Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
৩০ অক্টোবর, ২০২৬
৩০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
৩০ অক্টোবর, ২০২৬
৩০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> বিশ্লেষণ

চীন-আমেরিকা প্রযুক্তি যুদ্ধের ফাঁদে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬, ১৮: ৫৬
চীন-আমেরিকা প্রযুক্তি যুদ্ধের ফাঁদে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি

আমেরিকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের অভাবনীয় জয়জয়কার উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর পালে যেন নতুন হাওয়া দিয়েছে। ডেটা সেন্টারের জন্য অত্যাধুনিক চিপ ও সার্ভার বিক্রির ধুম চলায় তাইওয়ানের শিল্প উৎপাদন বার্ষিক প্রায় ১৪ শতাংশের মতো চোখধাঁধানো গতিতে বাড়ছে। অন্যদিকে, গত এক বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার মেমোরি চিপ নির্মাতাদের মুনাফা এক ধাক্কায় বেড়েছে ৫০০ শতাংশেরও বেশি। এমনকি দীর্ঘকাল ধরে অর্থনৈতিক স্থবিরতায় থাকা জাপানও এর সুফল পাচ্ছে, যদিও বিশ্বমঞ্চে শীর্ষ চিপমেকারের মুকুট তারা অনেক আগেই হারিয়েছে। ফলশ্রুতিতে, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এসে এই তিনটি দেশই রেকর্ড পরিমাণ রপ্তানি আয় এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট বা চলতি হিসাবের বিশাল উদ্বৃত্তের মুখ দেখেছে।

Advertisement

তবে এই অঞ্চলের রপ্তানি জোয়ারের আড়ালে সামগ্রিক অর্থনীতির আরেকটি উদ্বেগজনক চিত্র ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনোমিস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শীর্ষস্থানীয় হাই-টেক বা চিপ খাত বাদ দিলে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ার সমৃদ্ধ অংশটি আসলে ক্রমশ শিল্পহীনতা বা ‘ডি-ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’-এর দিকে ধাবিত হচ্ছে। চীনের তীব্র প্রতিযোগিতা এবং এর পাশাপাশি চিপ খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে—এই অঞ্চলের পূর্ববর্তী অর্থনৈতিক মডেলটি এখন বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। অথচ আশির ও নব্বইয়ের দশকে এক বিস্তীর্ণ ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সফল মডেলই অঞ্চলটিকে সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। তাই চিপ বাজারের এই চাঙ্গা ভাবের মধ্যেও, উত্তর-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিতে এখন ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

উদীয়মান সংযোজনকারী থেকে মূল প্রতিযোগী: চীনের উত্থান

গত কয়েক বছরে ধনী প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। একটা সময় ছিল যখন চীন উত্তর-পূর্ব এশিয়া থেকে দামি ও উন্নত যন্ত্রাংশ আমদানি করত এবং নিজেরা কেবল কম দামের খুচরা যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর (অ্যাসেম্বলি) সাধারণ কাজেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন; চীন এখন পুরো সাপ্লাই চেইনের প্রতিটি স্তরে সমানে টক্কর দিচ্ছে এবং নিজেই উন্নত প্রযুক্তি উৎপাদনে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে তাইওয়ানের দীর্ঘদিনের যে বাড়তি আয় বা বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল, তা চলতি বছরে এসে ঘাটতিতে রূপ নিয়েছে। ঠিক যেমনটা দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে ঘটেছিল কয়েক বছর আগেই—যদিও গত কয়েক মাসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কল্যাণে কোরিয়ান চিপ রপ্তানি বাড়ায় তারা আবারও কিছুটা উদ্বৃত্তে ফিরতে পেরেছে। অন্যদিকে জাপানের অবস্থা আরও নাজুক। চীনের সঙ্গে জাপানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি এতটাই বেড়েছে যে, চলতি বছরের শুরুর দিকে তা আগের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বনিম্ন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। চিপের এই সাময়িক জয়জয়কার উত্তর-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে স্বস্তি দিলেও, চীনের এই বহুমুখী শিল্পোত্থান দীর্ঘমেয়াদে তাদের পুরো উৎপাদন খাতকেই এক বড় ধরনের অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দিচ্ছে।

ছবি: এআই
ছবি: এআই

তাইওয়ান নিয়ে কেন এখনই যুদ্ধ চায় না চীন?China-taiwan

চীনের এই সর্বগ্রাসী উত্থানের ফলে গাড়ি নির্মাণ থেকে শুরু করে রাসায়নিক শিল্পের মতো উত্তর-পূর্ব এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী বড় বড় উৎপাদন খাতগুলো এখন তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। ঠিক পশ্চিমা দেশগুলোর মতোই, এই অঞ্চলের নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন একটি ধারণা জোরালো হচ্ছে যে—তাদের স্থানীয় উৎপাদকদের আসলে মুক্ত বাজারের প্রতিযোগিতায় নয়, বরং চীন সরকারের বিপুল অনুদান ও ভর্তুকি পাওয়া সস্তা পণ্যের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। আর এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভই দিন দিন ‘প্রটেকশনিজম’ বা নিজেদের বাজার বাঁচানোর জন্য সংরক্ষণবাদী মানসিকতাকে আরও উস্কে দিচ্ছে।

একক খাতের ওপর অতি-নির্ভরতার ঝুঁকি

চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের এই অতি-বিশেষায়ন অবশ্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিগুলোর পরিপক্বতাকেই তুলে ধরে। তবে নির্দিষ্ট একটি প্রযুক্তির ওপর এই অতিরিক্ত নির্ভরতা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ভীষণ ভঙ্গুরও করে তুলছে। সিলিকন সাইকেল বা প্রযুক্তি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার চিরকালই ভীষণ ওঠানামা করার জন্য পরিচিত; আর এই চক্রের ভালো-মন্দের ওপরই এখন এই অঞ্চলের সমৃদ্ধি পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তাছাড়া, প্রযুক্তির এই বিশ্বজনীন সাপ্লাই চেইন কাঁচামাল এবং চূড়ান্ত ক্রেতা—উভয় দিক থেকেই আমেরিকা ও চীনের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর জিম্মি।

রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য পরিমাপের একটি সূচকে দেখা গেছে, উন্নত বিশ্বের গড় হারের তুলনায় উত্তর-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নির্দিষ্ট একটি পণ্যের (চিপ) ওপর নির্ভরতার হার প্রায় ৭৩ শতাংশ বেশি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ২০১৯ সালের পর থেকে এই নির্ভরতা কমার বদলে কেবলই বেড়েছে। এর ফলে আমেরিকা ও চীনের মধ্যকার যেকোনো ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা বা সংরক্ষণবাদী নীতির মুখে এই অঞ্চলটি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

রিকার্ডোর তত্ত্ব ও অভ্যন্তরীণ বাজারের সীমাবদ্ধতা

বিখ্যাত ধ্রুপদী অর্থনীতিবিদ ডেভিড রিকার্ডোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তত্ত্ব মেনে নিলে বলতে হয়, কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের উৎপাদনে বিশেষ পারদর্শী হয়ে ওঠায় কোনো ভুল নেই। তবে পূর্ব এশিয়ার এই ধনী অর্থনীতিগুলোর জন্য চিপ রপ্তানির এই বিশাল জোয়ার উপভোগ করার পাশাপাশি, নিজেদের দেশের ভেতরের অন্যান্য অর্থনৈতিক খাতগুলোকে আরও চাঙ্গা করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আসল সমস্যা হলো, এই দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা অত্যন্ত সংকুচিত। আর এর আংশিক কারণ হলো তাদের পুরোনো আমলের অর্থনৈতিক কাঠামো, যেখানে দেশের ভেতরের মানুষের ভোগ বা খরচ করার ক্ষমতাকে একপ্রকার চেপে রেখে, যেকোনো মূল্যে কেবল ‘রপ্তানি-চালিত প্রবৃদ্ধি’-কেই পরম লক্ষ্য মনে করা হয়।

তাই এআই বিপ্লবের এই সুবর্ণ সময়ে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে যদি টিকে থাকতে হয়, তবে চিপের অন্ধ মোহ কাটিয়ে অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যায়নের দিকে নজর দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

চীনের শহর। ছবি: রয়টার্স
চীনের শহর। ছবি: রয়টার্স

চীন-রাশিয়া সম্পর্কে বিশ্বস্ততার নতুন সমীকরণxi-putin

এখন সময় এসেছে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার এই পুরোনো ও স্থবির অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগুলোকে পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলার। এই অঞ্চলের ‘দুই স্তরবিশিষ্ট’ শ্রমবাজার মূলত বড় বড় রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত গুটিকয়েক সুবিধাভোগী মানুষের চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়। অন্যদিকে, এর বাইরে থাকা সিংহভাগ সাধারণ চাকরিজীবী ও শ্রমিকের কপালে জোটে কম মজুরি আর চরম কর্মহীনতার ঝুঁকি। শ্রমবাজারকে এই বৈষম্য থেকে মুক্ত ও উন্মুক্ত করা গেলে যোগ্য কর্মী ও সঠিক প্রতিষ্ঠানের মেলবন্ধন আরও সহজ হবে, যা দেশের সাধারণ মানুষের প্রকৃত মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সাহায্য করবে।

পেনশন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একই বৈষম্য দৃশ্যমান; বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই এখানে বেশি সামাজিক নিরাপত্তা পান, অথচ অন্যদের বেলায় এই সুযোগ খুবই সামান্য। এই অমানবিক পরিস্থিতি বদলাতে সাধারণ মানুষের ন্যূনতম সামাজিক নিরাপত্তা ও আয় বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন, যা দেশের ভেতরের বাজারে তাদের কেনাকাটা বা খরচ করার ক্ষমতাকে এক ধাক্কায় অনেক বাড়িয়ে দেবে।

আর্থিক কারসাজি বন্ধ ও মুক্ত বাজার উন্মুক্তকরণ

পাশাপাশি, তাইওয়ান দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিমভাবে নিজেদের মুদ্রার মান কমিয়ে রেখেছে, আর দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান রাষ্ট্রীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী কর্পোরেট ঋণ বণ্টন করে থাকে। এই ধরনের কৃত্রিম আর্থিক কারসাজি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা জরুরি। এটি করা গেলে দেশের মূল সম্পদ ও পুঁজিগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই এমন সব সম্ভাবনাময় এবং উদীয়মান প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছাতে পারবে, যারা এর সবচেয়ে সেরা ও দক্ষ ব্যবহার করতে সক্ষম।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর উচিত এখন যেসব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দিনের পর দিন লোকসান গুনছে, সেগুলোকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে না রেখে স্বাভাবিক নিয়মেই বন্ধ হতে দেওয়া। এমনকি টিএসএমসি ও স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের মতো শক্তিশালী ও শীর্ষস্থানীয় টেক-জায়ান্টদের ঢালাও রাষ্ট্রীয় সমর্থন বা ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ বন্ধ করা দরকার। কারণ বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এই ধরনের দানবীয় কোম্পানির বিপুল সরকারি অনুদান বা ভর্তুকির কোনো প্রয়োজন নেই।

ভূ-রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা ও বাণিজ্যিক বৈচিত্র্যায়ন

যদিও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পক্ষে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি—আমেরিকা ও চীনের বাজারের ওপর নির্ভরতা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব, তবুও তারা অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক বাধাগুলো অনায়াসেই কমিয়ে আনতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, এই বাধাগুলোর কিছু কিছু আবার তাদের নিজেদেরই তৈরি। ঔপনিবেশিক আমলের পুরোনো ঐতিহাসিক ক্ষোভ ও তিক্ততার কারণে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মতো দুই সমৃদ্ধ প্রতিবেশীর মধ্যে আজও কোনো দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) গড়ে ওঠেনি। অথচ বর্তমান বাস্তবতায় দক্ষিণ কোরিয়ার উচিত জাপান-নেতৃত্বাধীন ‘সিপিটিপিপি’র মতো একটি উচ্চমানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জোটে দ্রুত যোগ দেওয়া।

পুরোনো কৌশলের ব্যর্থতা ও ভবিষ্যৎ পথরেখা

আসল আশঙ্কা হলো, চীনের এই সর্বগ্রাসী অর্থনৈতিক ধাক্কায় আতঙ্কিত হয়ে এই অঞ্চলের সরকারগুলো উল্টো আরও বেশি আগ্রাসী ও অনুৎপাদনশীল শিল্পনীতির দিকে ঝুঁকছে। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ কোরিয়া চিপ নির্মাণ খাতে ইতোমধ্যে ৫৩০ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দেওয়ার আত্মঘাতী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ৬১টি কৌশলগত পণ্যের পেছনে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে বিনিয়োগের বিষয়টি সরাসরি তদারকি করছেন। যখন এই দেশগুলো দরিদ্র ছিল এবং পশ্চিমা বিশ্বের সমকক্ষ হওয়ার লড়াই চালাচ্ছিল, তখন রপ্তানি বাড়াতে সরকারি ক্ষমতার এমন একতরফা ব্যবহার দারুণ সফল হয়েছিল। কিন্তু যেসব দেশ ইতোমধ্যে ধনী ও উন্নত অর্থনীতির কাতারে পৌঁছে গেছে, সেখানে এই পুরোনো ও চাপিয়ে দেওয়া কৌশল আর মোটেও কাজ করে না।

তাই অভ্যন্তরীণ সংস্কার না করে কেবল রপ্তানির ওপর অন্ধ জোর দেওয়া হলে, উত্তর-পূর্ব এশিয়া দিন দিন আরও ভঙ্গুর এবং বিশ্ববাজারের আকস্মিক ঝুঁকির মুখে পড়বে। এর চেয়ে বরং এই অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে—পুরোনো আমলের রপ্তানি-কেন্দ্রিক মানসিকতা বদলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজারকে আরও চাঙ্গা করা এবং বিদেশের মাটিতে বাণিজ্যের পরিধিকে আরও বহুমুখী করে তোলা। আর এটিই হবে চিপ জোয়ারের পরবর্তী যুগে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার টিকে থাকার আসল চাবিকাঠি।

বিষয়: অর্থনীতিআমেরিকারপ্তানিএআইচীনএশিয়া
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    পাবনায় হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধে গুলিতে নিহত ২

  • ২

    মন্ত্রীদের পিএস হিসেবে বিচারকদের নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের রুল

  • ৩

    শিশুদের শিক্ষা সুরক্ষায় জলবায়ু ও শিক্ষাবিষয়ক তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ বাংলাদেশের

  • ৪

    ঠাকুরগাঁওয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী মির্জা ফয়সল

  • ৫

    রাজায় রাজায় যুদ্ধ হচ্ছে, উলুখাগড়ারা যাবে কোথায়?

সম্পর্কিত
  • রাজায় রাজায় যুদ্ধ হচ্ছে, উলুখাগড়ারা যাবে কোথায়?

    রাজায় রাজায় যুদ্ধ হচ্ছে, উলুখাগড়ারা যাবে কোথায়?

    চরম ঝুঁকি ও অভূতপূর্ব সম্ভাবনার এই সন্ধিক্ষণে বিশ্ব পরাশক্তিগুলো সাধারণত ছোট বা মাঝারি দেশগুলোর প্রতি কোনো ধরনের সহানুভূতি বা উদারতা দেখায় না। আর ঠিক এখানেই লুকিয়ে রয়েছে মাঝের সারির দেশগুলোর আসল অস্তিত্বের সংকট।

  • এলপি গ্যাসের দাম নিয়ে গণশুনানি, দাম বাড়ছেই?

    এলপি গ্যাসের দাম নিয়ে গণশুনানি, দাম বাড়ছেই?

    আবারও কি ব্যবসায়ীদের দাবিই মেনে নেবে সরকার? সরকার বলতে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি। পরিস্থিতি কি সেদিকেই যাচ্ছে? বৃহস্পতিবার গণশুনানির পর বিইআরসি চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অন্তত তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ভারতকে ‘চাপ দিচ্ছে’ বাংলাদেশ

    গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ভারতকে ‘চাপ দিচ্ছে’ বাংলাদেশ

    ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এসব নদীর মধ্যে গঙ্গা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।

  • নেতানিয়াহু হারলে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে?

    নেতানিয়াহু হারলে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে?

    ইসরায়েলের পার্লামেন্টের নির্বাচন ভোটগ্রহণ শেষে গণনা চলছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বুথ ফেরত জরিপের তথ্য বলছে, দেশটির প্রধান দুটি রাজনৈতিক জোটের কোনোটিই সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।