
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল–পর্ব শুরু হচ্ছে। এই প্রথম ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল নিয়ে হচ্ছে বিশ্বকাপের শেষ চার। ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা—সেমির চার দলের মধ্যে কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে…

বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে এমবাপ্পের ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে ইয়ামালের স্পেন। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে জয়ী দল।

গতি আর টাকার চেয়েও বড় এমবাপ্পের মন। ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের বোনাস বাবদ পাওয়া ৪ লাখ ডলারের পুরো টাকাটাই তিনি প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে দান করে দিয়েছিলেন।

ফ্রান্স আর স্পেন আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে। আজ রাতে নরওয়েকে হারিয়ে ইংল্যান্ডও সেমিফাইনালে উঠে যেতেই অদ্ভুত এক রেকর্ডের হাতছানি ছিল বিশ্বকাপের সামনে। অবশ্য রেকর্ডটাকে অদ্ভুত না বলে বলা যায়, রেকর্ডটা যে এতদিন হয়নি, এটাই অদ্ভুত।

এই অদ্ভুত চুপচাপ, নির্বিকার স্বভাবের কারণে ওলিস একটা নাম পেয়েছেন। তা হল - ‘মিস্টার ননশ্যালান্ট’ বা শান্ত, নির্বিকার স্বভাবের একজন মানুষ। তবে ফুটবল পায়ে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ। লন্ডনে জন্ম নেওয়া এই ফরাসি প্লেমেকারকে দূর থেকে যতোটা নির্লিপ্ত মনে হয়, বাস্তবে তিনি এর ঠিক উল্টোটাই।

২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ‘সেই ইতিহাসের সেরা ম্যাচে’ আর্জেন্টিনার সঙ্গে তীব্র লড়াই করে টাইব্রেকারে হারার পর থেকেই ফ্রান্স ক্ষুধার্ত। যেকোনো পরিস্থিতিতে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার খেলোয়াড় এই দলটিতে আছে। সে কারণেই ফ্রান্সকে এতটা অজেয় মনে হচ্ছে। তবে সব মিলিয়ে প্রশ্ন, ফ্রান্সকে এই বিশ্বকাপে হারাবে কে!

ফ্রান্স তো রীতিমতো অজেয়! এবারের বিশ্বকাপে আসলে ফ্রান্সকে হারাবে কে? যদিও ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নদের মূল পরীক্ষা এখনো বাকি, এমবাপ্পে, দেম্বেলেদের ফ্রান্সের ব্যাপারে ‘অজেয়’ শব্দটা ব্যবহার করা কিছুটা আগ বাড়িয়ে বলার মতোই, তবুও এখনো পর্যন্ত যে ফ্রান্সকে আমরা দেখছি, সেই ফ্রান্স প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়েই এ পর্

উসমান দেম্বেলে হঠাৎ এমবাপ্পেকে ডাকছেন ‘মোবুতু’ নামে। এই ‘মোবুতু’ হলেন কঙ্গোর সাবেক এক কুখ্যাত স্বৈরশাসক। ব্যাস! সতীর্থদের এমন খুনসুটি দেখে নেট দুনিয়ায় হইচই—এমবাপ্পে কি আসলেই দলে স্বৈরাচারি শাসন চালাচ্ছেন?

কোয়ার্টার ফাইনালে কাল সহজেই ২-০ গোলে জিতেছে ফ্রান্স। কিন্তু সে পথে এমবাপ্পে হয়ে গেলেন ‘মেসি।’ এতে একটি রেকর্ডে মেসিকে ধরে ফেলার খুব কাছে চলে গেলেন এমবাপ্পে, আরেক দৌড়ে মেসিকে ছাড়িয়েও গেলেন।

স্কোরলাইন বলবে, ম্যাচে ২-০ গোলে জিতে সেমিফাইনালে উঠে গেছে ফ্রান্স। চার বছর আগে কাতারে সেমিফাইনালেও মরক্কোর বিপক্ষে এই ব্যবধানেই জিতেছিল দিদিয়ের দেশঁর দল। কিন্তু ম্যাচের গল্পটা বলবে, ইয়াসিন বুনু বারবার বাধা হয়ে না দাঁড়ালে এই ম্যাচে পাঁচ-ছয় গোলও পেতে পারত ফ্রান্স।

ফ্রান্স ও মরক্কোর প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে আলোচনার কেন্দ্রে আর্জেন্টিনা। এ ম্যাচে আর্জেন্টিনা আছে খুব ভালো ভাবেই। আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এই বিতর্কের কারণ কি?

জার্মানি আর নেদারল্যান্ডস বাদ পড়েছে। মেসির আর্জেন্টিনা, নেইমার আর ভিনিসিয়ুসের ব্রাজিল, এমবাপ্পের ফ্রান্স, রোনালদোর পর্তুগাল, ইয়ামালের স্পেন, কেইনের ইংল্যান্ড টিকে আছে। কেউ দাপট দেখিয়ে, কেউ কোনোরকমে শেষ ষোলোতে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত এই দলগুলোর কেউই জিতবে বিশ্বকাপ?

রাউন্ড অব সিক্সটিনে আজ কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সকে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি থেকে এমবাপ্পের গোলই এই ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। ১-০ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে ফ্রান্স, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।

১৯৯৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে জোড়া গোলে ফ্রান্সকে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতিতে জিনেদিন জিদান চলে আসেন পাদপ্রদীপের চূড়ায়। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স জিদান উপহার দেন ৮ বছর পর। প্রতিপক্ষ সেই ব্রাজিলই!

বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে এখনই ১৮টি গোলের মালিক রিয়াল মাদ্রিদের এই সুপারস্টার। মেসির ১৯ গোল ২৯ ম্যাচে, এমবাপের ১৮ গোল সেখানে ১৮ ম্যাচে। তিনি স্রেফ ফ্রান্সকে নকআউটে টেনে তুলছেন না, তিনি আসলে ছুটছেন ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা হওয়ার দিকে।

বাবা জিনেদিন জিদান ফ্রান্সের কিংবদন্তি। ছেলে লুকা জিদান বেছে নিয়েছেন আলজেরিয়াকে। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আলজেরিয়ার গোলকিপার লুকা কেন মুখে কালো মুখোশ পরে খেললেন? কালো মুখোশের রহস্যটা কী?

বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো দেখল মেসির হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপের রেকর্ডবই দেখল, টুর্নামেন্টটার ইতিহাসে ১৬ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে ক্লোসার পাশে বসে গেছেন মেসি!

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জেতা প্রায় নিশ্চিত? কিলিয়ান এমবাপ্পে তো আছেনই, সঙ্গে উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিস আছেন। প্রতিভায় ঠাসা ফ্রান্স! বেঞ্চও অন্য অনেক দলের একাদশের চেয়েও শক্তিশালী! দিদিয়ের দেশঁর দল ২০১৮ বিশ্বকাপ জিতেছে, গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে হয়েছে রানার্সআপ।

মেসি নাহলে এমবাপ্পের কোনো একজন বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন থেকে জার্মান সাবেক স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৭ গোল) ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা ছিল। মেসির বিশ্বকাপে গোল ১৩টি, আজ দুই গোল নিয়ে এমবাপ্পের হয়ে গেল ১৪টি।

এই গুণ, ওর ওই গুণ মিলিয়ে একজন খেলোয়াড় বানানো। কার হেডিং ভালো, কার সৃষ্টিশীলতা, বাঁ পায়ের জন্য কাকে বেছে নিচ্ছেন, ডান পায়ের জন্য কে, দৌড়ের গতি, শক্তি, স্ট্যামিনা...ক্রাইটেরিয়ার শেষ নেই। প্রতিটি ক্রাইটেরিয়াতে সেরা খেলোয়াড়ের গুণ মিলিয়ে নিলেই ঝটপট তৈরি হয়ে যাবে আলটিমেট প্লেয়ার!