চরচা ডেস্ক

আজ থেকে প্রায় আড়াইশ’ বছর আগে যখন শিল্প বিপ্লব হয়, তখন মানুষের কাজ নিয়ে তৈরি হয়েছিল শঙ্কা। আজ প্রায় কাছাকাছি পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিশ্ব। আর তার ঢেউ অনিবার্যভাবেই লেগেছে বাংলাদেশেও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স ও অটোমেশন একই প্রশ্ন আবার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে- আগামী ১০ বছরে মানুষের কাজ কী হবে?
বাংলাদেশের জন্য এই প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের বড় ভিত্তি সস্তা শ্রমনির্ভর শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত। কিন্তু বিশ্ব দ্রুত বদলাচ্ছে। কারখানায় মানুষের জায়গা নিচ্ছে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, কর্মক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করছে এআই, আর নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গত ১৫ জুলাই প্রকাশিত ‘ইজ বাংলাদেশ রেডি ফর ফিউচার অব ওয়ার্ক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ এই পরিবর্তনের যুগে প্রবেশ করেছে, কিন্তু দেশের শ্রমবাজার এখনো সেই পরিবর্তনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ১২ লাখেরও বেশি চাকরি হুমকির মুখে আছে শুধু আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বা অটোমেশনের কারণেই। এমনকি ২০৪১ সালের মধ্যে পোশাক শিল্পের ৬০ শতাংশ নারী কর্মীই তাদের কাজ হারাতে পারেন।
প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ নিয়ে কেন এই উদ্বেগ?
বাংলাদেশের প্রায় সব বড় রপ্তানি শিল্পই এখন প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে। এতে উৎপাদন বাড়বে, খরচ কমবে, কিন্তু একই সঙ্গে কমে যেতে পারে প্রচলিত চাকরি।
বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতে লাখ লাখ শ্রমিক অটোমেশনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন নারী শ্রমিকরা, কারণ এই খাতেই তাদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি।
কারখানায় উৎপাদন বাড়লেও এই খাতে নতুন চাকরি তৈরি হওয়া থমকে গেছে। বর্তমানে এই খাতের মোট কর্মসংস্থান ৮১ লাখ এসে আটকে গেছে, যা ২০১৩ সালের চেয়েও কম। আর যারা কাজ হারাচ্ছেন, তাদের নতুন কোনো কাজ শেখানোর (পুনঃদক্ষতা) সুযোগ বা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। অন্যদিকে, নতুন চাকরি তৈরি হবে ডেটা, সফটওয়্যার, ডিজিটাল সেবা, এআই ব্যবস্থাপনা, গ্রিন প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নত উৎপাদন খাতে। কিন্তু এসব চাকরির জন্য প্রয়োজন নতুন ধরনের দক্ষতা।
মানুষ এখন দিন দিন সেবা খাতের (সার্ভিস সেক্টর) কাজের দিকে ঝুঁকছে। এই খাতে বর্তমানে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ কাজ করলেও এর বেশিরভাগই অনিরাপদ। এমনকি ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সেবা খাতের কর্মসংস্থান ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে গেছে। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বাজারের চাহিদামতো দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারছে না। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সমাজে বাঁকা চোখে দেখা হয় এবং এটি শিল্প কারখানার চাহিদার সাথে মিল রেখে চলে না। ফলে মাধ্যমিক স্তরে এই খাতে ভর্তির হার ২০ শতাংশের নিচে।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের পেছনে সরকারি খরচ দিন দিন কমে জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্ব বাণিজ্য ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের নিয়মগুলো দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ যেহেতু স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দর কষাকষির ক্ষমতা কম থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে। তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাধিক্য কমে আসার পরও শিক্ষিত তরুণরা একটি ভালো চাকরি পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।
অন্যদিকে, কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রায় ৮৭ শতাংশই অত্যন্ত কম আয়ের অনানুষ্ঠানিক কাজে আটকে আছেন। সহজ কথায়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও তা সবার জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারছে না।
সবচেয়ে বড় সমস্যা দক্ষতার
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো মূলত পরীক্ষাকেন্দ্রিক। শিল্প খাত যে দক্ষতা চায়, তার সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শেখানো বিষয়গুলোর মিল কম। কারিগরি শিক্ষা এখনো সামাজিকভাবে কম মর্যাদাপূর্ণ, শিল্পখাতের সঙ্গে এর যোগাযোগ দুর্বল, আর পুনঃপ্রশিক্ষণের সুযোগও সীমিত। ফলে চাকরি হারানো একজন কর্মীর নতুন খাতে যাওয়ার পথ সহজ নয়।
শুধু প্রযুক্তি নয়, নীতিও পিছিয়ে
সিপিডির গবেষণাটি দেখিয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন নীতি যেমন- কর্মসংস্থান, শিল্প, রপ্তানি ও দক্ষতা উন্নয়ন আলাদা আলাদা ভাবে তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতের কর্মবাজারের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা। গিগ কর্মী (খন্ডকালীন/অস্থায়ী পেশাজীবি, যেমন-ফুড ডেলিভারি পারসন), ফ্রিল্যান্সার, প্ল্যাটফর্মভিত্তিক শ্রমিক কিংবা এআই নির্ভর কর্মপরিবেশ- এসবের জন্য এখনো স্পষ্ট নীতিগত কাঠামো নেই।
কী করা প্রয়োজন?
সিপিডির প্রতিবেদনটি কয়েকটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেছে-
শিক্ষা ও দক্ষতা খাতের সংস্কার
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতকে শিল্পখাত নেতৃত্বাধীন এবং ফলাফলভিত্তিক করতে হবে। এ জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং উদীয়মান শিল্পখাত ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে দক্ষতার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় শিক্ষা নীতি এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি অনুযায়ী নিয়মিত শ্রমবাজারভিত্তিক পাঠ্যক্রম হালনাগাদ এবং কর্মসংস্থানের পরিমাপযোগ্য ফলাফল অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এছাড়া, সম্প্রতি অনুমোদিত বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো- যা সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষার মধ্যে দক্ষতার স্বীকৃতি ও স্থানান্তর নিশ্চিত করে; সেটিকে নীতিগত নথি হিসেবে না রেখে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
পুনঃদক্ষতা উন্নয়নকে আজীবন শিক্ষার অংশ করা
এন্ট্রি লেভেল পর্যায়ের প্রশিক্ষণ, কর্মজীবনের মাঝামাঝি সময়ে দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের জন্য পৃথক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য আজীবন শিক্ষার সুযোগ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় কর্মসংস্থান নীতি ২০২২- এ প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি ধরে রাখা এবং পুনঃদক্ষতা অর্জনের জন্য কাঠামোবদ্ধ সহায়তার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
শিল্প খাতে প্রণোদনাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা
শিল্প খাতের প্রণোদনা, ঋণ, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল এবং রপ্তানি সহায়তা সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নারী, যুবক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় নিতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন এবং মানসম্মত উৎপাদনের চাপ বাড়বে। তাই প্রণোদনা এমনভাবে দিতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এবং দক্ষতানির্ভর উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত হয়।
একই সঙ্গে বাজারের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা নীতিকে এমনভাবে কার্যকর করতে হবে, যাতে বেসরকারি বিনিয়োগ দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে অবদান রাখে।
দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে সরকারি ব্যয় ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করতে হবে এবং ভবিষ্যতের উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা অর্জনের জন্য কৌশলগতভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে স্কুলশিক্ষা ও কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
শ্রমবাজার তথ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করা
একটি জাতীয় লেবার মার্কেট ইনফরমেশন সিস্টেম (এলএমআইএস) গড়ে তুলতে হবে, যা দক্ষতার চাহিদা, শূন্যপদ এবং কর্মসংস্থানের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করবে। এই তথ্য শিল্পনীতি, রপ্তানি কৌশল এবং শিক্ষা ও কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যবহার করতে হবে।
পরিবর্তিত শ্রমবাজারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রূপান্তর
প্ল্যাটফর্মভিত্তিক ও গিগ অর্থনীতির কর্মীদের জন্য একটি সুশাসন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে কর্মীর মর্যাদা, নিয়োগকর্তার দায়িত্ব এবং বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা স্পষ্ট থাকবে। শ্রম আইন ও নীতিমালাকে আধুনিকায়ন করে নমনীয়, স্বায়ত্তশাসিত এবং অপ্রচলিত কর্মসংস্থানের ধরনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি, কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের নৈতিক ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নীতির আওতায় আনতে হবে।
সবাইকে নিয়ে চলা
নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য লিঙ্গ-সংবেদনশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। নারীদের ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, চলাচল এবং পরিচর্যা সংক্রান্ত সামাজিক বাধা দূর করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উন্নত শিল্প খাতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহজপ্রাপ্য অবকাঠামো এবং সহায়ক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে।
অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা
শিল্প, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং সামাজিক সুরক্ষা নীতির মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে, যা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান কাঠামোর সঙ্গে এবং মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে গঠিত জেন্ডার অ্যান্ড স্কিলস টাস্কফোর্সের মতো আন্তঃখাতভিত্তিক সমন্বয় কাঠামোকে প্রকল্পভিত্তিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা এবং সম্প্রসারণ করা উচিত। পাশাপাশি, নাগরিক সমাজ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীরা এসব উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে গঠনমূলক তদারকি ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি নয়; প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা। এআই ও অটোমেশন চাকরি ধ্বংসও করতে পারে, আবার নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে পারে। কোনটি বেশি হবে, তা নির্ভর করবে দেশের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্পনীতি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।
যদি এখন থেকেই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায়, তাহলে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু প্রস্তুতি না থাকলে, একই পরিবর্তন বেকারত্ব, বৈষম্য এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণও হতে পারে।

আজ থেকে প্রায় আড়াইশ’ বছর আগে যখন শিল্প বিপ্লব হয়, তখন মানুষের কাজ নিয়ে তৈরি হয়েছিল শঙ্কা। আজ প্রায় কাছাকাছি পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিশ্ব। আর তার ঢেউ অনিবার্যভাবেই লেগেছে বাংলাদেশেও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স ও অটোমেশন একই প্রশ্ন আবার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে- আগামী ১০ বছরে মানুষের কাজ কী হবে?
বাংলাদেশের জন্য এই প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের বড় ভিত্তি সস্তা শ্রমনির্ভর শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত। কিন্তু বিশ্ব দ্রুত বদলাচ্ছে। কারখানায় মানুষের জায়গা নিচ্ছে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, কর্মক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করছে এআই, আর নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গত ১৫ জুলাই প্রকাশিত ‘ইজ বাংলাদেশ রেডি ফর ফিউচার অব ওয়ার্ক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ এই পরিবর্তনের যুগে প্রবেশ করেছে, কিন্তু দেশের শ্রমবাজার এখনো সেই পরিবর্তনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ১২ লাখেরও বেশি চাকরি হুমকির মুখে আছে শুধু আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বা অটোমেশনের কারণেই। এমনকি ২০৪১ সালের মধ্যে পোশাক শিল্পের ৬০ শতাংশ নারী কর্মীই তাদের কাজ হারাতে পারেন।
প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ নিয়ে কেন এই উদ্বেগ?
বাংলাদেশের প্রায় সব বড় রপ্তানি শিল্পই এখন প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে। এতে উৎপাদন বাড়বে, খরচ কমবে, কিন্তু একই সঙ্গে কমে যেতে পারে প্রচলিত চাকরি।
বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতে লাখ লাখ শ্রমিক অটোমেশনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন নারী শ্রমিকরা, কারণ এই খাতেই তাদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি।
কারখানায় উৎপাদন বাড়লেও এই খাতে নতুন চাকরি তৈরি হওয়া থমকে গেছে। বর্তমানে এই খাতের মোট কর্মসংস্থান ৮১ লাখ এসে আটকে গেছে, যা ২০১৩ সালের চেয়েও কম। আর যারা কাজ হারাচ্ছেন, তাদের নতুন কোনো কাজ শেখানোর (পুনঃদক্ষতা) সুযোগ বা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। অন্যদিকে, নতুন চাকরি তৈরি হবে ডেটা, সফটওয়্যার, ডিজিটাল সেবা, এআই ব্যবস্থাপনা, গ্রিন প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নত উৎপাদন খাতে। কিন্তু এসব চাকরির জন্য প্রয়োজন নতুন ধরনের দক্ষতা।
মানুষ এখন দিন দিন সেবা খাতের (সার্ভিস সেক্টর) কাজের দিকে ঝুঁকছে। এই খাতে বর্তমানে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ কাজ করলেও এর বেশিরভাগই অনিরাপদ। এমনকি ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সেবা খাতের কর্মসংস্থান ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে গেছে। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বাজারের চাহিদামতো দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারছে না। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সমাজে বাঁকা চোখে দেখা হয় এবং এটি শিল্প কারখানার চাহিদার সাথে মিল রেখে চলে না। ফলে মাধ্যমিক স্তরে এই খাতে ভর্তির হার ২০ শতাংশের নিচে।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের পেছনে সরকারি খরচ দিন দিন কমে জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্ব বাণিজ্য ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের নিয়মগুলো দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ যেহেতু স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দর কষাকষির ক্ষমতা কম থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে। তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাধিক্য কমে আসার পরও শিক্ষিত তরুণরা একটি ভালো চাকরি পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।
অন্যদিকে, কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রায় ৮৭ শতাংশই অত্যন্ত কম আয়ের অনানুষ্ঠানিক কাজে আটকে আছেন। সহজ কথায়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও তা সবার জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারছে না।
সবচেয়ে বড় সমস্যা দক্ষতার
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো মূলত পরীক্ষাকেন্দ্রিক। শিল্প খাত যে দক্ষতা চায়, তার সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শেখানো বিষয়গুলোর মিল কম। কারিগরি শিক্ষা এখনো সামাজিকভাবে কম মর্যাদাপূর্ণ, শিল্পখাতের সঙ্গে এর যোগাযোগ দুর্বল, আর পুনঃপ্রশিক্ষণের সুযোগও সীমিত। ফলে চাকরি হারানো একজন কর্মীর নতুন খাতে যাওয়ার পথ সহজ নয়।
শুধু প্রযুক্তি নয়, নীতিও পিছিয়ে
সিপিডির গবেষণাটি দেখিয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন নীতি যেমন- কর্মসংস্থান, শিল্প, রপ্তানি ও দক্ষতা উন্নয়ন আলাদা আলাদা ভাবে তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতের কর্মবাজারের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা। গিগ কর্মী (খন্ডকালীন/অস্থায়ী পেশাজীবি, যেমন-ফুড ডেলিভারি পারসন), ফ্রিল্যান্সার, প্ল্যাটফর্মভিত্তিক শ্রমিক কিংবা এআই নির্ভর কর্মপরিবেশ- এসবের জন্য এখনো স্পষ্ট নীতিগত কাঠামো নেই।
কী করা প্রয়োজন?
সিপিডির প্রতিবেদনটি কয়েকটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেছে-
শিক্ষা ও দক্ষতা খাতের সংস্কার
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতকে শিল্পখাত নেতৃত্বাধীন এবং ফলাফলভিত্তিক করতে হবে। এ জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং উদীয়মান শিল্পখাত ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে দক্ষতার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় শিক্ষা নীতি এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি অনুযায়ী নিয়মিত শ্রমবাজারভিত্তিক পাঠ্যক্রম হালনাগাদ এবং কর্মসংস্থানের পরিমাপযোগ্য ফলাফল অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এছাড়া, সম্প্রতি অনুমোদিত বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো- যা সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষার মধ্যে দক্ষতার স্বীকৃতি ও স্থানান্তর নিশ্চিত করে; সেটিকে নীতিগত নথি হিসেবে না রেখে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
পুনঃদক্ষতা উন্নয়নকে আজীবন শিক্ষার অংশ করা
এন্ট্রি লেভেল পর্যায়ের প্রশিক্ষণ, কর্মজীবনের মাঝামাঝি সময়ে দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের জন্য পৃথক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য আজীবন শিক্ষার সুযোগ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় কর্মসংস্থান নীতি ২০২২- এ প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি ধরে রাখা এবং পুনঃদক্ষতা অর্জনের জন্য কাঠামোবদ্ধ সহায়তার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
শিল্প খাতে প্রণোদনাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা
শিল্প খাতের প্রণোদনা, ঋণ, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল এবং রপ্তানি সহায়তা সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নারী, যুবক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় নিতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন এবং মানসম্মত উৎপাদনের চাপ বাড়বে। তাই প্রণোদনা এমনভাবে দিতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এবং দক্ষতানির্ভর উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত হয়।
একই সঙ্গে বাজারের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা নীতিকে এমনভাবে কার্যকর করতে হবে, যাতে বেসরকারি বিনিয়োগ দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে অবদান রাখে।
দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে সরকারি ব্যয় ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করতে হবে এবং ভবিষ্যতের উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা অর্জনের জন্য কৌশলগতভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে স্কুলশিক্ষা ও কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
শ্রমবাজার তথ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করা
একটি জাতীয় লেবার মার্কেট ইনফরমেশন সিস্টেম (এলএমআইএস) গড়ে তুলতে হবে, যা দক্ষতার চাহিদা, শূন্যপদ এবং কর্মসংস্থানের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করবে। এই তথ্য শিল্পনীতি, রপ্তানি কৌশল এবং শিক্ষা ও কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যবহার করতে হবে।
পরিবর্তিত শ্রমবাজারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রূপান্তর
প্ল্যাটফর্মভিত্তিক ও গিগ অর্থনীতির কর্মীদের জন্য একটি সুশাসন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে কর্মীর মর্যাদা, নিয়োগকর্তার দায়িত্ব এবং বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা স্পষ্ট থাকবে। শ্রম আইন ও নীতিমালাকে আধুনিকায়ন করে নমনীয়, স্বায়ত্তশাসিত এবং অপ্রচলিত কর্মসংস্থানের ধরনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি, কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের নৈতিক ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নীতির আওতায় আনতে হবে।
সবাইকে নিয়ে চলা
নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য লিঙ্গ-সংবেদনশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। নারীদের ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, চলাচল এবং পরিচর্যা সংক্রান্ত সামাজিক বাধা দূর করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উন্নত শিল্প খাতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহজপ্রাপ্য অবকাঠামো এবং সহায়ক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে।
অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা
শিল্প, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং সামাজিক সুরক্ষা নীতির মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে, যা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান কাঠামোর সঙ্গে এবং মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে গঠিত জেন্ডার অ্যান্ড স্কিলস টাস্কফোর্সের মতো আন্তঃখাতভিত্তিক সমন্বয় কাঠামোকে প্রকল্পভিত্তিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা এবং সম্প্রসারণ করা উচিত। পাশাপাশি, নাগরিক সমাজ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীরা এসব উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে গঠনমূলক তদারকি ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি নয়; প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা। এআই ও অটোমেশন চাকরি ধ্বংসও করতে পারে, আবার নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে পারে। কোনটি বেশি হবে, তা নির্ভর করবে দেশের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্পনীতি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।
যদি এখন থেকেই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায়, তাহলে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু প্রস্তুতি না থাকলে, একই পরিবর্তন বেকারত্ব, বৈষম্য এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণও হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অসীম শাহের তথ্য অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রায় ৪৪ হাজার ৬১৩টি পরামর্শ পেয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ হাজার ২৩৯টি ইমেলের মাধ্যমে এবং ২৫ হাজার ৩৭৪টি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এসেছে। তবে টাস্ক ফোর্সের কোনো নিজস্ব অবস্থান বা রাজনৈতিক এজেন্ডা তৈরি করার আইনি এখতিয়ার ছিল না।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরটি বাগদাদের রাজনীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে নতুন রূপ দেওয়া তীব্র চাপকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। আল জাজিরায় লেখা সাংবাদিক জসিম আল-আজাবির এক নিবন্ধে উঠে এসেছে এই রাজনৈতিক সমীকরণ। গত মঙ্গলবার ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব