আরমান ভূঁইয়া

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ২৫ দিন পার হলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো ঝুলছে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। অথচ নির্বাচন কমিশন গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার সরিয়ে ফেলতে বলেছিল।
ঢাকা-১২, ঢাকা-১৬, ঢাকা-১৭, ঢাকা-৭ ও ঢাকা-৮ আসনের বিভিন্ন এলাকার সড়ক, বিদ্যুতের খুঁটি ও দেয়ালে প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে।
রাজধানীর তেজগাঁও, কলাবাগান, শাহবাগ, পল্টন, পুরান ঢাকার লালবাগ, বনানী-গুলশান ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকার অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কেও এসব নির্বাচনী প্রচারের চিহ্ন চোখে পড়ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হতে যাচ্ছে। তফসিল অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা, ৪ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ২১ জানুয়ারি প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার কথা। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সুযোগ থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তার আগেই বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্য প্রচারণা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ১১ নভেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি, ২০২৫’ জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ একাধিক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। তফসিল ঘোষণার আগেই স্বরাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দেয়াল লিখন, পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড অপসারণের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে গত শনিবার ও রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, তেজগাঁওয়ের কারওয়ান বাজার, পূর্ব তেজতুরি বাজার ও রাজাবাজার এলাকায় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ফেস্টুন ও পোস্টার দেখা গেছে।
একই চিত্র ঢাকা-৮ আসনের সেগুনবাগিচা ও পল্টন এলাকায়। পল্টন মোড় থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ধানের শীষের পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য মির্জা আব্বাসের পোস্টার ও ফেস্টুন চোখে পড়েছে। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের প্রচার সামগ্রীও দেখা গেছে।
ঢাকা-৭ আসনের লালবাগ এলাকাতেও বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়। একইভাবে ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন এলাকায়ও নির্বাচনী ফেস্টুন ও ব্যানার রয়েছে।
ইসি বলছে, তারা এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পোস্টারবিহীন ভোট করবে। কিন্তু তফসিল ঘোষণার তিন সপ্তাহ পরে রাজধানীর চিত্র দেখে সেই বাস্তবতা বোঝার উপায় নেই।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বলা হয়, তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যবহৃত পোস্টার, দেয়াল লিখন, ব্যানার, তোরণ ও প্যান্ডেল অপসারণে ‘দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২’ অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে তফসিল ঘোষণার প্রায় ১৯ দিন পর, গত ৩০ ডিসেম্বর ইসির নির্বাচন পরিচালনা–২ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ আগে থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ রাখতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৮ এবং গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো প্রচারণা চালানো যাবে না।
ইসি আরও জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে প্রার্থিতা বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেও জরিমানার সুযোগ আছে।
তবে বাস্তবে এসব নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। সিটি করপোরেশন কেনো পুরোপুরি ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করেনি।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ চরচাকে বলেন, “তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনী পোস্টার ও ব্যানার অপসারণের নির্দেশ থাকলেও এখনো অনেক জায়গায় সেগুলো দেখা যাচ্ছে, যা আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। এটি শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং আচরণবিধির পরিপন্থী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।”
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ নাসিম আহমেদ চরচাকে বলেন, “ইসির নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। কিছু কিছু জায়গায় হয়তো নতুন করে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করছি।”
উত্তর সিটির প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিবকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উত্তর সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রধান সড়কের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যানার অপসারণ করা হয়েছে, তবে দেয়ালের পোস্টার সরানো কঠিন হচ্ছে লোকবল সংকটের কারণে।”

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ২৫ দিন পার হলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো ঝুলছে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। অথচ নির্বাচন কমিশন গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার সরিয়ে ফেলতে বলেছিল।
ঢাকা-১২, ঢাকা-১৬, ঢাকা-১৭, ঢাকা-৭ ও ঢাকা-৮ আসনের বিভিন্ন এলাকার সড়ক, বিদ্যুতের খুঁটি ও দেয়ালে প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে।
রাজধানীর তেজগাঁও, কলাবাগান, শাহবাগ, পল্টন, পুরান ঢাকার লালবাগ, বনানী-গুলশান ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকার অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কেও এসব নির্বাচনী প্রচারের চিহ্ন চোখে পড়ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হতে যাচ্ছে। তফসিল অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা, ৪ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ২১ জানুয়ারি প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার কথা। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সুযোগ থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তার আগেই বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্য প্রচারণা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ১১ নভেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি, ২০২৫’ জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ একাধিক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। তফসিল ঘোষণার আগেই স্বরাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দেয়াল লিখন, পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড অপসারণের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে গত শনিবার ও রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, তেজগাঁওয়ের কারওয়ান বাজার, পূর্ব তেজতুরি বাজার ও রাজাবাজার এলাকায় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ফেস্টুন ও পোস্টার দেখা গেছে।
একই চিত্র ঢাকা-৮ আসনের সেগুনবাগিচা ও পল্টন এলাকায়। পল্টন মোড় থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ধানের শীষের পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য মির্জা আব্বাসের পোস্টার ও ফেস্টুন চোখে পড়েছে। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের প্রচার সামগ্রীও দেখা গেছে।
ঢাকা-৭ আসনের লালবাগ এলাকাতেও বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়। একইভাবে ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন এলাকায়ও নির্বাচনী ফেস্টুন ও ব্যানার রয়েছে।
ইসি বলছে, তারা এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পোস্টারবিহীন ভোট করবে। কিন্তু তফসিল ঘোষণার তিন সপ্তাহ পরে রাজধানীর চিত্র দেখে সেই বাস্তবতা বোঝার উপায় নেই।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বলা হয়, তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যবহৃত পোস্টার, দেয়াল লিখন, ব্যানার, তোরণ ও প্যান্ডেল অপসারণে ‘দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২’ অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে তফসিল ঘোষণার প্রায় ১৯ দিন পর, গত ৩০ ডিসেম্বর ইসির নির্বাচন পরিচালনা–২ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ আগে থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ রাখতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৮ এবং গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো প্রচারণা চালানো যাবে না।
ইসি আরও জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে প্রার্থিতা বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেও জরিমানার সুযোগ আছে।
তবে বাস্তবে এসব নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। সিটি করপোরেশন কেনো পুরোপুরি ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করেনি।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ চরচাকে বলেন, “তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনী পোস্টার ও ব্যানার অপসারণের নির্দেশ থাকলেও এখনো অনেক জায়গায় সেগুলো দেখা যাচ্ছে, যা আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। এটি শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং আচরণবিধির পরিপন্থী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।”
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ নাসিম আহমেদ চরচাকে বলেন, “ইসির নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। কিছু কিছু জায়গায় হয়তো নতুন করে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করছি।”
উত্তর সিটির প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিবকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উত্তর সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রধান সড়কের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যানার অপসারণ করা হয়েছে, তবে দেয়ালের পোস্টার সরানো কঠিন হচ্ছে লোকবল সংকটের কারণে।”