বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির প্রধান হাব হিসেবে ভারতকে প্রতিষ্ঠা করতে জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় এআই ইমপ্যাক্ট সামিট। এই সম্মেলনে ভারতের বড় বড় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সাথে যোগ দেন গুগল, ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো শীর্ষ বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা। সরাসরি এবং অনলাইনের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখেরও বেশি মানুষ এই আয়োজনে অংশ নেন। সম্মেলনটিকে মোদি বিশ্ব দরবারে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মাঝে, ভারতকে এআই-এর একটি উদীয়মান পরাশক্তি হিসেবে তুলে ধরার বড় সুযোগ হিসেবে কাজে লাগান।
সম্মেলনে মোদি বলেন, “ভারতেই তৈরি করুন, ভারতেই প্রযুক্তির বিকাশ ঘটান। আর তা ছড়িয়ে দিন পুরো বিশ্বে, পৌঁছে দিন মানবজাতির কল্যাণে।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, গুগল এবং মেটার মতো শীর্ষ সংস্থাগুলো এরইমধ্যে ভারতে ডেটা সেন্টার তৈরির জন্য শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই সম্মেলনে তাদের সাথে যোগ দিয়ে ওপেনএআই-ও ভারতের সবচেয়ে বড় শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপ এর সাথে যৌথভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। তারা একসঙ্গে আরও ডেটা সেন্টার তৈরি করবে এবং কর্মীদের এআই ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেবে। পাশাপাশি, ভারতের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তির মালিকানাধীন আদানি গ্রুপ পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য শক্তি চালিত বিশাল আকৃতির হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার তৈরি করতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ভারতে বিনিয়োগ করে দেশী ও বিদেশী উভয় সংস্থাই দারুণভাবে লাভবান হচ্ছে। ডেটা সেন্টার প্রকল্পগুলোর জন্য জমি ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এই সম্মেলনের আগেই মোদী সরকার নতুন কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে, যার ফলে ডেটা সেন্টার নির্মাণকারী বিদেশী কোম্পানিগুলো ২০৪৭ সাল পর্যন্ত কর পরিশোধ স্থগিত রাখতে পারবে।
তবে মুম্বাই থেকে চেন্নাই-পুরো ভারতজুড়ে এই অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়নের বড় মাশুল গুনতে হচ্ছে দেশের সবচেয়ে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের। নিম্ন আয়ের দলিত পরিবারগুলোর অভিযোগ, এলাকায় ডেটা সেন্টার আসার কারণে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে অথবা জমি বিক্রি করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
এমনকি ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সরকার পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে এবং ডজন খানেক নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছে। আশপাশের দরিদ্র এলাকাগুলো যখন নিয়মিত ব্যবহারের পানি পেতেই হিমশিম খাচ্ছে, তখন এই ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রস্তাবিত ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়ার কথা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবলই নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতা। প্রতিটি প্রকল্পকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়, যার ফলে পরিবেশের ওপর এগুলোর সম্মিলিত ক্ষতিকর প্রভাব কতটা পড়ছে- যেমন পানি, বিদ্যুৎ, জমি বা স্থানীয় ইকোসিস্টেমের ওপর মোট কতটা চাপ সৃষ্টি হচ্ছে- তার কোনো সামগ্রিক হিসাব বা মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
নরেন্দ্র মোদি। ছবি: রয়টার্সউচ্ছেদের মুখে দলিত সম্প্রদায়
পুরো ভারতজুড়ে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপাররা এখন দারুণ মুনাফা লুটছেন। তারা বিশাল বিশাল জমির ব্যবহার বদলে সেখানে ডেটা সেন্টার তৈরি করছেন যা বর্তমানে ভারতে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকা বাণিজ্যিক আবাসন খাত।
এই ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি ও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত গতিতে প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া, নমনীয় বা শিথিল জমি ব্যবহারের নিয়ম এবং নতুন আবাসন প্রকল্পের পাশাপাশি গরিব মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি তৈরি করার বাধ্যতামূলক নিয়ম থেকে অব্যাহতি পাওয়া।
এই চিত্রটি সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট মুম্বাইতে। এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর, যেখানে মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই বিভিন্ন বস্তি বা অস্থায়ী বসতিতে বাস করেন। এখানে ডেটা সেন্টারগুলো জমির জন্য আগে থেকে চলা তীব্র প্রতিযোগিতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে আবাসন সংকট আরও মারাত্মক রূপ নিচ্ছে।
২০২৪ সালের জুন মাসে, বর্ষা মৌসুমের ঠিক শুরুতে, জয় ভীম নগর নামের একটি বসতিতে বুলডোজার চালানো হয়। এখানে ছিল প্রায় ৬৫০টি দলিত পরিবারের বাস।
এই জনবসতিটির সূচনা হয়েছিল আশির দশকের শেষের দিকে। মুম্বাইয়ের অন্যতম শীর্ষ ধনী রিয়েল স্টেট কোম্পানির তৈরি করা বিশাল এলাকা হিরানন্দানি গার্ডেনস এর নির্মাণকাজের সময়, শ্রমিকেরা তাদের কর্মস্থলের পাশেই এই অস্থায়ী ঘরবাড়িগুলো গড়ে তুলেছিলেন।
সেখানে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করা শ্রীমতী চৌহান জানান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে, তার স্বামীকে ও তাদের সন্তানকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বের করে দেয়। একই সাথে উচ্ছেদ করা হয় তাদের শত শত প্রতিবেশীকেও। সন্ধ্যার মধ্যেই পুরো জনবসতিটিকে ধূলিসাৎ করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়।
রিয়েল স্টেট প্রতিষ্ঠান হিরানন্দানি গ্রুপ বর্তমানে তাদের ডেটা সেন্টার ব্যবসা দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে এবং এই আবাসিক এলাকার ভেতরেই একটি নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।
দলিত সম্প্রদায়ের সদস্য চৌহান জানান, উচ্ছেদের সময় তাকে মারধর করা হয়, গ্রেপ্তারও করা হয় এবং কয়েক দিন জেলেও আটকে রাখা হয়। তার ছেলে শিব সাগর এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে তিনি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটেন।
বস্তি ভাঙার এই ঘটনার পর, স্থানীয় ২৮ জন বাসিন্দা তাদের উচ্ছেদকে চ্যালেঞ্জ করে বোম্বে হাইকোর্টে একটি ফৌজদারি আবেদন দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নিযুক্ত বিশেষ তদন্তকারীরা দেখতে পান যে, সরকারি কমিশন এই উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিল, আদতে এমন নির্দেশ দেওয়ার কোনো ক্ষমতাই তাদের ছিল না। এছাড়াও এই অভিযানটি বর্ষাকালে উচ্ছেদ নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত আইনকে পুরোপুরি লঙ্ঘন করেছে। বর্তমানে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে।
উচ্ছেদের পর বেশিরভাগ বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও চৌহান ও তার পরিবার সেখানেই থেকে গেছেন। বাঁশের খুঁটি আর প্লাস্টিকের শিট দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে একটি অস্থায়ী ঘর বানিয়ে তারা সেখানে বসবাস করছেন।
চৌহান বলেন, “ওরা আমাকে মেরে ফেললেও আমি আমার এই জায়গা ছাড়ব না। আমরা যদি এখান থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে যাই, তবে আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে- আর ওরা ঠিক সেটাই চায়। কিন্তু আমরা আমাদের জায়গা থেকে নড়ব না।”
গত বছরের শেষ দিকে, গুগল আমেরিকার বাইরে তাদের সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার তৈরির ঘোষণা দেয়। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অন্ধ্রপ্রদেশের বন্দর নগরী বিশাখাপত্তনমের কাছে ১ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিশাল ক্যাম্পাস তৈরি করছে তারা। এই অঞ্চলটিকে একটি বিরাট এআই হাব বা কেন্দ্রে রূপান্তর করতে গুগল আগামী পাঁচ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে এবং ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে ভারতকে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার সাথে যুক্ত করা হবে।
আর এর ফলেই যেন রাতারাতি বদলে যায় সব চিত্র। গাঁদা, জুঁই ও গোলাপ ফুলের চাষ এবং কাজুবাদাম ও সেগুন বাগানের জন্য পরিচিত তারলুভাদা গ্রামটির নাম গুগল ম্যাপে রাতারাতি পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘তারলুভাদা আইটি হাব অ্যান্ড ডেটা সেন্টার হাব’।
গুগল এই প্রকল্পের জন্য তিনটি ভিন্ন জায়গায় ৪৮০ একর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের সাথে মিলে কাজ করছে। তারলুভাদা গ্রামে এই প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ২০০ একর জমিই মূলত দলিত পরিবারগুলোর। ওই পরিবারগুলোর অভিযোগ, সরকার তাদের জমি বিক্রি করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
কৃষক এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান পাইলা কোন্ডাম্মা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনোভাবেই নিজের জমি ছেড়ে দেবেন না, অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার বা গুগল কেউই তাকে বাধ্য করতে পারবে না। তিনি বলেন, “আমরা ভয় পাই না।ওরা আমাদের মেরে ফেললেও আমরা এই জমি দেব না।”
তিনি আরও বলেন, “উচ্চবর্ণের মানুষের জমিতে তারা হাত দিচ্ছে না। কেবল দলিতদের জমিই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”
কোন্ডাম্মা দলিত সম্প্রদায়ের একজন সদস্য। ভারতে এই সামাজিক গোষ্ঠীটিরই জমি মালিকানার হার সবচেয়ে কম। বিশাখাপত্তনম জেলায় প্রায় ৬৮ শতাংশ দলিত পরিবারের নিজস্ব কোনো জমি নেই। সত্তরের দশকে একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন কিছু দলিত পরিবারকে রাজ্য সরকার পরিবার প্রতি প্রায় দুই একর করে জমি বরাদ্দ দিয়েছিল। আর এখন গুগলের এই প্রকল্পের জন্যই সেই জমিগুলোই সরকার আবার অধিগ্রহণ করছে।
ভারতের দলিত শিশুরা। ছবি: উইকিমিডিয়া কমনসকয়লার ওপর বাড়ছে নির্ভরতা
চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে অবস্থিত এন্নোরের একটি গ্রাম কাট্টুকুপ্পাম। এখানকার অধিকাংশ মানুষই জেলে। সত্তরের দশক থেকেই এখানকার বাসিন্দারা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কালো ছায়ায় বসবাস করছেন।
কয়েক দশক ধরে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিষাক্ত ধোঁয়া এখানকার বাতাসকে দূষিত করছে, আর গরম পানি ও রাসায়নিক বর্জ্য মিশছে আশেপাশের নদী ও সাগরে। সাগরে মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে জেলেরা উপার্জনের অন্য পথ খুঁজতে শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই দূষণ তাদের স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, যার ফলে তাঁদের এলাকায় ক্যানসার ও বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা অনেক বেড়ে গেছে।
২০১৭ সালে একটি পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হলে এখানকার বাসিন্দারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন।
তবে সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০২৫ সালে সরকার ঘোষণা করে যে, ডেটা সেন্টার এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের মতো প্রচণ্ড বিদ্যুৎ-চাহিদাপূর্ণ শিল্পগুলোর জ্বালানি জোগাতে ওই পুরনো কেন্দ্রের জায়গাতেই একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত এই রাজ্যে বিদ্যুতের ঘাটতি থাকবে।
এআই চালিত ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য দিনরাত ২৪ ঘণ্টা বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এআই প্রযুক্তির প্রসার শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত সরকার একদিকে যেমন পুরনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে নতুন করে ৪৪টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। মুম্বাইতেও ডেটা সেন্টারগুলোর ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে শহরের মূল জ্বালানি তালিকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের পরিমাণ আরও বাড়ানো হয়েছে।
এন্নোরের বাসিন্দারা এই নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, শহরের অন্য এলাকার তুলনায় তাদের এলাকার শিশুদের মাঝে ক্যানসার এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেক বেশি।
কিন্তু তাদের এই উদ্বেগ বা আকুতিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।
বর্তমানে এই এলাকায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিধি বাড়ানোর কাজ চলছে এবং আরও দুটি নতুন কেন্দ্র নির্মাণের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে।
বেসরকারি সংস্থা সেভ এন্নোর ক্রিক ক্যাম্পেইনের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই তিনটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি চালু হলে এলাকার বাতাসের মান মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়বে। নেচার জার্নালে প্রকাশিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যান্য উৎসের তুলনায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত বায়ুদূষকগুলো দ্বিগুণ মারাত্মক। অন্য আরেকটি গবেষণায় জানা গেছে, যারা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি বসবাস করেন, তাদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি, বিশেষ করে ফুসফুস, লিভার ও মূত্রথলির ক্যানসার।
স্থানীয় জেলে কে. সারাভানান বলেন, “আমাদের ওপর এর কী প্রভাব পড়ছে তা না দেখেই তারা একটার পর একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে যাচ্ছে। তারা আমাদের থেকে সব কেড়ে নিয়েছে- আমাদের আয়, স্বাস্থ্য, মানসিক শান্তি। আর এখন তারা আরও নতুন কেন্দ্র নিয়ে আসছে।”
দ্য ওয়্যারে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে অনূদিত