চরচা ডেস্ক

সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলা সংঘাত থামিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে কাতারের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা। বিশ্বরাজনীতিতে ছোট হলেও ধনী এ উপসাগরীয় রাষ্ট্রটি একাধিক সংঘাত মীমাংসায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, কাতারের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ ও কাবুল তাৎক্ষণিক অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যাবে।’
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। তবে গত দুই সপ্তাহে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি ঘটে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে। এই অভিযোগের জেরে দুই সপ্তাহ আগে কাবুলে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। জবাবে আফগান বাহিনী সীমান্ত এলাকায় পাক সেনাদের ওপর হামলা চালায়, যা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বেশ কিছু প্রভাবশালী দেশকেই দেখা যায় মোড়লের ভূমিকা নিতে আগ্রহী। যেমন মিশর, ওমান, কুয়েত। তবে এদের বদলে কাতারকেই দেখা যায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে। শুধু তাই নয়, তালেবান এবং হামাসের নেতৃস্থানীয়রাও কাতারের আতিথ্য গ্রহণ করেছেন।
আয়তনে ছোট একটা দেশ হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কাতারের এত প্রভাবশালী ভূমিকার কারণ কী?
বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের মধ্যস্থতা করার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে:
ভূরাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি
ছোট হলেও বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদে সমৃদ্ধ কাতার আঞ্চলিক রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চায়। ভয়েস অব আমেরিকার একটি বিশ্লেষণে বলেছে, কাতারের এই নীতি তাকে ‘নিরপেক্ষ অথচ প্রভাবশালী’ দেশ হিসেবে তুলে ধরছে।
অপ্রচলিত পক্ষগুলোর সঙ্গে সংলাপের সুযোগ
হামাস বা তালেবানের মতো সংগঠনের সঙ্গে অনেক দেশ সরাসরি কথা বলে না, কিন্তু কাতার সেই আলোচনার ব্যবস্থা করে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের বিশ্বাসযোগ্য নিরপেক্ষতা এমন পক্ষগুলোকেও আলোচনায় টানে যারা সাধারণত আন্তর্জাতিক আলোচনায় অনুপস্থিত থাকে।
আন্তর্জাতিক সুনাম ও অর্থনৈতিক স্বার্থ
মধ্যস্থতার মাধ্যমে কাতার শুধু মানবিক ভূমিকা পালন করছে না, বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতায়ও সুবিধা পাচ্ছে। দ্য ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, ‘গ্লোবাল ইমেজ- নির্মাণ কাতারের জন্য তেল-গ্যাসের মতোই কৌশলগত সম্পদ।’

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, কাতার আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রাসঙ্গিক থাকতে চায় এবং সেইসাথে নিজের প্রভাবও জারি রাখতে চায়। এর কারণ মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অপ্রত্যাশিত খবরদারি থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, গাজা যুদ্ধবিরতিতেও কাতারের ভূমিকা কেন্দ্রীয় ও অপরিহার্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, কাতার ২০২০ সালে আফগানিস্তান–তালেবান শান্তিচুক্তির আয়োজন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সুনাম অর্জন করেছিল।
আল জাজিরা জানায়, কাতারের পররাষ্ট্রনীতি সংলাপের মাধ্যমে শান্তি নীতিতে পরিচালিত হয়। দেশটি বিশ্বাস করে, মধ্যস্থতা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার একটি কার্যকর কূটনৈতিক উপায়।
তবে কাতারের এই কূটনীতি সমালোচনামুক্ত নয়। ইসরায়েলি থিংক ট্যাঙ্ক জেরুজালেম সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন অ্যাফেয়ার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাসের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কাতার কখনও কখনও মধ্যস্থতাকারী থেকে পক্ষভুক্ত হিসেবে সমালোচিত হয়েছে।
এছাড়া বড় শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক চাপও কাতারের জন্য জটিলতা তৈরি করে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা একটি সূক্ষ্ম কাজ।
বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের যুদ্ধমধ্যস্থতা কেবল মানবিক উদ্যোগ নয়; বরং এটি তার কৌশলগত স্বার্থরক্ষার অংশ। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংলাপ ও ভারসাম্যের রাষ্ট্র হিসেবে কাতার এখন একটি অনন্য অবস্থান তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধের সময় যখন অধিকাংশ দেশ পক্ষ নেয়, তখন কাতার মধ্যস্থতার মাধ্যমে একধরনের সফট পাওয়ার প্রয়োগ করছে। যা হয়তো আগামী দশকে তাকে অঞ্চলের সবচেয়ে কার্যকর কূটনৈতিক শক্তিতে পরিণত করবে।

সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলা সংঘাত থামিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে কাতারের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা। বিশ্বরাজনীতিতে ছোট হলেও ধনী এ উপসাগরীয় রাষ্ট্রটি একাধিক সংঘাত মীমাংসায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, কাতারের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ ও কাবুল তাৎক্ষণিক অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে যাবে।’
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। তবে গত দুই সপ্তাহে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি ঘটে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে। এই অভিযোগের জেরে দুই সপ্তাহ আগে কাবুলে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। জবাবে আফগান বাহিনী সীমান্ত এলাকায় পাক সেনাদের ওপর হামলা চালায়, যা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বেশ কিছু প্রভাবশালী দেশকেই দেখা যায় মোড়লের ভূমিকা নিতে আগ্রহী। যেমন মিশর, ওমান, কুয়েত। তবে এদের বদলে কাতারকেই দেখা যায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে। শুধু তাই নয়, তালেবান এবং হামাসের নেতৃস্থানীয়রাও কাতারের আতিথ্য গ্রহণ করেছেন।
আয়তনে ছোট একটা দেশ হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কাতারের এত প্রভাবশালী ভূমিকার কারণ কী?
বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের মধ্যস্থতা করার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে:
ভূরাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি
ছোট হলেও বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদে সমৃদ্ধ কাতার আঞ্চলিক রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চায়। ভয়েস অব আমেরিকার একটি বিশ্লেষণে বলেছে, কাতারের এই নীতি তাকে ‘নিরপেক্ষ অথচ প্রভাবশালী’ দেশ হিসেবে তুলে ধরছে।
অপ্রচলিত পক্ষগুলোর সঙ্গে সংলাপের সুযোগ
হামাস বা তালেবানের মতো সংগঠনের সঙ্গে অনেক দেশ সরাসরি কথা বলে না, কিন্তু কাতার সেই আলোচনার ব্যবস্থা করে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের বিশ্বাসযোগ্য নিরপেক্ষতা এমন পক্ষগুলোকেও আলোচনায় টানে যারা সাধারণত আন্তর্জাতিক আলোচনায় অনুপস্থিত থাকে।
আন্তর্জাতিক সুনাম ও অর্থনৈতিক স্বার্থ
মধ্যস্থতার মাধ্যমে কাতার শুধু মানবিক ভূমিকা পালন করছে না, বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতায়ও সুবিধা পাচ্ছে। দ্য ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, ‘গ্লোবাল ইমেজ- নির্মাণ কাতারের জন্য তেল-গ্যাসের মতোই কৌশলগত সম্পদ।’

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, কাতার আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রাসঙ্গিক থাকতে চায় এবং সেইসাথে নিজের প্রভাবও জারি রাখতে চায়। এর কারণ মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অপ্রত্যাশিত খবরদারি থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, গাজা যুদ্ধবিরতিতেও কাতারের ভূমিকা কেন্দ্রীয় ও অপরিহার্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, কাতার ২০২০ সালে আফগানিস্তান–তালেবান শান্তিচুক্তির আয়োজন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সুনাম অর্জন করেছিল।
আল জাজিরা জানায়, কাতারের পররাষ্ট্রনীতি সংলাপের মাধ্যমে শান্তি নীতিতে পরিচালিত হয়। দেশটি বিশ্বাস করে, মধ্যস্থতা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার একটি কার্যকর কূটনৈতিক উপায়।
তবে কাতারের এই কূটনীতি সমালোচনামুক্ত নয়। ইসরায়েলি থিংক ট্যাঙ্ক জেরুজালেম সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন অ্যাফেয়ার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাসের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কাতার কখনও কখনও মধ্যস্থতাকারী থেকে পক্ষভুক্ত হিসেবে সমালোচিত হয়েছে।
এছাড়া বড় শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক চাপও কাতারের জন্য জটিলতা তৈরি করে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা একটি সূক্ষ্ম কাজ।
বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের যুদ্ধমধ্যস্থতা কেবল মানবিক উদ্যোগ নয়; বরং এটি তার কৌশলগত স্বার্থরক্ষার অংশ। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংলাপ ও ভারসাম্যের রাষ্ট্র হিসেবে কাতার এখন একটি অনন্য অবস্থান তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধের সময় যখন অধিকাংশ দেশ পক্ষ নেয়, তখন কাতার মধ্যস্থতার মাধ্যমে একধরনের সফট পাওয়ার প্রয়োগ করছে। যা হয়তো আগামী দশকে তাকে অঞ্চলের সবচেয়ে কার্যকর কূটনৈতিক শক্তিতে পরিণত করবে।