Advertisement Banner

রয়টার্সের প্রতিবেদন

মঙ্গলে কলোনি বানালেই আরও ধনী হয়ে যাবেন ইলন মাস্ক!

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
মঙ্গলে কলোনি বানালেই আরও ধনী হয়ে যাবেন ইলন মাস্ক!
ইলন মাস্ক। ছবি: রয়টার্স

স্পেসএক্সের বোর্ড অব ডিরেক্টরস ইলন মাস্কের জন্য এমন একটি ‘কম্পেনসেশন প্লান’ বা বিশেষ পারিশ্রমিক পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্যগুলো ভবিষ্যৎমুখী এবং মহাকাশ কেন্দ্রিক। যেখানে রয়েছে মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপন এবং মহাকাশে ডেটা সেন্টার পরিচালনা করা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত সপ্তাহে স্পেসএক্সের একটি গোপনীয় রেজিস্ট্রেশন স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করে এই বিশাল পে-প্যাকেজের বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছে, যা এর আগে সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়নি। এটি সম্প্রতি ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ’ কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল।

ইলন মাস্কের জন্য স্পেসএক্সের এই অফারটি মূলত এই উদ্যোক্তাকে ধরে রাখার একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যার কারণ ইলন মাস্ক রকেট নির্মাতা এই কোম্পানিটিকে শেয়ারবাজারে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে করপোরেট গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি টেসলার শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে স্পেসএক্স বিনিয়োগকারীদের একটি দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। যার কারণ মাস্ক টেসলারও সিইও।

সায়েন্স ফিকশনকে কাজে লাগিয়ে, স্পেসএক্স বোর্ড জানুয়ারিতে ইলন মাস্কের জন্য একটি পে-প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। যদি কোম্পানিটি ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজার মূল্যে পৌঁছায় এবং মঙ্গল গ্রহে ১০ লাখ মানুষের একটি স্থায়ী মানব বসতি স্থাপন করতে পারে, তবে মাস্ককে ২০০ মিলিয়ন ‘সুপার-ভোটিং রেস্ট্রিক্টেড’ শেয়ার দেওয়া হবে।

মঙ্গল গ্রহ অভিযানের এই পারফরম্যান্স প্যাকেজের বাইরেও, মাস্ককে আরও ৬০ দশমিক ৪ মিলিয়ন রেস্ট্রিক্টেড শেয়ার দেওয়া হতে পারে। তবে এটির জন্য স্পেসএক্স এর নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং মহাকাশে এমন ডেটা সেন্টার পরিচালনা করতে হবে। যেখানে অন্তত ১০০ টেরাওয়াট কম্পিউট ক্ষমতা অর্জন করবে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রায় ১ লাখ গিগাওয়াট বা একসাথে চলমান ১ লাখ এক-গিগাওয়াট পারমাণবিক চুল্লির সমান।

শর্তসাপেক্ষে পুরস্কার এবং স্টক অপশন

বোর্ড নির্ধারিত এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রাগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হলে মাস্ক একটি শেয়ারও পাবেন না। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই, তবে তাকে কোম্পানিতে কর্মরত থাকতে হবে। ২০১৯ সাল থেকে ইলন মাস্ক স্পেসএক্স থেকে বছরে মাত্র ৫৪ হাজার ৮০ মার্কিন ডলার বেতন পাচ্ছেন।

মহাকাশে হোটেল বানানোর পরিকল্পনাও হয়েছে। ছবি: এআই দিয়ে বানানো
মহাকাশে হোটেল বানানোর পরিকল্পনাও হয়েছে। ছবি: এআই দিয়ে বানানো

স্পেসএক্স যেহেতু একটি প্রাইভেট কোম্পানি, তাই এই পে-প্যাকেজের সঠিক মূল্য বর্তমানে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, ইলন মাস্কের জন্মদিনের (২৮ জুলাই) আশপাশের সময়ে স্পেসএক্স শেয়ার বাজারে আসার কথা রয়েছে। যা কোম্পানির মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে পারে।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাস্কের কাছে পূর্ববর্তী দেওয়া ৬৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ‘ক্লাস বি স্টক’ অপশন ছিল। যার স্ট্রাইক প্রাইস প্রায় ৪২ মার্কিন ডলার এবং মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত। এর অর্থ হলো, ২০৩১ সালের মধ্যে তিনি যদি এই শেয়ারগুলো কেনেন, তবে এর দাম যা বাড়বে তার পুরো লাভটাই তার পকেটে যাবে।

যদিও স্পেসএক্সের ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারের মূলধন অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, তবুও এটি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা তৈরি করতে সাহায্য করে। যার মাধ্যমে কোম্পানির আসল লক্ষ্য আসলে কী বোঝা যায়।

ফোর্বসের তথ্যমতে, মাস্কের বর্তমান সম্পদ ৭৭৬ বিলিয়ন ডলার। তবে টেসলাতে তার আলাদা লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে পারলে এই সম্পদ দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। ২০২৫ সালের নভেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, টেসলার ২০ শতাংশ শেয়ারের মালিক মাস্ক।

পারিশ্রমিক ও লক্ষ্যমাত্রা

নির্বাহী কর্মকর্তাদের বেতন বিশেষজ্ঞ এরিক হফম্যান জানান, অন্য কোনো কোম্পানিতে এর ধারেকাছেও কোনো পারিশ্রমিক প্যাকেজ তিনি দেখেননি। বিষয়টি নিয়ে হফম্যান বলেন, “মাপকাঠি হলো, মানব ইতিহাসে কি আগে এমন কিছু করা হয়েছে? না, হয়নি। তাই এটি মূল্যায়ন করা কঠিন।”

হফম্যান আরও জানান, এখন স্পেসএক্স এবং টেসলা কার্যত ইলন মাস্কের সময় ও মনোযোগ নিয়ে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে। গত বছর টেসলা বোর্ড যুক্তি দিয়েছিল, তাকে অটোমেকার কোম্পানিতে মনোযোগী রাখতে বড় অংকের পারিশ্রমিক দেওয়া প্রয়োজন। এমনকি শেয়ারহোল্ডাররা সেই পরিকল্পনা অনুমোদন না করলে মাস্ক টেসলা ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকুইলারের গবেষণা পরিচালক কোর্টনি ইউ বলেন, “মঙ্গল গ্রহে বসতি এবং মহাকাশে ডেটা সেন্টারের মতো লক্ষ্যগুলো আলাদা কারণ সাধারণত সিইওদের বেতন নির্ধারণে লভ্যাংশ বা রাজস্বের মতো সাধারণ আর্থিক মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়, যা এখানে করা হয়নি।”

কোর্টনি ইউ আরও বলেন, “যদিও স্পেসএক্সের ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারের মূলধন অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, তবুও এটি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা তৈরি করতে সাহায্য করে। যার মাধ্যমে কোম্পানির আসল লক্ষ্য আসলে কী বোঝা যায়।”

সম্পর্কিত