ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর বিয়ে নিয়ে শঙ্কায় ভারতীয়রা!

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর বিয়ে নিয়ে শঙ্কায় ভারতীয়রা!
ছবিঃ এআই দিয়ে তৈরি

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের বাসিন্দা সিধি শর্মা। স্বপ্ন দেখতেন আমেরিকায় উচ্চ-পদস্থ চাকরি করেন এমন কোনো ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করে সেখানেই থেকে যাবেন। তবে মেডিকেল ছাত্রী সিধি শর্মার সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে । কারণ, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সিধি বলেন, আমি বিয়ের পর আমেরিকায় থাকার স্বপ্ন দেখতাম। ট্রাম্প আমার জন্য সেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন।

ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতি বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা নিয়ে জটিলতা বাড়ার পর ভারতীয়দের মধ্যে আমেরিকায় যাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভারতীয়দের শঙ্কা, এই কড়াকড়ির ফলে ভারতীয় আমেরিকান পরিবারগুলো ভারতে থাকা কারও সঙ্গে তাদের সন্তানদের বিয়ে দিতে দ্বিধা করছে। সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী যেকোনো সময় চাকরি বা অভিবাসন স্ট্যাটাস হারাতে পারেন।

ম্যাট্রিমনিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান 'ভাওস ফর ইটারনিটি'-এর প্রতিষ্ঠাতা অনুরাধা গুপ্তা রয়টার্সকে বলেন, অভিবাসন নীতিগুলো হয়তো ওয়াশিংটন থেকে লেখা হয় কিন্তু এর প্রভাব দেখা যায় ভারতীয় পরিবারগুলোর রাতের খাবারের টেবিলে। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত ভারতের সামাজিক কাঠামোয় ঢুকে বিয়ের মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকেও প্রভাবিত করছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, এইচ-১বি ভিসার আবেদন যারা করবেন, তাদের ১ লাখ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নির্বাহী আদেশে বলা হয়, যারা প্রথমবারের মতো এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করবেন এবং বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আছেন, তাদের জন্য এককালীন ১ লাখ ডলার ফি দিতে হবে।

এক দশক আগেও ভারতের মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত সমাজে একজন আমেরিকান গ্রিন কার্ডধারী পাত্র বা পাত্রীর মূল্য ছিল আকাশছোঁয়া। আমেরিকার জীবন মানে ছিল আর্থিক নিরাপত্তা, উন্নত জীবনযাত্রা এবং ভারতে সামাজিক মর্যাদা। এসব ব্যাপার বিবাহযোগ্য পাত্র-পাত্রীর জীবনসঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে একটি প্রধান যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হত।

নতুন নীতির ফলে উচ্চ ফি এবং ভিসা অনুমোদনের অনিশ্চয়তা এখন প্রবাস জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। পাত্র-পাত্রী এবং তাদের অভিভাবকরা দেখছেন, যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার চেয়ে ভারতের ভেতরে অথবা পশ্চিমা অন্য কোন স্থিতিশীল দেশে মনোযোগ দেওয়া ভালো।

প্রতিবেদনটিতে বিবাহ বিষয়ক ওয়েবসাইট এবং ঘটকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এখন অনেক পরিবারই স্পষ্টভাবে এমন পাত্র বা পাত্রী খুঁজছে যারা হয় ভারতেই ভালো বেতনের চাকরিতে আছেন অথবা অন্য কোনো দেশে চাকরিতে আছেন।

ট্রাম্পের কড়াকড়ি নীতিকে ভারত সরকার মানবিক বিপর্যয় বলে অভিহিত করেছে। তারা আমেরিকান কর্তৃপক্ষকে এটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে।

সম্পর্কিত