিয়েতনামে বসবাসকারী ব্রঞ্জ-কাস্টারদের নামানুসারে।
এর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ভিনগ্রুপ জানিয়েছে, আসন সংখ্যার দিক থেকে এটি হবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়াম এবং এখানে থাকবে বিশ্বের বৃহত্তম সংকোচনযোগ্য ছাদ ব্যবস্থা। ৩৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল স্পোর্টস-থিম মেগাপ্রজেক্টের কেন্দ্রে থাকবে এটি।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ২০৩৫ সালের মধ্যে। দেশটির শীর্ষ নেতা তো লাম ভিয়েতনামের জন্য যে ‘জাতীয় উত্থানের যুগে’র ঘোষণা দিয়েছেন, এই বিশাল স্থাপত্য যেন তারই এক জুতসই প্রতিফলন।
কিন্তু একেই ভিয়েতনামের একমাত্র মেগা প্রজেক্ট ভাবলে ভুল হবে। গত ডিসেম্বরে দেশটির কমিউনিস্ট সরকারের অনুমোদন পাওয়া কয়েকশ প্রকল্পের মধ্যে এটি একটি। অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে উত্তর ভিয়েতনামের রেড রিভার অববাহিকা জুড়ে ৩২ বিলিয়ন ডলারের সড়ক নির্মাণ এবং কম্বোডিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী একটি নতুন মোটরওয়ে।
পাশাপাশি, পুরোনো প্রকল্পগুলোও এখন আলোর মুখ দেখছে। হো চি মিন সিটির কাছে নবনির্মিত একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১৯ ডিসেম্বর প্রথম ফ্লাইট অবতরণ করেছে। এর যাত্রীরা অবশ্য ছিলেন দলীয় ক্যাডার। সব মিলিয়ে, চলতি বছর সরকারি অবকাঠামো খাতে ব্যয় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪৫ ট্রিলিয়ন ডং-এ দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার বা জিডিপির ৭ শতাংশ। ২০২৬ সালের বাজেট অনুযায়ী, আগামী বছর এই ব্যয় আরও ৩৪ শতাংশ বাড়তে পারে। উন্নয়নের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং ব্যয়ের পরিমাণ ২০০৫ থেকে ২০১০ এর দশকের শুরুর দিকে চীনের সেই স্বর্ণালী সময়ের সরকারি বিনিয়োগের হারের সমতুল্য।
এই বিশাল ব্যয়ের লক্ষ্য হলো আকাশচুম্বী প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা, যা লামের উচ্চাভিলাষী সংস্কার অভিযানের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই অর্থের যোগান আসছে কর রাজস্ব থেকে, যা গত এক বছরেই ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে এটি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
রপ্তানির ঊর্ধ্বগতির ওপর ভর করে ২০২৫ সালে ভিয়েতনামের অর্থনীতি ৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা বেশ দ্রুত হলেও ওই বছরের নির্ধারিত ৮.৩ থেকে ৮.৫ শতাংশ লক্ষ্যের চেয়ে কিছুটা কম। যদিও চলতি বছরের ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা আরও কঠিন বলে মনে হচ্ছে, তবুও আশাবাদী হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি অব ভিয়েতনামের জেনারেল সেক্রেটারি লামের বড় সংস্কারগুলো এখনও পূর্ণ কার্যকর হওয়া বাকি। এর মধ্যে রয়েছে রেজোলিউশন ৬৮। এর উদ্দেশ্য হলো, কর সুবিধা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করা। পাশাপাশি, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে আরও ঝুঁকি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আর বিনিয়োগকারিরা যে এতে বেশ খুশি, তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। গত কয়েক বছরের মন্দাভাব কাটিয়ে ভিয়েতনামের স্টক ইনডেক্স গত বছর ডলারের হিসাবে ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দিক থেকে দেশটি তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে আছে। এর একটি কারণ প্রযুক্তিগত, গত অক্টোবরে সূচক প্রকাশকারী সংস্থা এফটিএসই রাসেল বলছে, ভিয়েতনাম স্বল্পোন্নত বাজার থেকে উদীয়মান বাজারে উন্নীত হয়েছে। গোল্ডম্যান স্যাকস ব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ কার্যকর হতে যাওয়া এই পরিবর্তনের ফলে উদীয়মান বাজারের প্যাসিভ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলারের মূলধন আসতে পারে। তবে এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণটি হলো, মৌলিক অর্থনৈতিক ভিত্তি। ক্রমবর্ধমান রপ্তানি, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এমনকি ভিয়েতনামের একসময়ের সচেতন ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধির ওপর ভর করে দেশটির প্রবৃদ্ধি এখন বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
এত কিছুর পরেও একটি বিপত্তি আছে। গত বছর শেয়ারবাজারের যে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, তার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এসেছে ভিন গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে-মূল প্রতিষ্ঠান ভিনগ্রুপ, আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠান ভিনহোমস এবং শপিং মল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভিনকম রিটেইল। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিলে সূচকের প্রবৃদ্ধি ৩৭ শতাংশের বদলে মাত্র ১১ শতাংশ হতো। বর্তমান অবকাঠামো উন্নয়নের এই জোয়ারও গুটিকয়েক প্রভাবশালী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বড় করপোরেট গোষ্ঠীর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। এটি মূলত সুপরিকল্পিতভাবেই করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভিয়েতনামের শাসকরা দক্ষিণ কোরিয়ার পারিবারিক মালিকানাধীন বিশালাকৃতির করপোরেট মডেলকে অনুসরণ করছেন। রেজোলিউশন ৬৮ এর মাধ্যমে ভিয়েতনাম ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০টি জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন বা বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য হাতে নিয়েছে।
কিন্তু ভিয়েতনামের এই বৃহৎ করপোরেট গোষ্ঠীগুলো যদি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তখন কি হবে? তাদের কীভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে? এই বিষয়টি একদমই অস্পষ্ট।
আবার তারা রাষ্ট্রীয় সমর্থন ছাড়া তাদের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধাবোধ করছে। উদাহরণস্বরূপ, গত ২৫ ডিসেম্বর ভিনগ্রুপ ভিয়েতনাম জুড়ে একটি রেললাইন নির্মাণের মেগাপ্রকল্প থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়। কিন্তু এর আগে তারা প্রকল্পটি সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, ৬৭ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটি এই প্রকল্পের ৮০ শতাংশ ব্যয়ের জন্য সরকারের কাছে সুদমুক্ত ঋণ চেয়েছিল, যা সরকার প্রত্যাখ্যান করে। অন্যান্য বড় করপোরেট গোষ্ঠী হয়তো এই শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে আসবে, কিন্তু মূল ঝুঁকিটি একই থেকে যাবে। ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বর্তমানে যতটা বিস্ময়করই মনে হোক না কেন, তা মূলত গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের মর্জির ওপর ঝুলে আছে।
*দ্য ইকোনোমিস্টের নিবন্ধ থেকে অনুবাদ করে প্রকাশিত*

দীর্ঘ ৪৬ বছরের নির্বাসন শেষে ইরানের শেষ শাহের (সম্রাট) নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি কি তবে ফিরছেন? তেহরানের রাজপথ থেকে শুরু করে ওয়াশিংটনের থিঙ্কট্যাঙ্ক সর্বত্র এখন এই একটিই প্রশ্ন। একদিকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের বিরুদ্ধে ইরানে নজিরবিহীন গণবিক্ষোভ, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার মাদুরোকে