Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৬ অক্টোবর, ২০২৬
১৬ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৬ অক্টোবর, ২০২৬
১৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশেষ প্রতিবেদন

মোসাব্বির হত্যা: চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, নাকি রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব

আরমান ভূঁইয়া

আরমান ভূঁইয়া

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২২: ৪৪
মোসাব্বির হত্যা: চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, নাকি রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বির (৪৪)। তদন্তকারী কর্মকর্তারা এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে যে মোটিভগুলো খুঁজে পেয়েছেন–তার একটি কারওয়ানবাজার, তেজগাঁও এলাকার চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যটি হচ্ছে দলীয় রাজনীতির দ্বন্দ্ব। এ ক্ষেত্রে বড় বড় নামও উঠে আসছে সন্দেহের তালিকায়।

Advertisement

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারে স্টার হোটেলের পাশের গলিতে মোসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা তেজগাঁও থানা ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে একটি রাজনৈতিক বৈঠক শেষে মোসাব্বির ও মাসুদ বাসার উদ্দেশে হোটেলের পাশের গলির ভেতরে প্রবেশ করেন। আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ভবনের সামনে পৌঁছামাত্র আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে মোসাব্বিরের ডান হাতের কনুই ও পেটের ডান পাশে দুটি গুলি লাগে। মাসুদের পেটের বাম পাশে একটি গুলি লাগে।

আজিজুর রহমান মোসাব্বির। ফাইল ছবি
আজিজুর রহমান মোসাব্বির। ফাইল ছবি

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গলির একটু সামনে গিয়ে আহমেদ জেনারেল স্টোরের সামনে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন মোসাব্বির। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় একটি ভ্যানে করে তাদের বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পিবিআই ও সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। সেখান থেকে ৭.৬৫ এমএম পিস্তলের তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

হত্যাকাণ্ডের পর বৃহস্পতিবার সকালে নিহত মোসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান চরচাকে বলেন, “নিহতের স্ত্রী জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই মোসাব্বির জীবননাশের হুমকি পাচ্ছিলেন। তবে সে বিষয়ে কোনো জিডি বা মামলা করা হয়নি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা কয়েকজনকে শনাক্ত করে তদন্ত করছি। কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি, ফার্মগেট এলাকার গ্যারেজ দখল ও স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব–এই তিনটি বিষয় সামনে রেখেই তদন্ত চলছে।”

আজিজুর রহমান মোসাব্বির জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপিতে যুক্ত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে অন্তত ১২৫টি মামলা ছিল বলে জানা যায়। একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণও করেন তিনি। তবে ২০২৪ সালে ৫ আগস্টের পর কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজির ঘটনায় তাকে পদ থেকে বহিস্কার করা হয়।

২০২০ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছিলেন মোসাব্বির। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত গুলির খোসা। ছবি: চরচা
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত গুলির খোসা। ছবি: চরচা

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূলত দুটি মোটিভ কাজ করেছে–স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারওয়ান বাজারের দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম নীরবের সঙ্গে মোসাব্বিরের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। যদিও একপর্যায়ে এর সমঝোতা হয় বলে জানা যায়।

সংকট শুরু হয় ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি থেকে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে সমর্থন দিলে। নীরব মোসাব্বিরের কাছে সমর্থন চাইলেও তিনি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না বলে জানান। এ থেকে আবার নীরবের সঙ্গে মোসাব্বিরের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

আরেকটি নাম: সুইডেন আসলাম

গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশ ধারণা করছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলামের সঙ্গেও এই হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে। জানা যায়, আসলাম তার স্ত্রীকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর করতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে মোসাব্বিরকে সমর্থন দিতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি। এই বিরোধ থেকেও হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিলিং মিশনে পাঁচজন

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিলিং মিশনে মোট পাঁচজন অংশ নেয়। গলির ভেতরে অস্ত্রধারী তিনজন সরাসরি গুলি চালায় এবং স্টার হোটেলের সামনে মূল সড়কে আরও দুজন মোসাব্বিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। এরা পেশাদার ভাড়াটে শুটার এবং কেউই স্থানীয় নন বলে দাবি গোয়েন্দাদের।

ঘটনার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল মজিদ মিলন ও যুবদলের সহসভাপতি মো. ফারুক হোসেনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মিলনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ফারুককে এখনো আটক রাখা হয়েছে। অন্যদিকে র‍্যাব রনি ও মন্টু নামে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে এবং তেজগাঁও থানা পুলিশও জিজ্ঞাসাবদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। যদিও এ আটকের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

এ ছাড়া তেজগাঁও থানা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব আবদুর রহমানকেও এ ঘটনায় খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই আবদুর রহমান ও তার অনুসারীরা পলাতক বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কর্মসূচি

মোসাব্বির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার রাতেই কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তারা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। আজ বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এবং পরে কারওয়ান বাজারে জানাজা ঘিরেও বিক্ষোভ মিছিল হয়। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দল শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

বিষয়: চাঁদাবাজিবিএনপিসিআইডিচিকিৎসাপুলিশরাজনীতিহাসপাতাল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    যাত্রাবাড়ীর হানিফ ফ্লাইওভারে ট্রাকের ধাক্কায় যুবক নিহত

  • ২

    কাঁচপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন: একে একে মারা গেল চারজনই

  • ৩

    সৌদি আরবের ধ্বংস চায় আমেরিকা?

  • ৪

    কেন ফ্রান্স প্রতিবাদ, বিক্ষোভে এত উত্তাল?

  • ৫

    চাঁদাবাজি কি শুধু শহরে হয়? গ্রামে হয় না?

সম্পর্কিত
  • মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

    মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

    বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমে ঢাকার ধামরাই উপজেলার ৮৫ বছরের পুরনো ও জীর্ণ এক গ্রামীণ বিদ্যালয়ে পড়াতেন তিনি। টানা দুবার নির্বাচিত হয়েছিলেন উপজেলার সেরা প্রধান শিক্ষক। যে প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কোনোদিন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, সেখানে তিনি ৯৫ শতাংশ পাসের রেকর্ড গড়েছিলেন। কিন্তু ক্লাস ফাঁকি বন্ধ করা

  • সেমিকন্ডাক্টর শিল্প: বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলিয়নে আটকে বাংলাদেশ

    সেমিকন্ডাক্টর শিল্প: বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলিয়নে আটকে বাংলাদেশ

    হাতের স্মার্টফোন থেকে শুরু করে অটোমোবাইল, কিংবা এই যে মহাকাশে রোবট পাঠাচ্ছে মানুষ, অথবা যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ যুদ্ধের যে সরঞ্জাম–এই সবকিছুর মধ্যে একটি বিষয় কিন্তু এক। আর তা হলো সেমিকন্ডাক্টর, যাকে বলা হয় ‘ডিজিটাল জ্বালানি’। এ ক্ষেত্রে মূল প্রতিযোগিতায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, তাইওয়ান, জাপানের মতো

  • সিগারেটের ব্যান্ডরোল: রাজস্ব আদায়ে খাওয়াচ্ছে ঘোল

    সিগারেটের ব্যান্ডরোল: রাজস্ব আদায়ে খাওয়াচ্ছে ঘোল

    সিগারেটের প্রতিটি প্যাকেটে থাকা ছোট্ট ব্যান্ডরোল শুধু একটি কাগজের ফিতা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারের বিপুল রাজস্ব আদায়ের হিসাব। কোন দামের সিগারেট, কত শলাকা উৎপাদন হচ্ছে এবং সেই উৎপাদনের বিপরীতে কত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় হওয়ার কথা, তা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ব্যান্ডরোল ব্যবস্থা।

  • ৭ ইসলামী দলের ঐক্য কি আদৌ হবে?

    ৭ ইসলামী দলের ঐক্য কি আদৌ হবে?

    কওমিপন্থী অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে ৭ ইসলামী রাজনৈতিক দলের ঐক্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই জোটের বাইরে অন্য কোনো জোটে থাকা যাবে না–এই শর্তে ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকা সব দল ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। এর বাইরেও আরো কয়েকটি শর্ত নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আছে বলে জানা গেছে। তবে আলোচনার পথ এখনও