Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৭ আগস্ট, ২০২৬
২৭ আগস্ট, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৭ আগস্ট, ২০২৬
২৭ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

স্বত্ব © চরচা

Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

হামের চেয়ে নিউমোনিয়াকে কেন ভয়াবহ বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

সৈকত সাহা
মাহিন আরাফাত

সৈকত সাহা ও মাহিন আরাফাত

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ১৯: ৩৬
হামের চেয়ে নিউমোনিয়াকে কেন ভয়াবহ বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

দেশে সম্প্রতি হামের প্রকোপ বেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হাম উপসর্গে দেশে মোট ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ শিশুর। হাম ও হামের টিকা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। তবে হামের চেয়ে নিউমোনিয়া ভয়াবহ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক মিলনায়তনে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আয়োজিত ‘হামজনিত নিউমোনিয়া বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও করণীয়’ শীর্ষক সম্মেলনে চিকিৎসকরা এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন বলেন, “একটা বাচ্চার যদি হাম হয়, তবে ৯৫-৯৯ % ভালো হয়ে যায় ৭-১০ দিনে। শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ কিন্তু নিউমোনিয়া। হামের থেকে প্রতিদিন নিউমোনিয়াতে আরও বেশি বাচ্চা মারা যায়। আসলে হামের চাইতে নিউমোনিয়ায় বড় প্রবলেম, যেটা দিয়ে মিডিয়াতে কম আলোচনা হয়। দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের পর এরই মধ্যে ৯৩ শতাংশে টিকা দেওয়া হয়ে গেছে। দেশে হামে ৯৫ ভাগ রোগী সুস্থ হয় এবং নিউমোনিয়ায় ৫ ভাগ রোগীর মৃত্যু হয়।”

রুহুল আমিন আরও বলেন, “দেশে ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ নিউমোনিয়া। এতে বছরে প্রায় ২৪ হাজার শিশু মারা যায়।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব কম (৫ থেকে ৮ শতাংশ)। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা ডায়রিয়ার তুলনায় অনেক বেশি। যেসব রোগীদের রেসপিরেটরি সমস্যা আছে, যেমন শ্বাসকষ্ট, স্যাচুরেশন কমে যাওয়া বা জ্বর—তাদের দ্রুত শনাক্ত (আইডেন্টিফাই) করা এবং আর্লি ট্রিটমেন্টের আওতায় আনা উচিত। এ পদ্ধতির ফলে নিউমোনিয়া সম্পর্কিত জটিলতায় মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

যদি আমরা মৃত্যু কমাতে চাই, সময় নষ্ট না করে ফার্মেসিতে না ঘুরে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে আসা দরকার। হামে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে আনতে দেরি হলে রোগের জটিলতা বেড়ে যায়। হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই আক্রান্ত শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।

সম্মেলনে নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, “হাম যদি হয়, তবে সব হাম কিন্তু কমপ্লিকেটেট হয় না। এই কম্পিকেশনের কতগুলো রিসপেক্টর থাকে, সেগুলো হলো অপুষ্টি। যেসব বাচ্চাদের অপুষ্টিজনিত সংকট থাকে তাদের ওপর যদি হাম হয় তাহলে জটিলতা অনেক বেশি হয়। আমাদের দেশে এর প্রভাব এমনিতেই আছে। এখন বিষয়টা হলো নিউমোনিয়া হলো একটা জটিলতা। এর বাইরে কিন্তু আরো বেশ জটিলতা আছে, যেগুলো নিয়ে কখনও কখনও বাচ্চারা অসুস্থ হয়। এবং তাদের চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করার প্রয়াস করা হয়।”

‘হামজনিত নিউমোনিয়া বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও করণীয়’ শীর্ষক সম্মেলনে। ছবি: সংগৃহীত
‘হামজনিত নিউমোনিয়া বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও করণীয়’ শীর্ষক সম্মেলনে। ছবি: সংগৃহীত

আবিদ হোসেন মোল্লা আরও বলেন, “যদি আমরা মৃত্যু কমাতে চাই, সময় নষ্ট না করে ফার্মেসিতে না ঘুরে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে আসা দরকার। হামে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে আনতে দেরি হলে রোগের জটিলতা বেড়ে যায়। হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই আক্রান্ত শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।”

হাম বিষয়ে আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, “মানুষ দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে খেতে এখন আর শরীরে কাজ করে না। আমরা রোগীকে যদি সঠিক সময়ে অক্সিজেন দিতে পারি, তাহলে হামে মৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব।”

হামকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যায় কি না–প্রশ্নে তিনি বলেন, “আগামী দুই তিন সপ্তাহ আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। বর্তমানে মিসেল ছাড়াও অ্যামিনো ভাইরাসের কারণে নিউমোনিয়া হচ্ছে। এতে আতঙ্কের কিছু নাই। ৫ বছরের কমবয়সী যেসব শিশু মারা যায়, তাদের মধ্যে ১ নম্বরে হাম। প্রতি ৪টি বাচ্চা মারা গেলে তার মধ্যে একটি নিউমোনিয়াতে। হামের থেকে নিউমোনিয়াতে মৃত্যুর হার বেশি।”

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও এসব চিকিৎসক জানিয়েছেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হামে আক্রান্ত শতকরা ৯৯ শতাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রজনিত জটিলতা দেখা দিলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

সম্মেলনে বক্ষব্যাধি ও হাঁপানি বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউল হক বলেন, “গত দুই বছরে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় হামে মৃত্যু বাড়ছে। হামজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ, শ্বাসতন্ত্র বিকল হয়ে পড়া এবং নিউমোনিয়া। এ কারণে দেশের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞরা জনগণকে সচেতন করতে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সরকারকে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।”

হামে আক্রান্ত শিশু। ছবি: চরচা
হামে আক্রান্ত শিশু। ছবি: চরচা

জিয়াউল হক আরও বলেন, “হামের বিস্তার রোধে চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো–অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘ফিভার কর্নার’ চালু করে হামপ্রবণ এলাকা শনাক্ত করা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত চিকিৎসা নির্দেশিকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং দেশব্যাপী হামের উপসর্গ ও চিকিৎসা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।”

হামে সন্তানহারা বাবা–মা’কে কি শুধুই ‘স্যরি’ বলা হবে?measels

হাম বিষয়ে বক্ষব্যাধি, হাঁপানি, যক্ষা ও শ্বাসযন্ত্র বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর বলেন, “বিশেষত কোভিডের সংক্রমণের পরপর একটি উদ্যেগ নেওয়া হয়েছিল যে, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত অন্তত একটি কর্নার স্থাপন করা হবে একটি নির্দিষ্ট এলগোরিদমের মাধ্যমে, যারা জ্বর নিয়ে আসে তারা যেন সঠিক চিকিৎসা বা ধারনা পায়। এবং কোথায় গেলে তারা কোন রোগ হয়েছে সে সম্পর্কে জানতে পারবে। এ জন্য একজন মেডিকেল অফিসারকে ট্রেনিং দিয়ে এইখানে নিয়োগ করা যায়, যাতে প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে অন্তত ২ দিন কয়েক ঘণ্টা করে চালানো এই সেবা চালানো যাবে।”

কাজী সাইফুদ্দিন আরও বলেন, “এটি তখন আসলে আমেরিকার সহায়তায় শুরু করা হয়েছিল। বর্তমানে এর সহায়তায় বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে উদ্যোগটি তৎকালীন সময় কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। আমরা সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং বিশেষ সহকারী স্বাস্থ্য মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করেছি এবং তাদেরকে এই ব্যাপারটি সম্পর্কে জানিয়েছি।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা. আসিফ মুজতাবা মাহমুদ (মহাসচিব, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন), অধ্যাপক রুহুল আমিন (পেডিয়াট্রিক পালমোনোলজিস্ট ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন), অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল আনাম কিবরিয়া (ভাইস প্রেসিডেন্ট, চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন), অধ্যাপক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর (জয়েন্ট সেক্রেটারি, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন) এবং অধ্যাপক ডা. গোলাম সরওয়ার লিয়াকত হোসেন ভুঁইয়া (সেক্রেটারি জেনারেল, চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন)।

বিষয়:

নিউমোনিয়াআমেরিকারাজধানীডায়রিয়াহামজ্বর-সর্দি-কাশিবিশেষজ্ঞঅধ্যাপকযক্ষ্মা রোগসম্মেলনমৃত্যুশিশুনবজাতক
১

হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নতুন দায়িত্বে, কী করবেন তারা?

২

৯৯.৯৬ গড়ের ব্র্যাডম্যান এবং ৫ অবিশ্বাস্য ঘটনা

৩

যুবদল নেতা মাসুদুল হত্যায় ব্যবহার হয় ‘থানা থেকে লুট’ পিস্তল

৪

সংসদে উত্তাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘কিছুটা চিন্তিত’ স্পিকার

৫

কবি নজরুলের কি সিফিলিস রোগ ছিল?

সম্পর্কিত

যুক্তরাষ্ট্র: চিরস্থায়ী শত্রু নয়, দরকার বাস্তব কূটনীতি

যুক্তরাষ্ট্র: চিরস্থায়ী শত্রু নয়, দরকার বাস্তব কূটনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো— কোনো কোনো দেশকে একবার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করার পর দীর্ঘদিন সেই অবস্থান থেকে বের হতে না দেওয়া। বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ফরেভার ওয়ার’ বা চিরস্থায়ী যুদ্ধ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ‘ফরেভার এনিমি’

ভবিষ্যতে পৃথিবীতে যথেষ্ট মানুষ থাকবে?

ভবিষ্যতে পৃথিবীতে যথেষ্ট মানুষ থাকবে?

একসময় মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় জনসংখ্যাগত ভয় ছিল অতিরিক্ত মানুষ। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, খাদ্যসংকট, সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ নিয়ে বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে এসে সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন প্রশ্নটি আর শুধু ‘পৃথিবীত

বাটন ফোন ছাড়তে প্রস্তুত দেশের ৭ কোটি মানুষ?

বাটন ফোন ছাড়তে প্রস্তুত দেশের ৭ কোটি মানুষ?

এক হাতে বাটন ফোন, অন্য হাতে স্মার্টফোন। মোবাইল যোগাযোগের দুই ভিন্ন যুগের প্রতীক এই দুই ডিভাইস। বাংলাদেশ এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইমরানকে নিয়ে দৌড়ঝাঁপ, পাকিস্তানে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসন্ন?

ইমরানকে নিয়ে দৌড়ঝাঁপ, পাকিস্তানে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসন্ন?

বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংসদীয় রাজনীতিকে যদি আবার কার্যকর করতে হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকে কেবল ক্ষমতা ভাগাভাগি বা নির্বাচনকেন্দ্রিক সমীকরণে আটকে থাকলে চলবে না।