
লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক

নির্বাচনের পরিবেশকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখনো ১ হাজার ৩৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও আড়াই লাখের বেশি গুলি উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র নির্বাচনের সময় সহিংসতায় ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংকট শুরু হয় ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি থেকে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে সমর্থন দিলে। নীরব মোসাব্বিরের কাছে সমর্থন চাইলেও তিনি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না বলে জানান। এ থেকে আবার নীরবের সঙ্গে মোসাব্বিরের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ২৫ দিন পার হলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো ঝুলছে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। অথচ নির্বাচন কমিশন গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার সরিয়ে ফেলতে বলেছিল।

বিগত বছরে ২০২৫ সাল বাংলাদেশে সাংবাদিকদের জন্য অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তারা বলছে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা, মামলা, প্রাণনাশের হুমকি, গ্রেপ্তার এমনকি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন শত শত সাংবাদিক। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য বলছে, রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি–উভয়

বিদায়ী বছরজুড়ে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ছিল প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। দলীয় অন্তর্কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ক্ষমতার লড়াইকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে প্রাণ গেছে অন্তত ৯৮ জনের। আহত হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মব সহিংসতায় অন্তত ১৮৪ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ৭৮ জন। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে নিহত হয়েছে ৩২ জন।

ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ কাজের তাগিদে বের হয়; কিন্তু ফেরে না সবাই। কারও কারও ফেরা থেমে যায় হঠাৎ, নিষ্ঠুরভাবে। ককটেলের এক বিস্ফোরণে থেমে গেছে কিশোর সিয়ামের জীবন, আর সেই সঙ্গে ভেঙে পড়েছে একটি দরিদ্র পরিবারের শেষ আশ্রয়, শেষ ভরসা।

“ফ্লাইওভারটা যেন ককটেল ছোড়ার নিরাপদ জায়গা হয়ে গেছে।” রাজধানীর মৌচাক এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা শাহিনুর রহমানের কথায় স্পষ্ট হতাশা প্রকাশ পেল। গত এক মাসে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার থেকে অন্তত ডজনখানেক ককটেল ছোড়া হয়েছে। তারপরও সন্তোষজনক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জুলাই গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে এই আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

হামলাকারীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সহযোগিতাও চেয়েছে। রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণে সহায়তা চাওয়ার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রাজধানীর রামপুরা থানাধীন বনশ্রী এলাকায় বসবাস করেন নিয়াজ উদ্দিন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সম্প্রতি পুলিশের কাছে তথ্য দিতে হয়েছে তাকে। চরচাকে তিনি বলেন, “আমি একই বাসায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে থাকি। গত আগস্টে আমার কাছে তথ্য চেয়ে পুলিশ একটি ফরম পাঠিয়েছে। এর আগেও দু-তিনবার এই তথ্য দিয়েছি

“এখন পুলিশ–র্যাব–সেনাবাহিনী সব আমার পকেটে। আমার ইশারায় অভিযান হয়, আমিই জেনেভা ক্যাম্পের সুলতান।” কথাটা রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের অঘোষিত ‘সুলতান’ পিচ্চি রাজার। কে এই পিচ্চি রাজা, যিনি আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স থেকে নিজেকে ‘সুলতান’ ঘোষণার মতো সদম্ভ ভাষ্য দিতে পারেন?

গত ১৭ বছর ধরে ক্যাম্পে চলা মাদক কারবারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা বুনিয়া সোহেলের সঙ্গে সঙ্গে তার সাম্রাজ্যও এখন আইসিইউতে। ক্যাম্পের মাদক সাম্রাজ্যের দখল এখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী তিন গ্রুপের। সাম্রাজ্যই বটে।

বস্তিগুলোতে আগুন লাগার মূল কারণ হচ্ছে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক সংযোগ, নিয়ম না মেনে সিলিন্ডার বা লাইন গ্যাসের অনিরাপদ ব্যবহার, বিড়ি-সিগারেট, মশার কয়েল ও খোলা বাতির ব্যবহার, উন্মুক্ত চুলা ও হিটারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার। উদাসীনতা ও অসাবধানতা এই ঝুঁকি আরও বাড়ায়

ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, পুড়ে গেছে প্রায় দেড় হাজার ঘর। তবে স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। রাতারাতি চিরচেনা এলাকা পরিণত হয়েছে ছাইয়ের শহরে।