পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, “সরকার দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য উপযোগী গাছের প্রজাতি নির্ধারণে ইতোমধ্যে ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে।”
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী (শনিবার ও রোববার) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর) এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জাতিসংঘের উদ্যোগে ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং ২৮ জুলাই বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস পালন করা হয়ে থাকে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত এবং বৃহত্তম গভীর সমুদ্র সাবমেরিন ফ্যানও বাংলাদেশে অবস্থিত। তাই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভূমিকাও বাংলাদেশকেই নিতে হবে।”
‘সাবমেরিন ফ্যান’ বলতে গভীর সমুদ্র পরিবেশে মহাদেশীয় প্রান্তের কাছে সঞ্চিত পলির স্তরকে বোঝায়। এগুলো হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানের সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে ও ‘বেঙ্গল ফ্যান’ নামে পরিচিত। এটি বঙ্গোপসাগরের পুরো অংশজুড়ে বিস্তৃত। এর দৈর্ঘ্য ৩ হাজার কিলোমিটার, প্রস্থ ১ হাজার ৪৩০ কিলোমিটার এবং পলির স্তরের পুরুত্ব ১৬.৫ কিলোমিটার।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘রিডিউস, ‘রিইউজ’ এবং ‘রিসাইকেল’ বা ‘থ্রিআর নীতি’র গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আরও বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ও সিথ্রিইআরের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ও উইং প্রধান (ইউএন উইং) এ কে এম সোহেল।
সিথ্রিইআরের ডিরেক্টর ড. গোলাম রব্বানী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানে ‘শি ফর ক্লাইমেট ফেলোশিপ’ প্রোগ্রামের সেরা তিনজন অংশগ্রহণকারীকে পুরস্কৃত করা হয়।
এতে নীতিনির্ধারক, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।