চট্টগ্রামের রাউজানের পাহাড়তলীতে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া একটি বিদেশি পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই অস্ত্রসহ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোহাম্মদ মোবারক ওরফে কালা মোবারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের পল্লানপাড়া গ্রামে পুলিশের সঙ্গে ‘গোলাগুলির’ পর কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যরা হলেনমোহাম্মদ রায়হান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নছির (৫২)।
পুলিশের ভাষ্য, কালা মোবারক বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী।
গ্রেপ্তার চারজনের কাছ থেকে ব্রাজিলের তৈরি একটি ৯ এমএম তরাস পিস্তল, ইতালির তৈরি একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, পাকিস্তানে তৈরি একটি রিভলভার, একটি দেশীয় রিভলভার, ৯ এমএম পিস্তলের ১৮ রাউন্ড গুলি, ৭.৬৫ বোর পিস্তলের পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি পিস্তলের ম্যাগাজিন এবং চারটি শটগানের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ব্রাজিলের তৈরি তরাস পিস্তলটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর একটি। পুলিশের দাবি, ওই অস্ত্র দিয়েই যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে হত্যা করা হয়।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘‘কালা মোবারক পল্লানপাড়ায় গ্রেপ্তার ফরিদ ও নছিরের বাড়িতে অবস্থান করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’’
তিনি জানান, অভিযানে তিনি নিজে, ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, কালা মোবারক রাউজানের পাহাড়তলীতে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোবারক জানিয়েছে, তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্রাজিলের তৈরি ৯ এমএম তরাস পিস্তলটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হয়েছিল। মাসুদুল হত্যায় ওই অস্ত্র ব্যবহার করার কথাও সে জানিয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে।
এ ঘটনায় তার বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানকেও আসামি করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, তারা দুজনই বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী।
কালা মোবারক এ মামলার দুই নম্বর আসামি। পুলিশের দাবি, মাসুদুল হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়।