হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে গত ৯ আগস্ট দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, হঠাৎ হেলিকপ্টারে করে ফটিকছড়িতে নেমে কেন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতার সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ঘটনা ভবিষ্যতে কোন ধরনের মেরুকরণ তৈরি করবে, তা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। কেউ কেউ দাবি করছেন, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর চাপের কারণে হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দেখা করেছেন। প্রশ্ন উঠছে, এতে কি কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠনটি দেশের রাজনীতিতে ‘প্রভাব’ নিয়ে ফিরল?
হেফাজতে ইসলাম: রাজনৈতিক দল নয়, তবে…
হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দল নয়। দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর একটি প্ল্যাটফর্ম। ‘ঐক্যবদ্ধ’ হলে যে প্রভাবশালী হওয়া যায় সেটা হেফাজতে ইসলাম ২০১৩ সালেই দেখিয়েছে।
ওই বছর অনেকটাই সামনে চলে আসে আলেম-ওলামাদের নিয়ে গঠিত এ ‘অরাজনৈতিক’ প্ল্যাটফর্ম। যেখানে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাই নেতৃত্ব দেন। তবে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, রাজনীতিতে হেফাজতের প্রভাব এতটাই বেড়ে যায় যে, কার্যত তারা একটি রাজনৈতিক শক্তির মতো আচরণ করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন এক প্রেক্ষাপটে হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন যার ঠিক তিন দিন আগে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊধর্বগতির প্রতিবাদে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াত আমির শফিকুর রহমান নিজেই ওই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। সে দিন বিরোধীদের ঘেরাও কর্মসূচিকে ঘিরে সচিবালয়ে মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ।
জামায়াতের কর্মসূচীর তিন দিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার যান। নানা কর্মসূচির ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়িতে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সময় হেফাজত আমির ৯ দফা দাবি তোলেন।
গত শনিবার ঢাকায় আহমাদিয়া সম্প্রদায়কে ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণার দাবিতে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলন করে। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজত আমির। মূলত এই সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের সকল গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।
ওই কর্মসূচিতে আসা বক্তাদের কথাতেও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি। সেখানে চট্টগ্রাম বিভাগের হেফাজতে ইসলামের নেতা জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার মুহাদ্দিস আখতার হোসেন বলেন, “পত্রপত্রিকায় লিখেছে, বিরোধী দলের চাপ সামাল দিতে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ছুটে গিয়েছেন আমিরে হেফাজতের দরবারে। তাহলে সরকারপ্রধান প্রমাণ করল, কার ক্ষমতা বেশি। আমিরে হেফাজতের ক্ষমতা বেশি। দেশ চালায় সরকার, আর বিরোধী দল মিলে। সরকার ও বিরোধী দল উভয় দল তাদের চাপকে সামাল দেওয়ার জন্য গেছেন আমিরে হেফাজতের দরবারে দোয়া নেওয়ার জন্য। তাহলে সরকারকে বুঝতে হবে, আমাদের ক্ষমতা কত? সরকারকে অনুধাবন করতে হবে, আমিরে হেফাজত, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও ওলামায়ে কেরামের শক্তি এই জমিনে কতটুকু। আমিরে হেফাজত যদি কর্মসূচি ঘোষণা করেন এই দাবিকে আদায় করার জন্য তাহলে আমরা প্রয়োজনে গোটা বাংলাদেশকে অচল করে দেব। আপনারা ঢাকাকে অচল করে দেবেন, আমরা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে অচল করে দেব। এই দাবি (আহমাদিয়াদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা) আমরা আদায় করে ছাড়ব।”
বিভিন্ন সময়ে এই হেফাজতকে একটি বড় চাপসৃষ্টিকারী কিংবা ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে দেখা গেছে। হেফাজতে ইসলাম নিজেও আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন করে। কিন্তু ২০১০ সালে জন্মের পর থেকে এই সংগঠনটি যে সব বিষয় নিয়ে কথা বলেছে, সেটাই দেশের রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ২০১৩ সালের মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংগঠনটি একটি বড় সমাবেশ করে। সে সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ এই সমাবেশ ঘিরে ‘দমননীতি’ নিয়েছিল। সেটা নিয়ে এদেশে এখনো ‘রাজনীতি’ চলছে।
মূলত ওই বছরই বাংলাদেশের রাজনীতিতে হেফাজতে ইসলামের বড় ধরনের উত্থান হয়। যদিও ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত সাংগঠনিকভাবে হেফাজত কয়েকবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি আবারও রাজনীতিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হয়ে উঠছে কওমিভিত্তিক এই সংগঠনটি।
নির্বাচনের আগে জামায়াতের বিরোধিতা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে হেফাজতে ইসলাম রাজনীতিতে একটি ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ও চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন যখন ‘এক বাক্সে’ ভোটনীতি প্রচার শুরু করে তখন হেফাজতে ইসলাম হালে পানি পায়নি। তবে যখন নির্বাচনের আগে চরমোনাই পীরের দল জামায়াতের নির্বাচনী ঐক্য থেকে সরে যায়, তখন হেফাজত তাদের সাধুবাদ জানায়। হেফাজতে ইসলামের আমির বিবৃতি দিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে অভিনন্দনও জানিয়েছিল। যদিও জামায়াতের ওই নির্বাচনী ঐক্যে হেফাজতে ইসলাম ঘনিষ্ঠ দলও ছিল। ভোটের পর জামায়াত ‘জোট’ ছেড়েছে অন্তত দুটি কওমিভিত্তিক রাজনৈতিক দল। তারা হলো-খেলাফত মজলিস ও খেলাফত আন্দোলন। তারও আগে কওমিভিত্তিক সাত দলকে এক কাতারে নিয়ে আসতে চেষ্টা চালানো হয়েছিল হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে।
নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন সময়ে হেফাজতের আমির জামায়াতের ‘আকিদা’ নিয়ে দলটির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্যের বিষয়ে প্রকাশ্য আপত্তিও জানিয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি এও বলেন, মুসলমানদের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া ‘জায়েজ নয়’।
হেফাজতে ইসলাম নিয়ে বিএনপির কৌশল কী?
বিএনপি ও হেফাজতের সূত্রগুলো বলছে, চলতি বছর ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে ক্ষমতাসীনরা হেফাজতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায়। বিএনপি নেতারা হেফাজতের আমিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। হেফাজত নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে তাদের সঙ্গে যুক্ত কওমি মাদরাসা ও আলেমদের একটি বড় সামাজিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। তাই ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী জামায়াত—উভয় পক্ষই এই সামাজিক শক্তিকে নিজেদের দিকে টানতে আগ্রহী।
আওয়ামী লীগ সরকার হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সখ্য করেছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সময়ে ‘কওমি জননী’ উপাধিও দেওয়া হয়। তবে তার আগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা ঘটে। রাজনীতি সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে হেফাজতে ইসলাম যে ১৩ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামে, তার পর আওয়ামী লীগ সরকার কার্যত তাদের পক্ষে অবস্থান নেয়। যার ফলেই শেখ হাসিনা ‘কওমী জননী’ উপাধি পান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের সরকার কওমি মাদরাসাভিত্তিক শক্তির সঙ্গে সমঝোতা করেছিল। শাপলা চত্বরের ঘটনার পর প্রথমদিকে সরকার ও হেফাজতের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছিল। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে আহমদ শফীর নেতৃত্বাধীন হেফাজত ও আওয়ামী লীগের সম্পর্ক অনেকটাই ভালো হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ সরকার কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সনদের সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিলে শেখ হাসিনা সরকার দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবিতে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলামাদের একটি ‘শোকরানা মাহফিল’ হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রির সরকারি স্বীকৃতির জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি ছিলেন এবং হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সেখানেই শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়া হয়। ওই সময় হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সখ্য থাকলেও আহমদ শফীর মৃত্যুর পর সংগঠনটি বিরোধী হতে শুরু করে।
পরে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সময়ে ‘মতানৈক্য’ দেখা গেছে। ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর নিয়ে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের বড় ধরনের দ্বন্দ্ব হয়। তখন হেফাজতের আমির ছিলেন জুনায়েদ বাবুনগরী। যিনি ছিলেন ‘কট্টর আওয়ামী বিরোধী’ বলে পরিচিত। ২০২১ সালের ২৬ ও ২৭ মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ঘিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করছিল হেফাজত। সে সময় ঢাকায় হেফাজতের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা ছিলেন বর্তমান জামায়াত জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা মামুনুল হক। মোদির ওই সফরের দিন ২৬ মার্চ রাজধানীতে জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে হেফাজতসহ কয়েকটি ইসলামী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতিবাদ সমাবেশ সংঘর্ষে রূপ নেয়। একই দিনে হাটহাজারীতে বড় সংঘর্ষ হয়। পরের দিন ২৭ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারীসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় হেফাজতে ইসলাম ও কওমিপন্থীদের। হেফাজত দাবি করে, তাদের কর্মীদের ওপর পুলিশ গুলি চালিয়েছে। সরকার ও পুলিশের বক্তব্য ছিল, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ও সরকারি স্থাপনায় হামলা করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর দিন হেফাজতে ইসলাম হরতাল ডেকেছিল।
২০২১ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকার ও হেফাজতের সম্পর্ক আর ভালো হয়নি। হেফাজতের অনেক নেতা গ্রেপ্তার হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হেফাজত ওই সময় কিছুটা সমঝোতার পথ বেছে নেয়। এরপর ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিন বছরের বেশি সময় ‘চুপ’ ছিল কওমিভিত্তিক এই সংগঠনটি। এই তিন বছরে তাদের মূল দাবি ছিল, আটক আলেমদের মুক্তি ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ৬ মাস পর এখন বিএনপি কার্যত হেফাজতে ইসলামের সাথে ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ তৈরির দিকেই এগিয়েছে। রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, কওমি মাদরাসাভিত্তিক এই শক্তিকে সামনে আনলে বিরোধী দলের রাজনীতি অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব। কারণ জামায়াতে ইসলামের শরিক দলগুলোর মধ্যে অন্তত চারটি কওমিপন্থী। এসব দল এক কাতারে না থেকে বিভক্ত থাকলে বিএনপির মতো রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবিলা করা বর্তমান বিরোধীদের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ দফা দাবি, এরপর কী?
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হেফাজতে ইসলাম সামনে নিয়ে আসে ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চলা আন্দোলনে নিহতদের বিচারের দাবি। ২০২৫ সালের ৩ মে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেফাজত বড় সমাবেশ করেছিল। ওই সমাবেশে নারী সংস্কার কমিশনের বিরোধিতা করে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপও তৈরি করতে পেরেছিল। চাপ এতটাই ছিল যে, নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো আর আলোর মুখই দেখেনি।
হেফাজত আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে এবারও সংগঠনটি বেশ কিছু দাবি তুলেছে। তবে ২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি তুলে সারা দেশে আলোচনায় আসা সংগঠনটি এবার বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৯ দফা দাবি পেশ করেছে। হেফাজত বর্তমান সরকারের কাছে যত দাবি-দাওয়া তুলেছে এর মধ্যে ‘কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম’ ঘোষণার কথা রয়েছে। এ ছাড়াও এবার হেযবুত তওহীদ নিষিদ্ধেরও দাবিও আছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তোলা নতুন দাবির মধ্যে রয়েছে কওমি মাদরাসা শিক্ষায় দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতির কার্যকর বাস্তবায়ন করা। পাশাপাশি ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিও তোলা হয়েছে।
হেফাজতে আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাতের পর সংগঠনটির যেসব দাবি সামনে এসেছে, তা নিয়ে আগামীতে কর্মসূচি থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মুহিউদ্দিন রব্বানী চরচা’কে বলেন, ‘‘আসলে উনি (প্রধানমন্ত্রী) হুজুরের (হেফাজত আমির) সাথে দেখা করতে গেছেন সালাম বিনিময় আর দোয়া নেওয়ার জন্য। যখন প্রধানমন্ত্রী গিয়েছেন তখন আমাদের মহাসচিব যে দাবি করেছেন, সেগুলো আমাদের আগের ১৩ দফার মধ্যে পেয়ে যাবেন। তবে হেযবুত তওহীদ নিষিদ্ধের দাবি আগে ছিল না। এখন দাবি হিসেবে এসেছে।”
আগামীর কর্মসূচি নিয়ে মুহিউদ্দিন বলেন, ‘‘একটা দাবি তো পেশ করা হয়েছে। আর আমাদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য কথাবার্তা হচ্ছে। আমাদের নিজস্ব আঙ্গিকে একটু পরামর্শ করতেছি যে, আমরা দাবি নিয়ে আলোচনা করব। এর পরে যদি সরকার দাবি না মানে, তখন আমাদের নেতারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।”