ফজলে রাব্বি

সারা দেশে গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি তেলের বাজারকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলার পাম্পগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
এ অবস্থার মধ্যে একদিকে সরকার ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দাবি করছে, দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের চিত্র, জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ এবং পেট্রোলপাম্প মালিকদের অভিজ্ঞতায় উঠে আসছে সরবরাহ চেইন ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির এক ভিন্ন চিত্র।
পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ‘নাজুক’ আখ্যা দিয়েছেন। চরচাকে তিনি জানান, ভোক্তাদের মধ্যে তৈরি হওয়া ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত ক্রয় প্রবণতা সামাল দিতে গিয়ে পাম্প মালিকরা কেবল ব্যবসায়িক নয়, বরং মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, খোদ মালিক সমিতির সভাপতির নিজের পাম্পেও তেল শেষ হয়ে গিয়েছিল, যা পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় সংগ্রহ করে পুনরায় সরবরাহ চালু করতে হয়েছে।
পেট্রোল ও অকটেনের মতো শতভাগ দেশীয় উৎপাদিত পণ্য ঘিরে যদি এমন অব্যবস্থাপনা দেখা যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো জটিল হলে আমাদানি করা ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের সংকট পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে যেতে পারে তা ভাবিয়ে তুলেছে ভোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের।
সংকট অস্বীকারের সংস্কৃতি বনাম বাস্তবতা
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘অস্পষ্ট এবং আশঙ্কাজনক’ অবস্থা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, সংকটের মূলে রয়েছে নীতিনির্ধারকদের সমস্যা স্বীকার না করার প্রবণতা। চরচাকে তিনি বলেন, “ক্রাইসিসকে ক্রাইসিস হিসেবে যদি ডিল করা হয় তাহলে কিন্তু এত সমস্যা হয় না; আমরা ক্রাইসিসকে ক্রাইসিস বলতে চাচ্ছি না।”
অধ্যাপক ইজাজ ফিলিপাইনের উদাহরণ টেনে উল্লেখ করে, সেখানে সংকটের শুরুতেই ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি’ বা জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, যা জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
ইজাজ হোসেনের মতে, আমাদের দেশের মন্ত্রীদের মধ্যে সমস্যা অস্বীকার করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা সংকট সমাধানের পথে বড় বাঁধা। তিনি মনে করেন, যখন সরকার বলবে যে, কোনো সমস্যা নেই, অথচ মানুষ পাম্পে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও তেল পাবে না, তখন জনমনে আতঙ্ক আরও বাড়বে। তার ভাষ্য ষায়, “ওদেরকে ভালো করে একটা ইনভেস্টিগেশন করা উচিত; এত ক্রিটিকাল একটা জিনিস এতগুলো লোক সাফার করছে রাস্তায়, ভালো করে দেখা উচিত কেন এটা হচ্ছে।”
কেন ডিপো থেকে তেল পাঠানো সত্ত্বেও পাম্পের লাইন কমছে না, এর পেছনে মজুতদারি বা অভ্যন্তরীণ কোনো ব্যবস্থাপনাগত ‘গোলমাল’ আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে তিনি কঠোর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কেনা শুরু করায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দেয় সরকার। পরে রাইডশেয়ারিং চালকদের জন্য মোটরসাইকেলে জ্বালানির সীমা দুই লিটার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লিটার করা হয়।
গত ১৫ মার্চ থেকে জ্বালানি বিক্রিতে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেয় সরকার। তবুও ঈদের ছুটিতে ঢাকার বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে অনেক জায়গায় তেল না থাকায় বিপাকে পড়েছে অনেকে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বিভিন্ন দেশের উদ্যাগ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে জ্বালানি ঝুঁকি মোকাবিলায় ফিলিপাইন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফিলিপাইন জ্বালানি সরবরাহে জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করে মজুত বাড়ানো ও মূল্য নজরদারি কঠোর করেছে।
ভারত সরকারি দপ্তরে জ্বালানি সাশ্রয়ে আংশিক অফিস কার্যক্রম সীমিত ও বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দেয়, পাশাপাশি তেল মজুদ পর্যবেক্ষণ বাড়ায়।
পাকিস্তানও জ্বালানি সংকট ঠেকাতে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, বাজার-দোকান আগেভাগে বন্ধ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ নেয়। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহারের প্রস্তুতি ও বিকল্প আমদানি উৎস নিশ্চিত করছে।
মাঠপর্যায়ের বিশৃঙ্খলা ও রেশনিং প্রসঙ্গ
পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা মাঠপর্যায়ের চরম বিশৃঙ্খলাকেই ফুটিয়ে তোলে। তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আজ তিনি ও তার কর্মীরা চরম ক্লান্ত।
নাজমুল বলেন, “সকাল থেকে কোনো ব্রেকফাস্ট করতে পারিনি। সারাদিন মিটিং ছিল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে; মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব মহোদয় সবাই উপস্থিত ছিলেন।” তিনি বলেন, পাম্পের পরিবেশ বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
নাজমুল হকের মতে, পাম্পগুলোতে এখন ‘ভিআইপি কালচার’ বা প্রভাবশালীদের চাপ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাম্পে এখন ভিআইপি পরিচয়ধারী ব্যক্তি ও শালা-দুলাভাইয়ের আনাগোনা উদ্বগেজনকভাবে বেড়ে গেছে। আমি তো পাগল হয়ে গেলাম।”
সরকারের পক্ষ থেকে তেলের রেশনিং বা কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দিয়ে উন্মুক্ত বিক্রির যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাকে নাজমুল হক একটি ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় রেশনিং ব্যবস্থা বজায় রাখা ছিল অপরিহার্য। তিনি বলেন, “২ লিটারের জায়গায় ৫ লিটার বা ১০ লিটারের জায়গায় ১৫ লিটার কোটা করে দিলেও চলত, কিন্তু একদম উন্মুক্ত করে দেওয়া ঠিক হয়নি। প্রথম থেকে রেশনিং এর পথে না হাঁটলেও হয়ত কয়েক দিনের মধ্যে মানুষের আতঙ্ক কেটে যেত।”

ডিজেল ও সেচ মৌসুম: কৃষিখাতে কালো মেঘ
দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই হচ্ছে ডিজেল, যা মূলত পরিবহন এবং কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয়। বর্তমান সংকটকালে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষি খাত, বিশেষ করে চলমান সেচ মৌসুম। কৃষকরা সেচের জন্য ডিজেল সংগ্রহ করতে গিয়ে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ অপেক্ষায় থেকেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের কানসাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পাম্পে তেলের জন্য এক কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। সেখানে ট্রাক ও পাওয়ার টিলারচালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে বিক্ষোভ করেছেন বলেও খবরে উঠে এসেছে।
যদিও বিপিসি দাবি করছে যে, তারা গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি সরবরাহ নিশ্চিত করছে, কিন্তু নাজমুল হক এই দাবিকে বাস্তবসম্মত মনে করছেন না। তিনি বলেন, “আপনি ২৫ এর চাহিদা ২৬ এ মিটাইতে চান, এটা তো হবে না; এটাই সংকট।” অর্থাৎ চাহিদার যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেই তুলনায় বরাদ্দ না বাড়িয়ে কেবল গত বছরের পরিসংখ্যান দিয়ে বর্তমান সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
সেচ মৌসুম উপলক্ষে সরকার সাধারণত শনিবারেও ডিপো খোলা রেখে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। তবে সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় অনেক পাম্প পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিপিসি আগামী দুই মাসের জন্য আগাম পরিকল্পনা নিলেও এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চাহিদার মাত্র এক-চতুর্থাংশ তেলের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। যদি এপ্রিল ও মে মাসে আমদানির জাহাজগুলোর সময়মতো আগমন নিশ্চিত না হয়, তবে এই ডিজেল সংকট দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সরবরাহ চেইনের জটিলতা ও ডিসপেন্সিং সক্ষমতা
শহরের পাম্পগুলোর ‘ডিসপেন্সিং ক্যাপাসিটি’ বা তেল দেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে ভাবার অবকাশ আছে বলে মনে করেন অধ্যাপক ইজাজ হোসেন। তিনি বলেন, রাইড শেয়ারিং অ্যাপের কারণে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বর্তমানে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যা পাম্পগুলোতে অভূতপূর্ব চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “একটু এদিক ওদিক হলেই আমাদের দেওয়ার ক্যাপাসিটি ফেইল করে যায় এবং লাইনটা বাড়তেই থাকে।” এই বিশেষজ্ঞের মতে, ঢাকা শহরে মোটরসাইকেলের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আরও অন্তত ২০টি বিশেষায়িত বিতরণ কেন্দ্র বা পাম্প স্থাপন করা উচিত।
অন্যদিকে, সরবরাহের উৎস বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের প্রায় ৬০ শতাংশই দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের কনডেনসেট থেকে এবং বাকিটা ইস্টার্ণ রিফা্ইনারিতে উৎপাদন হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার ফলে জ্বালানি আমদানির জাহাজ সূচি পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গেছে। মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) এবং চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে জ্বালানি খালাস হওয়ার কথা থাকলেও বৈশ্বিক অস্থিরতা সরবরাহ চেইনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে বলে অধ্যাপক ইজাজ সতর্ক করেছেন।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও নীতিনির্ধারণী সুপারিশ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে যেন কোথাও কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারি না হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল প্রশাসনিক নজরদারি যথেষ্ট নয়; বরং প্রকৃত মজুদের তথ্য নিয়মিতভাবে জনসাধারণের কাছে স্বচ্ছতার সাথে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকলে গুজব ডালপালা মেলবে এবং ‘প্যানিক বায়িং’ বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
অধ্যাপক ইজাজ হোসেন সরকারকে টেবিলে বসে না থেকে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, প্রতিটি পাম্পে এক ঘণ্টায় কতজনকে তেল দেওয়া হচ্ছে এবং কতখানি তেল সরবরাহ আসছে, তার প্রকৃত ডেটা বিশ্লেষণ করা জরুরি। একইভাবে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির দাবি অনুযায়ী, রেশনিং ব্যবস্থা পুনরায় প্রবর্তন এবং বাস্তবসম্মত চাহিদার ভিত্তিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
ভবিষ্যৎ শঙ্কা ও সমাধানের পথ
আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা না গেলে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের সংকটে যদি সেচ কাজ ব্যাহত হয়, তবে বোরো আবাদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগকে কেবল আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পাম্প পর্যায়ে তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
২৫ মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেশে তেলের কোনো বাস্তব ভৌত মজুত সংকট নেই। তবে সরবরাহ ব্যবস্থাপনার অদূরদর্শিতা, তথ্যের অস্বচ্ছতা এবং বর্ধিত চাহিদার সাথে বরাদ্দের সমন্বয় না থাকাই বর্তমান সংকটের মূল অনুঘটক। সেচ মৌসুমে কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে জাহাজ আগমন নিশ্চিত করা এবং বিতরণ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

সারা দেশে গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি তেলের বাজারকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলার পাম্পগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
এ অবস্থার মধ্যে একদিকে সরকার ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দাবি করছে, দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের চিত্র, জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ এবং পেট্রোলপাম্প মালিকদের অভিজ্ঞতায় উঠে আসছে সরবরাহ চেইন ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির এক ভিন্ন চিত্র।
পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ‘নাজুক’ আখ্যা দিয়েছেন। চরচাকে তিনি জানান, ভোক্তাদের মধ্যে তৈরি হওয়া ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত ক্রয় প্রবণতা সামাল দিতে গিয়ে পাম্প মালিকরা কেবল ব্যবসায়িক নয়, বরং মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, খোদ মালিক সমিতির সভাপতির নিজের পাম্পেও তেল শেষ হয়ে গিয়েছিল, যা পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় সংগ্রহ করে পুনরায় সরবরাহ চালু করতে হয়েছে।
পেট্রোল ও অকটেনের মতো শতভাগ দেশীয় উৎপাদিত পণ্য ঘিরে যদি এমন অব্যবস্থাপনা দেখা যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো জটিল হলে আমাদানি করা ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের সংকট পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে যেতে পারে তা ভাবিয়ে তুলেছে ভোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের।
সংকট অস্বীকারের সংস্কৃতি বনাম বাস্তবতা
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘অস্পষ্ট এবং আশঙ্কাজনক’ অবস্থা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, সংকটের মূলে রয়েছে নীতিনির্ধারকদের সমস্যা স্বীকার না করার প্রবণতা। চরচাকে তিনি বলেন, “ক্রাইসিসকে ক্রাইসিস হিসেবে যদি ডিল করা হয় তাহলে কিন্তু এত সমস্যা হয় না; আমরা ক্রাইসিসকে ক্রাইসিস বলতে চাচ্ছি না।”
অধ্যাপক ইজাজ ফিলিপাইনের উদাহরণ টেনে উল্লেখ করে, সেখানে সংকটের শুরুতেই ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি’ বা জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, যা জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
ইজাজ হোসেনের মতে, আমাদের দেশের মন্ত্রীদের মধ্যে সমস্যা অস্বীকার করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা সংকট সমাধানের পথে বড় বাঁধা। তিনি মনে করেন, যখন সরকার বলবে যে, কোনো সমস্যা নেই, অথচ মানুষ পাম্পে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও তেল পাবে না, তখন জনমনে আতঙ্ক আরও বাড়বে। তার ভাষ্য ষায়, “ওদেরকে ভালো করে একটা ইনভেস্টিগেশন করা উচিত; এত ক্রিটিকাল একটা জিনিস এতগুলো লোক সাফার করছে রাস্তায়, ভালো করে দেখা উচিত কেন এটা হচ্ছে।”
কেন ডিপো থেকে তেল পাঠানো সত্ত্বেও পাম্পের লাইন কমছে না, এর পেছনে মজুতদারি বা অভ্যন্তরীণ কোনো ব্যবস্থাপনাগত ‘গোলমাল’ আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে তিনি কঠোর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কেনা শুরু করায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দেয় সরকার। পরে রাইডশেয়ারিং চালকদের জন্য মোটরসাইকেলে জ্বালানির সীমা দুই লিটার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লিটার করা হয়।
গত ১৫ মার্চ থেকে জ্বালানি বিক্রিতে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেয় সরকার। তবুও ঈদের ছুটিতে ঢাকার বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে অনেক জায়গায় তেল না থাকায় বিপাকে পড়েছে অনেকে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বিভিন্ন দেশের উদ্যাগ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে জ্বালানি ঝুঁকি মোকাবিলায় ফিলিপাইন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফিলিপাইন জ্বালানি সরবরাহে জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করে মজুত বাড়ানো ও মূল্য নজরদারি কঠোর করেছে।
ভারত সরকারি দপ্তরে জ্বালানি সাশ্রয়ে আংশিক অফিস কার্যক্রম সীমিত ও বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দেয়, পাশাপাশি তেল মজুদ পর্যবেক্ষণ বাড়ায়।
পাকিস্তানও জ্বালানি সংকট ঠেকাতে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, বাজার-দোকান আগেভাগে বন্ধ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ নেয়। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহারের প্রস্তুতি ও বিকল্প আমদানি উৎস নিশ্চিত করছে।
মাঠপর্যায়ের বিশৃঙ্খলা ও রেশনিং প্রসঙ্গ
পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা মাঠপর্যায়ের চরম বিশৃঙ্খলাকেই ফুটিয়ে তোলে। তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আজ তিনি ও তার কর্মীরা চরম ক্লান্ত।
নাজমুল বলেন, “সকাল থেকে কোনো ব্রেকফাস্ট করতে পারিনি। সারাদিন মিটিং ছিল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে; মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব মহোদয় সবাই উপস্থিত ছিলেন।” তিনি বলেন, পাম্পের পরিবেশ বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
নাজমুল হকের মতে, পাম্পগুলোতে এখন ‘ভিআইপি কালচার’ বা প্রভাবশালীদের চাপ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাম্পে এখন ভিআইপি পরিচয়ধারী ব্যক্তি ও শালা-দুলাভাইয়ের আনাগোনা উদ্বগেজনকভাবে বেড়ে গেছে। আমি তো পাগল হয়ে গেলাম।”
সরকারের পক্ষ থেকে তেলের রেশনিং বা কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দিয়ে উন্মুক্ত বিক্রির যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাকে নাজমুল হক একটি ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় রেশনিং ব্যবস্থা বজায় রাখা ছিল অপরিহার্য। তিনি বলেন, “২ লিটারের জায়গায় ৫ লিটার বা ১০ লিটারের জায়গায় ১৫ লিটার কোটা করে দিলেও চলত, কিন্তু একদম উন্মুক্ত করে দেওয়া ঠিক হয়নি। প্রথম থেকে রেশনিং এর পথে না হাঁটলেও হয়ত কয়েক দিনের মধ্যে মানুষের আতঙ্ক কেটে যেত।”

ডিজেল ও সেচ মৌসুম: কৃষিখাতে কালো মেঘ
দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই হচ্ছে ডিজেল, যা মূলত পরিবহন এবং কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয়। বর্তমান সংকটকালে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষি খাত, বিশেষ করে চলমান সেচ মৌসুম। কৃষকরা সেচের জন্য ডিজেল সংগ্রহ করতে গিয়ে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ অপেক্ষায় থেকেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের কানসাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পাম্পে তেলের জন্য এক কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। সেখানে ট্রাক ও পাওয়ার টিলারচালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে বিক্ষোভ করেছেন বলেও খবরে উঠে এসেছে।
যদিও বিপিসি দাবি করছে যে, তারা গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি সরবরাহ নিশ্চিত করছে, কিন্তু নাজমুল হক এই দাবিকে বাস্তবসম্মত মনে করছেন না। তিনি বলেন, “আপনি ২৫ এর চাহিদা ২৬ এ মিটাইতে চান, এটা তো হবে না; এটাই সংকট।” অর্থাৎ চাহিদার যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেই তুলনায় বরাদ্দ না বাড়িয়ে কেবল গত বছরের পরিসংখ্যান দিয়ে বর্তমান সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
সেচ মৌসুম উপলক্ষে সরকার সাধারণত শনিবারেও ডিপো খোলা রেখে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। তবে সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় অনেক পাম্প পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিপিসি আগামী দুই মাসের জন্য আগাম পরিকল্পনা নিলেও এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চাহিদার মাত্র এক-চতুর্থাংশ তেলের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। যদি এপ্রিল ও মে মাসে আমদানির জাহাজগুলোর সময়মতো আগমন নিশ্চিত না হয়, তবে এই ডিজেল সংকট দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সরবরাহ চেইনের জটিলতা ও ডিসপেন্সিং সক্ষমতা
শহরের পাম্পগুলোর ‘ডিসপেন্সিং ক্যাপাসিটি’ বা তেল দেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে ভাবার অবকাশ আছে বলে মনে করেন অধ্যাপক ইজাজ হোসেন। তিনি বলেন, রাইড শেয়ারিং অ্যাপের কারণে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বর্তমানে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যা পাম্পগুলোতে অভূতপূর্ব চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “একটু এদিক ওদিক হলেই আমাদের দেওয়ার ক্যাপাসিটি ফেইল করে যায় এবং লাইনটা বাড়তেই থাকে।” এই বিশেষজ্ঞের মতে, ঢাকা শহরে মোটরসাইকেলের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আরও অন্তত ২০টি বিশেষায়িত বিতরণ কেন্দ্র বা পাম্প স্থাপন করা উচিত।
অন্যদিকে, সরবরাহের উৎস বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের প্রায় ৬০ শতাংশই দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের কনডেনসেট থেকে এবং বাকিটা ইস্টার্ণ রিফা্ইনারিতে উৎপাদন হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার ফলে জ্বালানি আমদানির জাহাজ সূচি পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গেছে। মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) এবং চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে জ্বালানি খালাস হওয়ার কথা থাকলেও বৈশ্বিক অস্থিরতা সরবরাহ চেইনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে বলে অধ্যাপক ইজাজ সতর্ক করেছেন।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও নীতিনির্ধারণী সুপারিশ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে যেন কোথাও কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারি না হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল প্রশাসনিক নজরদারি যথেষ্ট নয়; বরং প্রকৃত মজুদের তথ্য নিয়মিতভাবে জনসাধারণের কাছে স্বচ্ছতার সাথে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকলে গুজব ডালপালা মেলবে এবং ‘প্যানিক বায়িং’ বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
অধ্যাপক ইজাজ হোসেন সরকারকে টেবিলে বসে না থেকে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, প্রতিটি পাম্পে এক ঘণ্টায় কতজনকে তেল দেওয়া হচ্ছে এবং কতখানি তেল সরবরাহ আসছে, তার প্রকৃত ডেটা বিশ্লেষণ করা জরুরি। একইভাবে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির দাবি অনুযায়ী, রেশনিং ব্যবস্থা পুনরায় প্রবর্তন এবং বাস্তবসম্মত চাহিদার ভিত্তিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
ভবিষ্যৎ শঙ্কা ও সমাধানের পথ
আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা না গেলে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের সংকটে যদি সেচ কাজ ব্যাহত হয়, তবে বোরো আবাদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগকে কেবল আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পাম্প পর্যায়ে তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
২৫ মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেশে তেলের কোনো বাস্তব ভৌত মজুত সংকট নেই। তবে সরবরাহ ব্যবস্থাপনার অদূরদর্শিতা, তথ্যের অস্বচ্ছতা এবং বর্ধিত চাহিদার সাথে বরাদ্দের সমন্বয় না থাকাই বর্তমান সংকটের মূল অনুঘটক। সেচ মৌসুমে কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে জাহাজ আগমন নিশ্চিত করা এবং বিতরণ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

মার্কিন সাংবাদিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লিওন হাডারের বিশ্লেষণে একটি কেন্দ্রীয় থিম বারবার ফিরে আসে—যুক্তরাষ্ট্র তার অতীত থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক যুদ্ধ, বিশেষ করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ হাডারের মতে কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের নীতিগত ভুল, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলছেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তিনি মিলে প্রায় এক মাস আগে তিনি যে যুদ্ধের সূচনা করেছিলেন, তা অবসানের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তবে এই বক্তব্যের বড় সমস্যা হলো, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার তা অস্বীকার করেছেন।