Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

তেল-গ্যাসের দামে জোর হাওয়া, ঝুঁকিতে খোদ আমেরিকাও

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ২২: ২৯
তেল-গ্যাসের দামে জোর হাওয়া, ঝুঁকিতে খোদ আমেরিকাও

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে একটা অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গোটা বিশ্বে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে এর প্রভাব বাজার অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

Advertisement

ইরানে হামলার পর অনুমিত প্রতিক্রিয়া হিসেবেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহের ২০ শতাংশই হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এ যুদ্ধ পুরো দুনিয়ার জ্বালানি সরবরাহ নিয়েই ভয়াবহ শঙ্কা তৈরি করেছে।

এমনিতেই মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো অস্থিরতাই বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করে। সরাসরি কোনো তেল শোধনাগারে হামলা না হলেও দেখা যায়, এ অঞ্চলে যেকোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সংঘাত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। আর এবার সরাসরি আগুন লেগেছে সৌদি আরামকোর অপরিশোধিত জ্বালানি তেল শোধনাগারে। ফলে সেই শোধনাগার বন্ধের ঘোষণাও এসেছে সৌদি আরবের তরফ থেকে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার কাতার এনার্জি উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ এই এলএনজি উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের এই ঘোষণার প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে এলএনজির প্রতি ইউনিটের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে। আর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এরই মধ্যে আগের চেয়ে ১০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যদিও আটলান্টিক কাউন্সিলের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জ্বালানির বাজার নিয়ে যতটা আশঙ্কা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি ততটা জটিল নয় এখনো। তারা এক হিসাবে দেখিয়েছে, ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চলা ইরাক যুদ্ধের সময় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ৭২ ডলারে পৌঁছেছিল। মূল্যস্ফীতিকে বিবেচনায় নিলে আজকের বাজারে এই ৭২ ডলারের মূল্যমান ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেত।

ইউরোপে গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বাড়লenergy plant

যদিও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে স্পষ্ট শঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর জেরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে বড় প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। এমনকি এই যুদ্ধ যদি সংক্ষিপ্তও হয়, তাহলেও জ্বালানি তেল গোটা বিশ্বেই দামি হয়ে যাবে।

বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান যে দশা, তাতে এমন একটি যুদ্ধের ধক নেওয়ার সক্ষমতা এই মুহূর্তে কারও নেই। যুদ্ধ যত সংক্ষিপ্ত বা দীর্ঘই হোক না কেন, এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতির এক বড় চক্রে দুনিয়া পড়ছে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, জ্বালানির দামের প্রভাব শুধু পেট্রোল পাম্পেই পড়ে না। এই জ্বালানির ওপরই নির্ভর করে গোটা বিশ্বের উৎপাদন খাত।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই বিষয়টি বিবেচনা করা যাক।

দেশের উৎপাদন খাত সরাসরি নির্ভরশীল শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহের ওপর। বাসাবাড়ি তো বটেই, শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ সংকট চলছে অনেক দিন হলো। এলএনজি আমদানি তাই বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে হয়তো বিকল্প পথে জ্বালানি আমদানি করা যাবে। কিন্তু বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে, বিকল্প উৎসেও দাম বাড়বে। ফলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে উৎপাদন ব্যয়ে। ফলত, পণ্যের দামে। পণ্যের দাম বেড়ে গেলে মানুষের প্রকৃত আয় যাবে কমে। সঙ্গে আছে যুদ্ধের পরোক্ষ খরচ বহনের বোঝা। ফলে এটা এক বিরাট চক্র।

ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

এমনিতেই দীর্ঘ সময়ের ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধ বিশ্বের অর্থনীতিতে বড় ক্ষত তেরি করেছে। এই ক্ষত এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও রয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অ্যাপ্রুভাল’ রেটিংয়ে।

হ্যাঁ, এই সংকটে যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো জ্বালানি আমদানি করতে হবে না। কিন্তু নগর পুড়িলে কি দেবালয় এড়ায়? এড়ায় না। ফলে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা তার বাজারেও পড়বে। কারণ, তাকেও অনেক কিছু আমদানি করতে হয়।

একটু বোঝা যাক।

গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর তেলের বাজার অস্থির হয়েছিল। যদিও ভেনেজুয়েলা বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ১ শতাংশ উৎপাদন করে। এবার যদি ইরানের দিকে তাকানো যায়, তাহলে দেখা যাবে–ইরান নিজে শুধু তেল উৎপাদনই করে না, তেল পরিবহনের যে সমুদ্রপথ, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আর ইরানে হামলার জেরে এরই মধ্যে কাতার, সৌদি আরব, কুয়েতসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশে অস্থিরতা ছড়িয়ে গেছে। শুরুতেই কাতারের কথা বলা হলো, সৌদি আরামকোর কথাও বলা হলো। অর্থাৎ, ইরানে একটি যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানিকারক একটি বৃহত্তর পরিসর জড়িয়ে পড়েছে। ফলে বাজারে এর প্রভাব বহুগুণ হওয়াটাই অনুমেয়।

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেসন বোর্ডফ নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, “আমেরিকানরা পেট্রোল পাম্পে এর কিছু প্রভাব দেখবে। তবে ইরানের নেতাকে হত্যার মতো একটি ব্যাপক হামলার পরও এই মুহূর্তে আমরা জ্বালানি তেলের এমন দাম নিয়ে কথা বলছি, যা ঐতিহাসিক মানদণ্ডের মধ্যেই রয়েছে। এই মাত্রার একটি হামলার পর এখনো ততটা প্রভাব পড়েনি।”

এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করল কাতার এনার্জিqatar energy

যদিও বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে স্থানীয় পেট্রোল পাম্পগুলোতে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের জন্য দাম ২০ থেকে ৩০ সেন্ট বেশি গুনতে হয় ভোক্তাদের। এবারও তেমনটি ঘটছে। সঙ্গে রয়েছে এলএনজির দামের বিষয়, যা বিদ্যুৎ ও ভারী শিল্পের একটি প্রধান জ্বালানি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। এটি ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য স্থানে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ইরানের চারপাশের জলরাশি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন একটি চেইন ইফেক্ট তৈরি করবে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

আর বাধাটি ঠিক কেমন? এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি কমোডিটিস অ্যাট সি-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ওই প্রণালী দিয়ে ৬৫টি জ্বালানি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করলেও রোববার বিকেল পর্যন্ত মাত্র ৬টি ট্যাঙ্কার চলাচল করেছে। অর্থাৎ, জ্বালানি পরিবহনে বড় সংকটের মুখে এরই মধ্যে বিশ্ব পড়েছে।

ফলে বিশ্বের এমন এক খাত অস্থির হয়ে উঠছে, যার মধ্যে শুধু এলএনজির বাজারই ১২ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। আর জ্বালানি তেলের বাজারকে এর সঙ্গে জুড়ে দিলে আকার দাঁড়াবে ৪ লাখ ৪০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। এর সঙ্গে এবার এই জ্বালানি ব্যবহার করে দাঁড়িয়ে থাকা পণ্যের দুনিয়ার দিকে তাকালে চোখ চড়কগাছে চড়বে নিঃসন্দেহে। ফলে ইরানে যুদ্ধের যে আগুন, তার ধোঁয়া শুধু নয়, তার ধকে পুড়তে পারে বিশ্বের নানা প্রান্তর। যুক্তরাষ্ট্রও সে ক্ষেত্রে নিস্তার পাবে না।

বিষয়: জ্বালানিজ্বালানি তেলইরানইরান-ইসরায়েল সংঘাতমধ্যপ্রাচ্য
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, নারায়ণগঞ্জে দগ্ধ ৪

  • ২

    যে হাটে নেই কোনো প্লাস্টিক পণ্য

  • ৩

    ‘নিষিদ্ধ করার কর্তৃপক্ষ তো তুমি না’

  • ৪

    তরুণদের আন্দোলন ‘সফল’ করেছেন মোদি!

  • ৫

    ‘রাজনৈতিক রিকনসিলিয়েশনের বিষয়টা এখন সময়ের দাবি’

সম্পর্কিত
  • ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

    ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

    গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে আব্বাস নভেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবেই তিনি ওই অঙ্গীকার করেছিলেন। এর দুই সপ্তাহ পর আব্বাসের নির্বাচনের সময়সূচি পেছানোর সিদ্ধান্ত এলো।

  • ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?

    ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?

    সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ আল জাজিরাকে বলেন, “মোদি সরকারকে জনগণের কাছে বেশ ভীত বলে মনে হচ্ছে।”

  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

  • মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।