আরমান ভূঁইয়া

সারা দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ২০ শয্যার একটি বিশেষ ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে সব প্রস্তুতি শেষ হলেও এখনো চালু হয়নি হাসপাতালটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পেলেই শুরু হবে চিকিৎসাসেবা।
ঢামেক হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হাম-আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে আসছে। অনেক শিশুই জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে ঢামেকের শিশু ওয়ার্ড হিমশিম খাচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ ওয়ার্ডে রাখা হলে অন্য রোগীরাও সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়বে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢামেক হাসপাতালের ডা. মিলন অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে ২০ শয্যার একটি বিশেষ ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করেছে সেনাবাহিনী।
চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা। বিশেষ করে এক বছরের নিচের শিশুদের ঝুঁকি বেশি। যেসব শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।
হাসপাতালটির চিকিৎসা ও তত্ত্বাবধান করবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ। মূলত শিশুদের হাম ও ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্যই এটি প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে অক্সিজেন সাপোর্ট, নেবুলাইজেশন সুবিধা, পৃথক বেড ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কবে নাগাদ এই ফিল্ড হাসপাতাল চালু হবে–জানতে চাইলে ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “সরকারের নির্দেশনা পেলেই হামের রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা ফিল্ড হাসপাতালটি চালু করা হবে। সরকারের নির্দেশেই এই বিশেষ হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা বড় কোনো ইউনিট নেই। তারপরও পরিস্থিতি বিবেচনায় ছোট পরিসরে একটি বিশেষ ইউনিট চালু করে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
পরিচালক বলেন, “বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও আউটডোর মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫ জন হাম-আক্রান্ত রোগী আসছে। তবে সবাই ভর্তি হওয়ার মতো অবস্থায় থাকে না। যাদের শারীরিক অবস্থা জটিল এবং ভর্তি প্রয়োজন হয়, তাদের জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে।”
ফিল্ড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও ঢামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল আলম চৌধুরী চরচাকে বলেন, “হাম-আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০ শয্যার বিশেষ ফিল্ড হাসপাতালের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য পৃথক রোস্টারও তৈরি করা হয়েছে। যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটি চালু করা হবে, সেদিন থেকেই রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।”
হামের চিকিৎসার কথা তুলে ধরে এই চিকিৎসক বলেন, “বর্তমানে শিশু বিভাগের একটি আলাদা ইউনিটে ১১টি বেডে প্রায় ২২ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিদ্যমান ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।”

শফিকুল আলম চৌধুরী আরও বলেন, “সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রান্ত শিশুদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই আলাদা ফিল্ড হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই এটি চালু করা হবে, যাতে বাড়তি রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া যায়।”
চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা। বিশেষ করে এক বছরের নিচের শিশুদের ঝুঁকি বেশি। যেসব শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।
ঢামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. হাবিবা খাতুন বলেন, “যেসব শিশু হামের টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া আবহাওয়া পরিবর্তন, ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ এবং আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত আলাদা না রাখার কারণেও সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।”

এই চিকিৎসক বলেন, “হামের শুরুতে সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর মুখ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে পুরো শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিশুর খাওয়ার রুচি কমে যায়, দুর্বলতা দেখা দেয় এবং কখনো কখনো ডায়রিয়া বা শ্বাসকষ্টও হতে পারে।”
হাবিবা খাতুন আরও বলেন, “যদি শিশুর জ্বর দীর্ঘসময় থাকে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, খেতে না পারে, অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ে বা খিঁচুনি দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। সাধারণত হাম সংক্রমণের চারদিন পর শরীরে র্যাশ দেখা দেয়। তবে তার আগেই মুখের ভেতরে লক্ষণ দেখা দিতে পারে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামে ৬১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৬৫৬ জনে। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৯৭৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৩৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর রাজশাহী বিভাগে ৭৮ জন, চট্টগ্রামে ২৫ জন, খুলনায় ১৮ জন এবং বরিশালে ১২ জন মারা গেছে। গত ২০ বছরে হামে এত মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও টিকাদানে অনিয়ম, অপুষ্টি এবং দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। তাদের মতে, সময়মতো এমআর টিকা নিশ্চিত করা, আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমেই সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমানো সম্ভব।
চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দিলেও ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুসারে, ২০০৫ সালে ২৫ হাজারের বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছিল এবং ১০০ জনের বেশি শিশু মারা গিয়েছিল। এরপর গত ২০ বছরে আর এত বেশি শিশু আক্রান্ত বা মৃত্যু কোনো বছরই হয়নি।
৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের হামের দুটি টিকা দেওয়া হয়। অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি চার বছর পর অতীতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হলেও ২০২৪ সালে তা হয়নি। এর আগে ২০২০ সালে কোভিডের কারণে ওই বিশেষ ক্যাম্পেইন হয়নি। আর রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে ২০২৪ সালে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিও সেভাবে পরিচালিত হয়নি।

সারা দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ২০ শয্যার একটি বিশেষ ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে সব প্রস্তুতি শেষ হলেও এখনো চালু হয়নি হাসপাতালটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পেলেই শুরু হবে চিকিৎসাসেবা।
ঢামেক হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হাম-আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে আসছে। অনেক শিশুই জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে ঢামেকের শিশু ওয়ার্ড হিমশিম খাচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ ওয়ার্ডে রাখা হলে অন্য রোগীরাও সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়বে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢামেক হাসপাতালের ডা. মিলন অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে ২০ শয্যার একটি বিশেষ ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করেছে সেনাবাহিনী।
চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা। বিশেষ করে এক বছরের নিচের শিশুদের ঝুঁকি বেশি। যেসব শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।
হাসপাতালটির চিকিৎসা ও তত্ত্বাবধান করবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ। মূলত শিশুদের হাম ও ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্যই এটি প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে অক্সিজেন সাপোর্ট, নেবুলাইজেশন সুবিধা, পৃথক বেড ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কবে নাগাদ এই ফিল্ড হাসপাতাল চালু হবে–জানতে চাইলে ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “সরকারের নির্দেশনা পেলেই হামের রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা ফিল্ড হাসপাতালটি চালু করা হবে। সরকারের নির্দেশেই এই বিশেষ হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা বড় কোনো ইউনিট নেই। তারপরও পরিস্থিতি বিবেচনায় ছোট পরিসরে একটি বিশেষ ইউনিট চালু করে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
পরিচালক বলেন, “বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও আউটডোর মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫ জন হাম-আক্রান্ত রোগী আসছে। তবে সবাই ভর্তি হওয়ার মতো অবস্থায় থাকে না। যাদের শারীরিক অবস্থা জটিল এবং ভর্তি প্রয়োজন হয়, তাদের জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে।”
ফিল্ড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও ঢামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল আলম চৌধুরী চরচাকে বলেন, “হাম-আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০ শয্যার বিশেষ ফিল্ড হাসপাতালের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য পৃথক রোস্টারও তৈরি করা হয়েছে। যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটি চালু করা হবে, সেদিন থেকেই রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।”
হামের চিকিৎসার কথা তুলে ধরে এই চিকিৎসক বলেন, “বর্তমানে শিশু বিভাগের একটি আলাদা ইউনিটে ১১টি বেডে প্রায় ২২ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিদ্যমান ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।”

শফিকুল আলম চৌধুরী আরও বলেন, “সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রান্ত শিশুদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই আলাদা ফিল্ড হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই এটি চালু করা হবে, যাতে বাড়তি রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া যায়।”
চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা। বিশেষ করে এক বছরের নিচের শিশুদের ঝুঁকি বেশি। যেসব শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।
ঢামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. হাবিবা খাতুন বলেন, “যেসব শিশু হামের টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া আবহাওয়া পরিবর্তন, ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ এবং আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত আলাদা না রাখার কারণেও সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।”

এই চিকিৎসক বলেন, “হামের শুরুতে সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর মুখ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে পুরো শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিশুর খাওয়ার রুচি কমে যায়, দুর্বলতা দেখা দেয় এবং কখনো কখনো ডায়রিয়া বা শ্বাসকষ্টও হতে পারে।”
হাবিবা খাতুন আরও বলেন, “যদি শিশুর জ্বর দীর্ঘসময় থাকে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, খেতে না পারে, অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ে বা খিঁচুনি দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। সাধারণত হাম সংক্রমণের চারদিন পর শরীরে র্যাশ দেখা দেয়। তবে তার আগেই মুখের ভেতরে লক্ষণ দেখা দিতে পারে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামে ৬১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৬৫৬ জনে। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৯৭৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৩৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর রাজশাহী বিভাগে ৭৮ জন, চট্টগ্রামে ২৫ জন, খুলনায় ১৮ জন এবং বরিশালে ১২ জন মারা গেছে। গত ২০ বছরে হামে এত মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও টিকাদানে অনিয়ম, অপুষ্টি এবং দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। তাদের মতে, সময়মতো এমআর টিকা নিশ্চিত করা, আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমেই সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমানো সম্ভব।
চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দিলেও ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুসারে, ২০০৫ সালে ২৫ হাজারের বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছিল এবং ১০০ জনের বেশি শিশু মারা গিয়েছিল। এরপর গত ২০ বছরে আর এত বেশি শিশু আক্রান্ত বা মৃত্যু কোনো বছরই হয়নি।
৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের হামের দুটি টিকা দেওয়া হয়। অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি চার বছর পর অতীতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হলেও ২০২৪ সালে তা হয়নি। এর আগে ২০২০ সালে কোভিডের কারণে ওই বিশেষ ক্যাম্পেইন হয়নি। আর রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে ২০২৪ সালে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিও সেভাবে পরিচালিত হয়নি।

২১ বছর বয়সী সাইফুল ইসলামের মতো অনেক মানুষের কাছে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান শুধু শেখ হাসিনার পতন ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার এক নতুন আশার শুরু। কিন্তু এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার গণতান্ত্রিক সংস্কার বাস্তবা