আর দশটা দিনের মত গতকাল মঙ্গলবারও বিসিবি সভাপতি হিসেবেই দিনটা শুরু করেছিলেন আমিনুল ইসলাম। দুপুরে পূর্বাচল নতুন শহরে স্টেডিয়ামের কাজ পরিদর্শন করে তিনি বিসিবিতে ফিরতেই যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ততক্ষণে ভেঙে দিয়েছে বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ। ঘন্টাখানিকের মধ্যেই দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয় তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটির কাছে। পুরো বিষয়টি কোনোভাবেই মানতে পারছেন না আমিনুল। তিনি নিজেকে দাবি করছেন বিসিবির বৈধ সভাপতি হিসেবে।
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর বেশিক্ষণ আর বিসিবিতে থাকেননি আমিনুল। পেছনের দরজা দিয়ে তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে যান। তার বিদায়ের পর ভারপ্রাপ্ত বিসিবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তামিম ইকবাল। সেখানে তিনি আভাস দিয়েছেন পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার।
বিসিবির এডহক কমিটির প্রধান হয়ে কালই দায়িত্ব নিয়েছেন তামিম ইকবাল। ছবি: বিসিবিএদিকে, বিসিবিতে আর কোনো নির্বাচনের আইনগত ভিত্তিই দেখছেন না আমিনুল। মঙ্গলবার রাতে নিজেকে বিসিবি সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করে দীর্ঘ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। সেখানে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ এবং ‘আইনসঙ্গত নয়’ বলে দাবি করেছেন।
শুধু তাই নয়, এনএসসি যেভাবে বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদকে ভেঙে দিয়ে এডহক কমিটি গঠন করেছে, সেটিকেও অবৈধ দাবি করেছেন আমিনুল। হাইকোর্টের রায় না আসা পর্যন্ত তাই নিজেকেই বিসিবির একমাত্র নির্বাচিত ও বৈধ সভাপতি হিসেবে দাবি করেছেন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। পাশাপাশি এ ব্যাপারে আইসিসির হস্তক্ষেপও আশা করছেন আমিনুল।
তবে এনএসসির একটি সূত্র চরচা-কে নিশ্চিত করেছে, আইসিসি এ ব্যাপারে তেমন কিছু করবে না। তিনি বলেন, “আমিনুলের অপসারণ বা নতুন এডহক কমিটি নিয়ে আইসিসি কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। বরং আইসিসিকে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়ে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনএসসি। তাই আইসিসি আমিনুলকে আবার স্বপদে ফেরাবে, এমন সম্ভাবনা নেই।”
কালই বিসিবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তামিম ইকবাল। ছবি: বিসিবিএনএসসির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসিবির সবশেষ নির্বাচনে স্পষ্ট অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন তারা। আর এতে যুক্ত ছিলেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও। তার সরাসরি হস্তক্ষেপ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ ছাড়াও কাউন্সিলর হিসেবে বিসিবি নির্বাচনে যে প্রক্রিয়ায় আমিনুল ইসলাম ও নাজমুল আবেদীন ফাহিম পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন সেখানেও নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
চরচা-এর পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাতে সাড়া দেননি আমিনুল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমিনুলের পরিচালনা পর্ষদে থাকা এক সদস্য চরচা-কে জানিয়েছেন, গত মাসে দেশে ফেরার সময় এমন কোনো কিছুর আভাস পাননি আমিনুল। তিনি ভেবেছিলেন সরকার তাকে সমর্থন দেবে। সেটা না হওয়ায় এখন তিনি আইসিসির দ্বারস্থ হবেন এবং আইনি লড়াইয়ে যাওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আমিনুলের আগে সদ্য সাবেক হওয়া বোর্ডের সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদও আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কাকতালীয়ভাবে সেটা ছিল ২০২৫ সালে, যখন বিতর্কিতভাবে তাকে সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে আমিনুলকে বসানো হয়। পরে অবশ্য ফারুক আইনি পথে যাননি। বরং নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরিচালক হয়ে দায়িত্ব পান সহ-সভাপতির।