আমরা
সহিদুল আলম স্বপন সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও কলামিস্ট
শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে কোনো নেতা, দল বা নির্বাচন কমিশন একা নয়; তাকে বাঁচিয়ে রাখে প্রশ্ন করতে পারা সাহসী মানুষ। আর রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত শুরু হয় তখনই, যখন সে মানুষের প্রশ্নকে ভয় পেতে শেখে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসকে ঘিরে ভারতের চলমান ছাত্র আন্দোলন এক গভীর প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথমে এটি ছিল পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতার দাবি; কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তা রাষ্ট্রের জবাবদিহি, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
ইতিহাসের এক নির্মম সত্য হলো–গণতন্ত্র খুব কম ক্ষেত্রেই একদিনে ধ্বংস হয়। অধিকাংশ সময় এটি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। নির্বাচন থাকে, সংসদও থাকে, আদালতও কাজ করে, সংবাদমাধ্যমও পুরোপুরি বন্ধ হয় না; কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হয়, রাষ্ট্রক্ষমতা কেন্দ্রিভূত হতে থাকে এবং ভিন্নমতকে ধীরে
রাষ্ট্রের ইতিহাসে কিছু ঘটনা কেবল একটি হত্যাকাণ্ড বা একটি অভ্যুত্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; সেগুলো রাষ্ট্রের চরিত্র, প্রতিষ্ঠান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বরের জেলহত্যা, ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড, মেজর জেনারে
ইতিহাস কখনো কখনো এত দ্রুত বাঁক নেয় যে, পুরনো মানচিত্র দিয়ে নতুন পথ চেনা যায় না। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে যা ঘটেছিল, তা স্রেফ একটি সরকার পরিবর্তন ছিল না, ছিল একটি দীর্ঘ মনস্তাত্ত্বিক বন্দিত্ব থেকে মুক্তির ঘোষণা। সেই মুক্তির ঢেউ এখন আছড়ে পড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির পাথুরে উপকূলে।
একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণও জরুরি। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে অনুগ্রহের নয়, অংশীদারত্বের। ভারতকেও বুঝতে হবে: বাংলাদেশ কোনো বাফার স্টেট নয়, এটি একটি গর্বিত জাতি যার নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ আছে।
লুটেরাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা তাই কেবল একটি আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি একটি জাতির আত্মসম্মান রক্ষার লড়াই। এই লড়াইয়ে পরাজয় মানে শুধু অর্থ হারানো নয়; এর অর্থ একটি জাতির ভবিষ্যৎ হারানো।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল, দায়িত্বশীল এবং অংশীদারত্বভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান। শ্রম অধিকার, অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতেও তিনি বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিবেশীকে ধরে রাখতে হলে চাপ নয়, আস্থা দরকার। বাধা নয়, সুযোগ দরকার। নিয়ন্ত্রণ নয়, পারস্পরিক মর্যাদা দরকার। দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, “একই আকাশ, একই বাতাস, একই স্বপ্ন।” কথাটি ভৌগোলিকভাবে সত্য।
বৈশ্বিক নেতৃত্ব শুধু পদ পাওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না, তা প্রতিষ্ঠিত হয় কর্মদক্ষতা, নীতি এবং আস্থার মাধ্যমে। বাংলাদেশকে এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক পরিসরে এই বার্তা দিতে হবে যে, দেশটি মেধা, যোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির ভিত্তিতে বৈশ্বিক নেতৃত্বকে সমর্থন করে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবগঠিত বিজেপি সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেয়, তখন সেটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশ্ন ওঠে, এটি কি সত্যিই নিরাপত্তার প্রয়োজনে, নাকি রাজনৈতিক বার্তা?
ভারত এবার সামরিক কূটনীতিতে নতুন এক অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে। ‘প্রগতি’; অর্থাৎ, পার্টনারশিপ অব রিজিওনাল আর্মিস ফর গ্রোথ অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন ইন দ্য ইন্ডিয়ান ওশান রিজিয়ন শীর্ষক বহুপক্ষীয় সামরিক মহড়ার মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশকে একই ছাদের নিচে এনে নয়াদিল্লি একটি স্পষ্ট বার্তা