সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুব কম ক্ষেত্রেই একক প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে। দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে বিনিয়োগ উভয়পক্ষকেই একসঙ্গে এগিয়ে যেতে, নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে এবং আরও বড় সাফল্য অর্জনে সহায়তা করে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম শীর্ষ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এলপিপি এবং দেশটির পোশাক প্রস্তুতকারক অংশীদারদের সম্পর্ক তারই একটি উদাহরণ। সময়ের সঙ্গে এই সম্পর্ক শুধু ব্যবসার পরিধিই বাড়ায়নি, উভয়পক্ষের জন্যই বয়ে এনেছে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য।
পোল্যান্ডভিত্তিক ফ্যাশন রিটেইলার এলপিপি যখন বাংলাদেশি পোশাক প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে কাজ শুরু করে, তখন প্রতিষ্ঠানটি যেমন আজকের অবস্থানে ছিল না, তেমনি দেশের পোশাকশিল্পের চিত্রও ছিল ভিন্ন। সময়ের সঙ্গে এলপিপি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে; অন্যদিকে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান পোশাক উৎপাদনকেন্দ্র এবং বৈশ্বিক ফ্যাশনশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এলপিপির পারচেজিং ডিরেক্টর জোয়ানা সিকোরস্কা বলেন, “বাংলাদেশে আমাদের প্রবৃদ্ধি সবসময়ই সরবরাহকারীদের উন্নয়নের সঙ্গে সমানতালে এগিয়েছে। এলপিপির ব্যবসার পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় অর্ডার দিতে পেরেছি। একই সময়ে আমাদের অংশীদাররাও নতুন প্রযুক্তি, দক্ষতা ও উৎপাদন সক্ষমতায় বিনিয়োগ করেছে। ফলে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পেরেছি।”
পরিসংখ্যানেও এই অংশীদারিত্বের পরিধি স্পষ্ট। দশ বছর আগে বাংলাদেশে প্রায় ১০০টি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করত এলপিপি। বর্তমানে সেই সংখ্যা ৩৫০ ছাড়িয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এলপিপির বার্ষিক চুক্তির মূল্য প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ কারখানার প্রধান ক্রেতা এলপিপি।
তবে এই সম্পর্ক শুধু সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না।
জোয়ানা সিকোরস্কা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি বাংলাদেশের বাজার এবং আমাদের অনেক সরবরাহকারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। ছোট কারখানাগুলোকে বড় ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে দেখেছি, যেখানে এখন হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আবার তুলনামূলক ছোট অর্ডার দিয়ে শুরু হওয়া সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে রূপ নিতেও দেখেছি। এই আস্থা একদিনে তৈরি হয় না; বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠে।”
বর্তমানে বিশ্বের ৪৭টি বাজারে ৪ হাজারের বেশি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এলপিপি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান অষ্টম।
জোয়ানা সিকোরস্কা বলেন, “এলপিপির প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখানকার অংশীদারদের সঙ্গে আমরা যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ও সহযোগিতা গড়ে তুলেছি, তা নিয়ে আমরা গর্বিত। আমরা আমাদের সরবরাহকারীদের শুধু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখি না; তাদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে দেখি। এই সম্পর্ককে আমরা আরও এগিয়ে নিতে চাই এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পোল্যান্ড—উভয় দেশের জন্যই দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা তৈরি করতে চাই।”